Published : 10 Jun 2026, 07:13 PM
কুষ্টিয়ার লালন শাহের আখড়াবাড়ি (মাজার) এলাকাকে ‘মাদক দ্রব্যমুক্ত’ ঘোষণা করার সরকারের কোনো উদ্যোগ আছে কি না, তা জাতীয় সংসদে জানতে চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজা।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য বুধবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এক সম্পূরক প্রশ্নে বিষয়টি উত্থাপন করেন।
সংসদের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
আমির হামজা বলেন, ‘সাংস্কৃতিক রাজধানী’ হিসেবে কুষ্টিয়া দেশ-বিদেশে বেশ পরিচিত। মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে তুলে ধরে তিনি কুষ্টিয়ার লালন শাহের আখড়াবাড়ির প্রসঙ্গ তোলেন।
তিনি বলেন, “কুষ্টিয়ার লালন শাহের মাজার এটা কি মাদকদ্রব্যমুক্ত এলাকা করার জন্য কোনো উদ্যোগ আছে কিনা?

“কারণ এখানে তো প্রশাসনের পাহারায় তার জন্ম অনুষ্ঠান এবং মৃত্যু অনুষ্ঠানে যে তিন তিন, ছয় দিন এখানে যে সমস্ত অনৈতিক এবং এই সংস্কৃতির নামে যে কাজগুলো হয় এগুলো বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ মন্ত্রী মহোদয়ের আছে কিনা আমার জানার প্রশ্ন।”
জবাবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, শুধু কুষ্টিয়ার লালন শাহের মাজার এলাকা নয়, সারা দেশকে মাদকমুক্ত করার ব্যাপক পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিতাই রায় বলেন, “মাদকমুক্ত তখনই হবে, যখন সমাজে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেতে থাকবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি হচ্ছে আমাদের গ্রামাঞ্চল।”
মন্ত্রী তার বক্তব্যে গত ১৮ বছরে দেশে মাদকের বিস্তার ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “এই মাদক ব্যবসা, অপসংস্কৃতি, জীবনবিমুখ ও সংগ্রামবিমুখ সংস্কৃতি আমাদের গোটা জাতির চেতনাকে ধ্বংস করে ফেলেছিল। যুব সমাজকে ধ্বংসের পরিকল্পনা ছিল একদিকে। অন্যদিকে পরীক্ষার খাতায় লিখুক আর না লিখুক, ৯৮ শতাংশ পাস করতে হবে, এই ছিল ব্যবস্থা।”
সরকার ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা নবজাগরণের আলো ছড়িয়ে দিতে চাই। এবং এভাবে শুধু কুষ্টিয়া নয়, সারা বাংলাদেশে তরুণ সমাজকে এই অন্ধকার যুগ থেকে ফিরিয়ে এনে আমরা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতির মাধ্যমে, শুধুমাত্র অর্থনীতিই পারে সমস্ত পরিবর্তন করে দিতে। তার সাথে সাথে এই যে উপরি কাঠামোগত যে সংস্কৃতি, ধ্যান ধারণা, মূল্যবোধ, রাজনীতি, আইন কাঠামো এগুলো যুক্ত করে আমরা একটি নতুন জাগরণ আনতে চাই আমাদের দেশে।”
চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, ঐতিহ্যবাহী ‘গম্ভীরা’ পরিবেশনাকে ভবিষ্যতে ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ‘গম্ভীরা’ ইতোমধ্যে জাতীয় বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ‘ইনভেন্টরিতে’ তালিকাভুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সরকার বছরব্যাপী কর্মসূচি নিতে যাচ্ছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মাধবী মারমার প্রশ্নের জবাবে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজারসহ প্রায় ১৬টি স্থানে ইনস্টিটিউট রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য, গান, নৃত্য, খাদ্যাভ্যাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবনের জন্য মিরপুরে ৭৫ শতক জমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ঢাকা জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবনটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রস্তাবিত ১২টি জেলা শিল্পকলা একাডেমি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। প্রকল্পের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের কার্যক্রম চলছে।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়েও শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে উপজেলা পরিষদের বিদ্যমান ভবনের এক বা দুটি কক্ষ ব্যবহার করে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানান তিনি।