Published : 15 May 2025, 06:20 PM
‘মারধর, হত্যাচেষ্টা’ ও ধর্ষণের মামলার বিচারের মধ্যেই টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেছেন টিকটকার লায়লা আক্তার ফরহাদ।
ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরে আলমের আদালতে বৃহস্পতিবার তিনি মামলার আবেদন করেন।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী জুয়েল মিয়া বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে আদেশের জন্য ১৩ জুলাই দিন ধার্য করেছেন।
মামলার আবেদনে লায়লা বলেন, গত ১০ মে মামুন লায়লার বাসায় প্রবেশ করে ধর্ষণের মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করেন। ‘বিচারাধীন মামলার বিষয়ে কিছু করার নেই’- এ কথা বলে লায়লা তাকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।
লায়লার অভিযোগ, সেসময় প্রিন্স মামুন তার ফেইসবুক থেকে লাইভ ভিডিও প্রচার করতে থাকেন। চারবার লাইভ ভিডিও প্রচার করেন। সেখানে গালিগালাজ, হুমকি, ‘অশ্লীল’ অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন মামুন। বাসায় টিশার্ট পরিহিত লায়লার ভিডিও প্রচার করেন। মিথ্যা, ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে তার সম্মানহানি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রচার করেন। এর ফলে তার ব্যক্তিগত জীবন এখন হুমকির সম্মুখীন।
লাইভ ভিডিওগুলো মামুন ব্যক্তিগত ফেইসবুক পেইজ থেকে খণ্ড খণ্ডভাবে প্রচার করে সামাজিকভাবে সম্মানহানি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামুনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন লায়লা।
ওই মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ফেইসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের কথাও চূড়ান্ত হয়। তখন থেকে মামুন বারিধারা ডিওএইচএসে লায়লার বাসায় থাকতে শুরু করেন। তখন থেকে মামুন বিভিন্ন অজুহাতে লায়লার কাছ থেকে টাকা নিতেন। প্রায়ই মাদক সেবন করে গভীর রাতে বাসায় ফিরতেন। অশ্লীল ভাষায় কথা বলতেন। মাঝেমধ্যে লায়লাকে মারধর করতেন।
২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর উত্তরায় একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফেরেন তারা। সেসময় মামুনসহ আরও দুজন মদ পানের জন্য মিরপুরে যেতে চান। লায়লা তাকে নিষেধ করার পাশাপাশি বাধা দিলে উত্তেজিত হয়ে মামুন তাকে গালি দেন। এরপর গালি দিতে নিষেধ করলে মামুন মারধর করে ‘হত্যার চেষ্টা’চালান বলে মামলায় অভিযোগ করেন লায়লা।
তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ। সে বছরের ৩ জুন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। সেসময় পলাতক থাকায় প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ৪ জুন মামুন আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।
মারধর ও হত্যাচেষ্টার মামলার বিচার চলার মধ্যেই ২০২৪ সালের ৯ জুন মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন লায়লা। পরদিন ১০ জুন কুমিল্লা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ জুন তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর ১ জুলাই জামিনে কারামুক্ত হন তিনি।
এজাহারে লায়লা অভিযোগ করেন, বিয়ের কথা বলে তাকে ধর্ষণ করেন মামুন। একাধিকবার বিয়ের বিষয়ে বললেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন।