Published : 24 May 2026, 02:41 PM
স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলে শিশুদের জন্য নির্ধারিত পুষ্টিকর খাবারের মান ও সরবরাহে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়মের সঙ্গে আপস করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা পিটিআইতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রোববার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "অ্যানুয়াল ন্যাশনাল বাজেটে এক শতাংশ খরচ করছি, বাচ্চারা সঠিকভাবে খাবার পাচ্ছে না-এই কথাটা যদি জনগণের কাছে যায় তাহলে জনগণ ক্ষিপ্ত হবে? না খুশি হবে? হাততালি দেবে?"
১৫১টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসাবে বছরে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় এ উপজেলাগুলোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
কেবল পাইলট কর্মসূচিই টাকার অংকে বার্ষিক বাজেটের এক শতাংশ বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তবে এ প্রকল্পের আওতায় শিশু শিক্ষার্থীদের খাবারের মান নিয়ে অনুষ্ঠানে উষ্মা প্রকাশ করেন ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, "এটাও পরিষ্কারভাবে আপনারা মনে রাখবেন যে মিডিয়া রিপোর্ট দেখে আপনাদের ডাকাও হয় নাই, মিডিয়া রিপোর্ট দেখে আপনাদের ধরাও হয় নাই। সবকিছু কিন্তু আমাদের ইনভেস্টিগেশনে যা বেরিয়ে আসছে।"
খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে সাপ্লাই চেইন ম্যাপিং, ফুড টেকনিশিয়ান নিয়োগ, স্থানীয়ভাবে খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রতিদিন নির্ধারিত দিনে বিদ্যালয়ে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেন প্রতিনমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, "গত তিন চার মাসের লার্নিং থেকে আমরা শিখেছি যে এগুলো ছাড়া আমরা সঠিক জায়গায় যেতে পারছি না। এগুলো করতে হবে। এগুলো করেই আমরা সামনে সুন্দরভাবে স্কুল ফিডিংটা করতে পারব।"

শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত এ কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
যারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, তারা ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমে থাকতে পারবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, "আপনাদেরকে আজকে ডেকে আনার মেইন পয়েন্ট হল আগামী দিনগুলোতে যেন জিনিসগুলো ভালোভাবে হয় এবং যারা ভালোভাবে করতে পারবেন না, তারা করবেন না।
"ব্যবসা এভাবেই হয় ভাই, ব্যবসা প্রটেকশনিজম দিয়ে হয় না। ক্যাপিটালিজম মানেই তো এইটা যে আপনি প্রপার ডিমান্ড ফুলফিল করতে পারবেন, আপনার ব্যবসা সফল। আপনি ডিমান্ড ফুলফিল করতে পারবেন না। সরকার জোর করে আপনাকে জীবিত রাখবে না। এখানেও সেইম জিনিসটাই হবে।"
সরকারি নির্দেশনা ও শর্তপূরণ না করে খাবার সরবরাহ করা হলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয় হবে বলে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, "আজকে এই মিটিং এরপর একটা সাইনআপ শিট আছে। এই সাইনআপ শিটে সকলে সাইন করে দিয়ে আপনারা বের হবেন। এই সাইনআপ শিটে বেসিক একটা জিনিসই লেখা আছে। সুন্দরভাবে লিগ্যাল ভাষায় লেখা আছে যে আমি এই মিটিং উপস্থিত ছিলাম। নতুন যে নির্দেশনাবলী দেওয়া হয়েছে আমি এখানে বুঝিয়া পাইয়াছি। এই নির্দেশনাগুলো বুঝিয়ে পাইয়াছি আর কিছু না ভাই।
"তাহলে পড়ে নেবেন আরেকবার। লিগ্যালল ভাষায় লেখা যে উপস্থিত ছিলাম নির্দেশনাগুলা বুঝিয়া পাইয়াছি। মানে বুঝিয়া এখান থেকে বের হয়েছি। এরপরে যদি আপনারা ফলো না করেন তাহলে আপনারা লিগ্যালি লায়াবল। এটা এমনি আপনার লিগ্যালি লায়াবল, তবুও এডিশনাল একটা সিগনেচার আপনাদের কাছ থেকে রেখে দেওয়া। আগামী সাত দিনের ভিতরে আপনাদের ফুল সাপ্লাই চেইন ম্যাপিং হতে হবে। এটা হইতে হবে।"
সভায় উপস্থিত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা আরও জোরদারের আশ্বাস দেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, "এটি একটি পাইলট কর্মসূচি। এখন যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত হচ্ছে, সেগুলো সমাধান করেই আগামীতে সারা দেশে আরও কার্যকরভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।"
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রকল্প পরিচালক, উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন