Published : 02 Nov 2025, 09:20 PM
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদের বিরুদ্ধে ‘অর্থ আত্মসাৎ ও মানব পাচারের’ অভিযোগে করা মামলা পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
পুলিশের গোয়েন্দা শাখা-ডিবিকে তদন্তের ভার দিয়ে আগামী ৭ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
রোববার বাদী পক্ষের নারাজি আবেদন গ্রহণ করে এই আদেশ দিয়েছেন মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।
এই মামলায় গেল ১৫ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির ইন্সপেক্টর মো. রাসেল চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন।
এরপর মামলার বাদী আলতাব খান ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করেন।
নারাজি আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো তদন্ত না করে ও আসামিদের কাছ থেকে ‘অবৈধ সুবিধা নিয়ে ‘বানোয়াট ও দায়সারা’ এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।
গত বছরের গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘সিন্ডিকেট করে’ অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলাটি করেন আফিয়া ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আলতাব খান। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় ইমরান আহমদ ছাড়াও সাবেক প্রবাসীকল্যাণ সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, সাবেক সংসদ সদস্য ও এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, আহমেদ ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ও সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ এবং ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল আমীন স্বপনসহ ১০৩ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, “জনশক্তি রপ্তানিতে দুই হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্ট থাকলেও আসামিদের ‘সিন্ডিকেট চক্র’ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ‘বৈষম্য’ তৈরি করে সংবিধানের মূলনীতি পরিপন্থি জঘন্য অপরাধ করেছে।
“আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছেলেকে ‘সিন্ডিকেট চক্রের’ সদস্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আর সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ তার পরিবারের সদস্য অর্থাৎ তার স্ত্রীর বড় ভাইয়ের ছেলেকে ‘বিধিবহির্ভূতভাবে’ প্রবাসী নামক একটি অ্যাপ চালুর অনুমোদন দিয়ে ‘চক্রকে’ সহযোগিতা করেছেন।”
এজাহারে বাদী লেখেন, পরস্পর যোগসাজশে ভয়ভীতি ও বলপ্রয়োগ করে মানবপাচারের উদ্দেশে তার কাছ থেকে জোর করে অতিরিক্ত চাঁদা হিসেবে প্রত্যেকের দেড় লাখ টাকা হারে ৮৪১ জনের ১২ কোটি ৫৬ লাখ এক হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।
তারা সঙ্ঘবদ্ধভাবে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে আত্মসাৎ করেছে, এমন একটি অভিযোগও আনা হয় মামলায়।
গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ইমরান আহমেদকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির ডিবি।
পরের দিন এই মামলায় তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
আগের খবর: