ইসির ‘প্রস্তুতি ও সক্ষমতা’ জানল ইইউ প্রতিনিধি দল

নির্বাচন কমিশন ইউরোপীয় প্রতিনিদের জানিয়েছে, ভোট দেখতে তারা যত খুশি ‘নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক’ পাঠাতে পারে, তাতে কমিশনের আপত্তি নেই।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 July 2023, 09:05 AM
Updated : 11 July 2023, 09:05 AM

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাক-নির্বাচনী অনুসন্ধানী দল।

মঙ্গলবার এক বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে নিজেদের সক্ষমতা ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেছে। পাশাপাশি এটাও জানিয়েছে, ভোট দেখতে ইইউ ‘নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক’ পাঠালে তাতে কমিশনের কোনো আপত্তি নেই।

এ বছরের শেষে বা পরবর্তী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ সফর করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ছয় সদস্যের এই ইলেকশন এক্সপ্লোরেটরি মিশন বা অনুসন্ধানী অগ্রগামী দল। 

৮ থেকে ২৩ জুলাই এ সফরে মূল নিবার্চন পর্যবেক্ষণ মিশনের কর্মপরিধি, পরিকল্পনা, বাজেট, লজিস্টিক্স ও নিরাপত্তা– ইত্যাদি বিষয় মূল্যায়ন করবে এই মিশন। এর অংশ হিসেবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। 

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এবং আরও দুই নির্বাচন কমিশনারের উপস্থিতিতে ইসির সঙ্গে বৈঠকে বসেন ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা। ইইউর রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলিও এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন।

প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, “তারা প্রধানত নির্বাচনী প্রস্তুতিটা কী তা জানতে চেয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ফেয়ার নির্বাচন করতে সক্ষম কিনা সে বিষয়গুলো বুঝতে চেয়েছেন। ইসি সে বিষয়গুলো এক্সপ্লেইন করেছে, তারা সেটিসফায়েড।”

কমিশন জানিয়েছে, আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইইউর ‘যত খুশি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক’ পাঠাতে পারে।

ইইউ প্রতিনিধি দলের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন বিশেষজ্ঞ রিকার্ডো শেলেরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন পূর্ব পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দুই সপ্তাহের সফরে তারা এসেছেন। পর্যালোচনা শেষে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ জোসেফ বোরেলকে সার্বি পরিস্থিতি জানাবেন। তারপর তিনি সিদ্ধান্ত দেবেন, ভোট পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে কি না।

এই সফর নিয়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন নেননি রিকার্ডো শেলেরি।

আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, “মিস্টার রিকার্ডো যেটা বলেছেন, ওটাই আমার বক্তব্য।”

নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক যত ইচ্ছে পাঠালে আপত্তি নেই ইসির

এ বৈঠক নিয়ে ইসির অবস্থান সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।

তিনি বলেন, সফররত ইইউ প্রতিনিধিরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ইসির কাছে জানতে চেয়েছেন। বিশেষ করে ভোটার, ভোটকেন্দ্র, পর্যবেক্ষক, সিসি ক্যামেরা নিয়ে তারা বিভিন্ন তথ্য চেয়েছেন।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, “অবজারভার পাঠানোর বিষয়ে কি কি প্রস্তুতি নিতে হয়, ইসি কী করবে তা জানতে চেয়েছেন তারা। কমিশন বলেছে, তারা যত সংখ্যক ইচ্ছে অবজারভার পাঠাতে পারে, এর কোনো লিমিটেশন নেই।

“আবেদনের জন্য টাইম ফ্রেম আছে কিনা, সেটা তারা জানতে চেয়েছে। আমরা বলেছি, সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদনগুলো এলে সুবিধা হয়। কারণ, আরও কিছু ফরমালিটিজ রয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্লিয়ারেন্সের বিষয় রয়েছে।”

কমিশনের এই কর্মকর্তা বলেন, “নিরপেক্ষ অবজারভার পাঠালে যত সংখ্যক ইচ্ছে পাঠাতে পারে। এতে কমিশনের কোনো আপত্তি নেই।”

কারিগরি টিমের সঙ্গে আবার বৈঠক

অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, প্রতিনিধি দলের কারিগরি টিমের সদস্যরা ১৮-১৯ জুলাই আবারও ইসির আইনি বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

“তারা যেসব বিষয়ে জানতে চেয়েছে, তা তুলে ধরেছে কমিশন। এতে সন্তুষ্ট প্রতিনিধি দল। তারা ভোটের তথ্যগুলো জানতে চেয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত তুলে ধরবে ইসির কমিটি।”

এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত সচিব বলেন, “আমাদের এ পর্যন্ত ৯১১টি নির্বাচন হয়েছে। তাতে সন্তোষ রয়েছে তাদের। পরিবেশ নিয়ে এখন পর্যন্ত সেটিসফায়েড হলেও তারা আরো আলোচনা করবে। ২৩ জুলাই পর্যন্ত রয়েছেন। ১৮-২২ জুলাইয়ের মধ্যে তারা আবারও টেকনিক্যাল টিমের সাথে বসবে।”

নির্বাচনকালীন সরকার আলোচনায় আসেনি

বিএনপিসহ কয়েকটি দল নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে। তা না হলে নির্বাচনের বর্জনেরও হুমকি দিয়ে রেখেছে।

এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসির অতিরিক্ত সচিব বলেন, “নির্বাচনকালীন সরকার ইসির বিষয় নয়। এ নিয়ে (বৈঠকে) আলোচনা হয়নি।... রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোটে আনার বিষয়ে আমাদের কাছে কিছু জানতে চায়নি।”

আরেক প্রশ্নে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, “ইসির সক্ষমতা নিয়ে আমাদের কাছে সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট কিছুই প্রকাশ করেনি (ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা)। নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে কিনা, তা নিয়েও জানতে চায়নি।

“তারা প্রধান নির্বাচনী প্রস্তুতিটা কী তা জানতে চেয়েছে। আমাদের মেইনলি রোডম্যাপ, আমরা তা নিয়ে কাজ করছি। ট্র্যাকেই আছে। অবজারভার পাঠানোর বিষয় আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ফেয়ারলি নির্বাচন করতে সক্ষম কিনা সে সব বিষয়গুলো জানতে চেয়েছে।”