Published : 16 Nov 2025, 12:44 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে আয়োজন করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও পরামর্শ চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
রোববার নির্বাচন কমিশনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে দ্বিতীয় দিনের মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্যে এই আহ্বান রেখেছেন তিনি। এছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়টি নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা সুষ্ঠুভাবে পরিপালনের উপরেই নির্ভর করে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।
এজন্য রাজনৈতিক নেতাদের মনোযোগ দিয়ে আচরণ বিধিমালাটি পড়ে দেখার এবং দলের কর্মীদের কাছে সেটি তুলে ধরার তাগিদ দিয়েছেন সিইসি।
সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, “নির্বাচন কমিশন একা এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে পারে না। বিশেষ করে জাতীয় নেতৃবৃন্দ, যাদের সরাসরি ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা আছে, তাদের সহযোগিতা অপরিহার্য।
“শিগগিরই নির্বাচনের মুখোমুখি হব। সামনের নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ করতে সবার সহযোগিতা দরকার। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে চায় কমিশন।”
নির্বাচন আচরণ বিধিমালার গুরুত্ব তুলে ধরে নাসির উদ্দিন বলেন, “আচরণ বিধিমালা তৈরির পর তা দীর্ঘদিন ওয়েবসাইটে রাখা হয়েছিল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর লিখিত মতামত নিয়ে এতে সমন্বয় করা হয়েছে। নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা সুষ্ঠুভাবে পরিপালনের উপরেই একটি সুন্দর নির্বাচন অনেকাংশে নির্ভর করে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মনোযোগ দিয়ে আচরণ বিধিমালাটি পড়তে এবং তাদের দলের কর্মীদের কাছে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।”

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কমিশনকে অনেকগুলো বড় ও চ্যালেঞ্জিং কাজে হাত দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিইসি।
ইসির সংলাপে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ
তার কথায় কাজের চাপের কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
কমিশনের কয়েকটি প্রধান কাজ ও সাফল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ছিল একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রায় ৭৭ হাজার লোক এই কাজে মাঠে কাজ করেছে। এছাড়া প্রায় ২১ লাখ মৃত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ৪০ লাখেরও এমন ভোটার, যারা ভোটের যোগ্য কিন্তু তালিকায় নাম ছিল না, তাদের শনাক্ত করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “ডায়াসপোরাদের ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত জটিল ও নতুন একটি উদ্যোগ। নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত প্রায় ১০ লাখ লোক (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসার) যাতে নিজেরা ভোট দিতে পারেন, সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংসদ নির্বাচন: 'অনিশ্চয়তা' কাটাতে তফসিলে চোখ দলগুলোর, শুরু হচ্ছে সংলাপ
ভোটের দিনে গণভোট: 'আলোচনা করে' মত জানাবে ইসি
“দেশের বাইরে পোস্টেড সরকারি চাকরিজীবীদের ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কারাগারে থাকা নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
সংলাপের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ১২টি দলের সঙ্গে দুই পর্বে মতবিনিময় সেরেছে ইসি।
এদিনও দুই পর্বে সংলাপ হচ্ছে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে। সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত গণফোরাম, গণফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সংলাপ রয়েছে।
ইসির সঙ্গে সংলাপ: নির্বাচনি কর্মকর্তা বাছাইয়ে সতর্ক থাকার সুপারিশ
রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা বিলম্বে শুরু হওয়া প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “আমরা এত কাজের চাপের মধ্যে পড়ে গেছি... যার জন্য আমরা রাউন্ড ক্লক উই আর বিজি। নির্বাচনি সংস্কার কমিশন (ইলেক্টোরাল রিফর্মস কমিশন) তাদের পক্ষ থেকে কাজটি অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। সংস্কার কমিশন রিপোর্ট দেওয়ার আগে বিভিন্ন পক্ষের সাথে, ইনক্লুডিং দ্যা পলিটিক্যাল লিডারস, ৮০টির বেশি সংলাপ করেছে। ঐক্যমত কমিশনেও আপনাদের সাথে আলাপ আলোচনা হয়েছে।”
সেই সাথে সরকারের পক্ষ থেকেও সংস্কার কমিশনের কিছু বিষয় স্ব-উদ্যোগে বাস্তবায়নের ঘোষণা ছিল বলে জানিয়েছেন সিইসি।
আরও ১২ দলের সঙ্গে রোববার বসছে ইসি
সংসদ ও গণভোট একসঙ্গে সামলাবে কীভাবে ইসি?
এদিন আরও আরো ৬টি দলের সঙ্গে ইসির আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ইসি বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, তৃণমূল বিএনপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে মতবিনিময় করবে।