Published : 22 Nov 2025, 09:24 AM
তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে; তাকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার সকাল সোয়া ৮টায় ড্রুক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে মুহাম্মদ ইউনূস ও শেরিং তোবগে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন। সেখানে তোবগে শুক্রবারের ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে চান এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

বৈঠকের পর ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার দেয়।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রওনা হন। তিনি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন এবং দর্শনার্থী বইয়ে সই করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তোবগের এই সফরে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বিনিময়সহ তিনটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুপুরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করবেন। এরপর বেলা ৩টায় তেজগাঁয়ের কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শেরিং তোবগের একান্ত বৈঠক হবে। সন্ধ্যায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং তার প্রতিনিধিদলের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, বৈঠকে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, পর্যটন, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, শিল্পসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, “বৈঠক শেষে ভুটানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ, ভুটানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং কৃষি সহযোগিতা বিষয়ক তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়গুলো এখনো আলোচনাধীন।”

রোববার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।
ওইদিন বাংলাদেশ সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারে।
সফরশেষে ২৪ নভেম্বর সকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী থিম্পুর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।