Published : 09 Jul 2025, 08:51 PM
সব প্রস্তুতি শেষ আর সংস্কারের কাজ হয়ে গেলে রোজার আগে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে বলে আবারও সরকারের বার্তা তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বুধবার রাতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু অগ্রগতির বিষয় জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।
সরকার ঘোষিত আগের দুই সম্ভাব্য সময়সীমার কথা তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, ”প্রধান উপদেষ্টা একটু আগে গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক করেছেন। সেখানে স্বরাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ আইনশৃঙ্খলার রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরা ছিলেন।“
দুই ঘণ্টার এ বৈঠকে নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজকে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
''প্রথম নির্দেশনা ছিল যে, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক যত প্রস্তুতি, নির্বাচনকে ঘিরে সব প্রস্তুতি উনি নিতে বলেছেন ডিসেম্বরের মধ্যে। এই ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করতে বলেছেন, বাই ডিসেম্বর।''
তিনি বলেন, ''এই প্রস্তুতিগুলোর মধ্যে অনেকগুলো বিষয় আছে। যেমন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ১৭ হাজার নতুন মেম্বার অব সিকিউরিটি ফোর্সেস—পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড নেওয়া হচ্ছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণ খুব গুরুত্বপূর্ণ, যাতে এই সময়ের মধ্যে শেষ হয়, সে বিষয়ে উনি নির্দেশ দিয়েছেন।''
প্রধান উপদেষ্টা এখন থেকেই নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে কোনো ‘পাঁয়তারা’ না হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে সামনের কয়েক মাসে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও তুলে ধরেন প্রেস সচিব।

বিএনপিসহ আরও কয়েকটি দলের ভোটের পথনকশা প্রকাশের দাবির মুখে কোরবানির ঈদের আগে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এপ্রিলের প্রথমার্থে নির্বাচন করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তখনও বিএনপির তরফে এ সময়সীমা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়।
পরে লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণায় ভোটের সময় এগিয়ে এনে বলা হয়, প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে এবং সংস্কার হয়ে গেলে রোজার আগেই নির্বাচন হতে পারে।
তবে এ বৈঠক ও যৌথ ঘোষণা নিয়ে সরকারের সমালোচনায় নামে সরকার পতন আন্দোলনে সামনের সারির নেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা সংস্কার ও অভ্যুত্থানের সময়কার হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন না দেওয়ার দাবি তুলেছে।
জরুরি এ সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের তথ্য তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে জানানো হয়েছে ৮ লাখের মত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটের দায়িত্ব থাকবেন। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন আয়োজনে এসব সদস্যদের প্রশিক্ষণ ডিসেম্বরের মধ্যে নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
বিস্তারিত আসছে…