Published : 01 Dec 2025, 02:14 PM
বসুন্ধরা গ্রপের মালিকানাধীন দৈনিক কালের কণ্ঠের সাবেক ১১ সাংবাদিকের পাওনা ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার এ আদেশ দেয় বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ।
সেই সঙ্গে কালের কণ্ঠ’র ডিক্লারেশন কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে রুল জারি করেছে আদালত।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মানজুর আল মতিন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী দেবাশীষ দেব।
আইনজীবী মানজুর আল মতিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালত শুনানি শেষে কালের কণ্ঠের ডিক্লারেশন কেন বাতিল করা হবে না, তা জানাতে রুল জারি করেছে এবং রিটকারী সাংবাদিকদের পাওনা ১৫ দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশনা দিয়েছে।”
গত ১৩ অক্টোবর কালের কণ্ঠ থেকে চাকরিচ্যুত ও চাকরি ছেড়ে দেওয়া ১১ সাংবাদিক এই রিট আবেদন করেন।
আবেদনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর এবং কালের কণ্ঠের প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরীকে বিবাদী করা হয়।
১১ সাংবাদিক চাকরি ছাড়ার পর তাদেরকে দেওয়া কর্তৃপক্ষের ব্যাংক চেকগুলো নগদায়ন না হওয়ায় তারা রিট আবেদন করেন, যেখানে পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বাতিল চাওয়া হয় এবং তাদের পাওনা পরিশোধের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রিট আবেদনকারীরা হলেন—মো. শাহ আলম, মো. জাহেদুল আলম, কাকলী প্রধান, দেওয়ান আতিকুর রহমান, আবু সালেহ মোহাম্মদ শফিক, কে এম লতিফুল হক, আসাদুর রহমান, মো. রোকনুজ্জামান, শামসুন নাহার, মো. লতিফুল বাশার (লিমন বাশার) ও হানযালা হান।
রিটকারীদের একজন হানযালা হান সেদিন বলেছিলেন, প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট, ১৯৭৩ এর ২০ ধারা অনুসারে সরকার যে কোনো পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করতে পারে, যদি কর্তৃপক্ষ ওই পত্রিকা চালানোর প্রয়োজনীয় অর্থ যোগাতে ব্যর্থ হয়।
এ ধারায় বলা হয়েছে, (১) যদি কোনো সময় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি ধারা ১২-এর অধীনে ঘোষণাটি প্রমাণীকরণ করেন, সন্তুষ্ট হন যে এই জাতীয় প্রমাণীকরণের পরে-(ঘ) মালিক বা প্রকাশক সংবাদপত্রের নিয়মিত প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহের উপায় হারিয়েছেন-তবে শর্ত থাকে যে তিনি এই আদেশের কারণ লিখিতভাবে উল্লেখ করার পরে ঘোষণার প্রমাণীকরণ (Declaration of Authentication) বাতিল করতে পারেন।
এর আগে গত ১৭ অগাস্ট ওই ১১ সাংবাদিক চাকরিকালীন আর্থিক সুবিধা না পেয়ে কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিস পাঠান। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রিট মামলা করেন তারা।