Published : 15 Apr 2026, 09:40 PM
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের দেবীদ্বার অংশ দ্রুত প্রশস্ত করার দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদে ‘রাস্তা ভিক্ষা’ চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত।
হাসনাত আব্দুল্লাহ নামে বেশি পরিচিত এই সংসদ সদস্য বুধবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে এ দাবি তোলেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, কুমিল্লা ও সিলেটকে সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কের একটি অংশ এখনো মাত্র ১৮ ফুট প্রশস্ত, ফলে সেটি ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে কোন সড়ক নেই, দুইটা বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করেছে, কিন্তু সেই রাস্তার প্রশস্ত হচ্ছে মাত্র ১৮ ফিট।”
কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, তিনি কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ময়নামতি, দেবীদ্বার, জাফরগঞ্জ, কংশনগর হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং অংশের কথা বলছেন।
এ সড়ক দিয়ে দৈনিক প্রায় ‘১০ লাখ’ মানুষের যাতায়াত হয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং ও দেবীদ্বারের মানুষের পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে সিলেট বা সিলেট থেকে চট্টগ্রামে চলাচলের ক্ষেত্রেও এ পথটি গুরুত্বপূর্ণ।
হাসনাত বলেন, “এই ১৮ ফিট রাস্তা দিয়ে প্রত্যেকদিন এটা মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয়েছে।”
দেবীদ্বার অংশের পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক বলেন, “দেবীদ্বার অংশটা প্রত্যেকদিন মৃত্যুর মিছিল।”
তার দাবি, “কেবল এই মাসে ২৩ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে এই সড়কে দুর্ঘটনায়।”
প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘ ১২ বছরেও সেখানে কোনো কাজ এগোয়নি বলেও অভিযোগ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
মন্ত্রী ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেও সমাধান হয়নি তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটা হচ্ছে এক ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা, আজকে দীর্ঘ ১২ বছর এখানে কোনো ধরনের কাজ হচ্ছে না।”
এ সময় নিজের রাজনৈতিক ও এলাকার চাপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এই সংসদ সদস্য বলেন, “আমি এলাকায় মুখ দেখাইতে পারি না, আমাকে এখন বেঁধে রাখবে।”
এরপর প্রায় আকুতির সুরে তিনি বলেন, “আমি ভিক্ষা চাই এই সংসদের কাছে। এই রাস্তাটা ১০ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচাবে।
“আমি আপনাদের কাছে ভিক্ষা চাই, এই রাস্তাটাকে প্রশস্ত আপনারা ব্যবস্থা...।”
এ সময় ডেপুটি স্পিকার তাকে বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় আনার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, “আপনি এক বিধিতে একটা নোটিস প্রদান করুন, সেটা সবচেয়ে অ্যাপ্রোপ্রিয়েট ওয়ে। তখন মাননীয় মন্ত্রী জবাব দেবেন।”
ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আপনি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী যখন জবাবটা দেবেন, ‘ইট উইল ওয়ার্ক আপন প্রসিডিউর’। আমার মনে হয়, আপনি এক বিধিতে একটা নোটিস দেন আমাদেরকে, প্লিজ।”
এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা আবার শুরু হয়।