Published : 13 Nov 2025, 12:51 AM
সব ধরনের আইনি সংস্কার ও ভোটের প্রস্তুতি শেষে প্রথমবারের মত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসছে এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে ডিসেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে ইসি। রাজনৈতিক দলগুলোও এখন সেদিকে তাকিয়ে আছে।
নির্বাচন প্রস্তুতির মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে অংশীজনদের সঙ্গে ইসির মত বিনিময় শুরু হয়। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গণভোট, জোট করলেও ভোটের প্রতীক, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটিং পদ্ধতি, আইন-বিধি সংস্কার ও প্রতিপালন, সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিসহ নানা বিষয় উঠে আসে আলোচনায়।
১৮ নভেম্বর পোস্টাল ভোট বিডি নিবন্ধন অ্যাপের উদ্বোধনের কথা রয়েছে। প্রবাসীদের পাশাপাশি ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং কারাবন্দিরাও নিবন্ধন করে আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। স
ভোটার তালিকা, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা, পর্যবেক্ষক সংস্থা ও দল নিবন্ধনসহ আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতি সেরে শেষ ধাপে শুরু হচ্ছে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ।
বর্তমানে বিএনপি, জামায়াতসহ ৫৩টি দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। এবার এনসিপিসহ নতুন তিনটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে নির্বাচন কমিশন।
এ ৫৬টির বাইরে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে ও পুরনো তিনটি দলের নিবন্ধন বাতিল রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংলাপের প্রথম দিন সকাল ও বিকালে দুই পর্বে ১২টি দলকে ডেকেছে ইসি। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে আমন্ত্রিত দলগুলোর সর্বোচ্চ ৩ জন করে প্রতিনিধি এই আলোচনায় যোগ দেবেন।
>> বৃহস্পতিবার সকাল ১০ থেকে ১২টা: লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।
>> দুপুর ২টা থেকে ৪টা: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম।
সিপিবি সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন জানিয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে প্রার্থীর জামানত ও নির্বাচনী ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে তফসিল ঘোষণার তারিখ প্রকাশের দাবি জানানো হবে, যাতে ভোট নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’ কাটে।
তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট হবে আর ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল দেবে। আমরা সংলাপে গিয়ে বলব- কোন তারিখে তফসিল হবে সেটা যেন জানিয়ে দেওয়া হয়। ভোটের তারিখ তফসিল ঘোষণায় থাকবে-এটা ঠিক। কিন্ত ইসি তফসিল ঘোষণা কয় তারিখ করবে তা জানালে আর কোনো সংশয় থাকবে না।”
সিপিবির পক্ষ থেকে সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দনের নেতৃত্বে তিনজনের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার ও পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি, গণভোট ও বিরাজমান পরিস্থিতিতে ইসির কাজের অগ্রগতি জানার পাশাপাশি নি কিছু সুপারিশও দেবে দলটি।
এদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে হবে না একসঙ্গে হবে, তার মীমাংসা এখনো হয়নি। সংসদ নির্বাচনের এ সময়ে গণভোট ‘অপ্রয়োজনীয়’ মনে করে সিপিবি।
দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “তারপরও গণভোট যদি করতেই হয়, সংসদ নির্বাচনের দিনই করা যেতে পারে বলে আমাদের প্রস্তাব থাকবে।”
জোট করলেও ভোট করতে হবে নিজ দলের প্রতীকে-এমন বিধান রেখে আরপিও সংশোধন হওয়ার পরও পক্ষে-বিপক্ষে দলের মতামত উঠে আসতে পারে ইসির সংলাপে।
বৃহস্পতিবার সকালের পর্বে সংলাপে ডাক পাওয়া বাংলাদেশ মুসলীম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের বলেন, “আমরা বিভিন্ন সময় নানা দাবি জানিয়ে এসেছি, আরপিও সংশোধনও হয়েছে। এখন নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে আমরা দলের মতামত তুলে ধরব এবং লিখিত প্রস্তাবও জমা দেব।“
বৃহস্পতিবার বিকালের পর্বে আলোচনায় অংশ নেবে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “জোট করলেও ভোট নিজ দলের প্রতীকে বাধ্যবাধকতা না রেখে অন্তত এবারের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় ইসি এবার এ বিধানটি সংশোধন করেছে বলে মনে নয়। দলগুলোকে সময় দিতে হবে এবার; পরবর্তী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বলা যায়-জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করেন।”
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আরপিও এবং আচরণবিধি পর্যালোচনা করার জন্যও প্রস্তাব রাখবে বলে জানান সাইফুল হক।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য ব্যাকুল; কিন্তু ইসি এখনও জনআস্থা অর্জন করতে পারেনি। তফসিল ঘোষণার পর কয়েকটি মন্ত্রণালয় ইসির অনুকূলে রাখার প্রস্তাব দেব।
“পাশাপাশি গণভোটের প্রস্তুতি জানতে চাইব ইসির কাছে। আমরা মনে করি, এখন গণভোট সম্ভব না। সংসদের একই দিনে গণভোট করা যেতে পারে।”
সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় দলগুলো অংশ নিলেও আইন-বিধি সংস্কারের বিষয়ে ইসি আলাদাভাবে তাদের সঙ্গে বসেনি; এরমধ্যে চূড়ান্ত সংস্কারও শেষ হয়েছে। এ নিয়ে কয়েকটি দল নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেছে।
এবার ইসির আমন্ত্রণ পেয়ে দলগুলো সেখানে সার্বিক বিষয় তুলে ধরবে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রস্তুতির অগ্রগতি জানিয়ে সবার সহযোগিতা চাইবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ৪ নভেম্বর সিইসির কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব তুলে দিয়ে বলেন, “আরপিও চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। ইতোমধ্যে সংশোধিত আরপিও জারি হয়েছে। এটাতে আমরা অসন্তোষ, ক্ষোভ ও আপত্তি জানিয়েছি।”
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ মঙ্গলবার বলেন, “গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), আচরণবিধিসহ সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে দলগুলোর সঙ্গে এ সংলাপ করা হচ্ছে । অংশীজনের মধ্যে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, নারী নেত্রী, গণমাধ্যমসহ নানা শ্রেণিপেশার সঙ্গে সংলাপ করা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় দলগুলোর সুচিন্তিত মতামত নেবে নির্বাচন কমিশন।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার নির্বাচন কমিশনার এ সংলাপে উপস্থিত থাকবেন।
ইসি সচিব বলেন, “এ মাসের মধ্যে দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের কাজ শেষ করতে চাই, যাতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো যায়।”
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিতে আনা পরিবর্তন এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য তাদের সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা করাই এ সংলাপের ‘মূল উদ্দেশ্য’ বলে জানান তিনি।
ইসি সচিব বলেন, পর্যায়ক্রমে কোন কোন দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে, সে বিষয়ে গণমাধ্যমকেও জানানো হবে।
এদিকে গণঅধিকার পরিষদ জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকদের সংলাপে না ডাকার দাবি জানিয়েছে।
পুরনো খবর
জাপা ও ১৪ দলের শরিকদের সংলাপে না ডাকার দাবি গণঅধিকার পরিষদের