Published : 03 May 2026, 11:05 PM
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে যে সংকট তৈরি হয়েছিল তাকে ‘কৃত্রিম’ হিসেবে তুলে ধরে বিদুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘মনস্তাত্ত্বিক’ চাপের ফলে সেই সংকট আরো প্রকট হয়েছে।
জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের তরফে এ ব্যাখ্যা আসার পর এই পরিস্থিতিতে আমদানি নিরবচ্ছিন্ন রাখার সুপারিশ করেছে কমিটি।
রোববার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির এই বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্য এ তথ্য দিয়েছে।
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিম এশিয়ার যেসব দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে, সেসব দেশে হামলা চালায় ইরান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিলে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, এর প্রভাবে পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
বিশেষ কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশে পর্যাপ্ত মজুদ সক্ষমতা না থাকায় আমদানি ব্যাহত হলেই সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। দেশে কয়েক মাসের চাহিদা সামাল দেওয়ার মতো জ্বালানি মজুদ রাখার সক্ষমতা নেই। এতদিন আমদানি নিয়মিত থাকায় বড় সংকট দেখা যায়নি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে জ্বালানিবাহী জাহাজ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় সরবরাহ চাপে পড়ে, মজুদে ঘাটতি তৈরি হয়।
এই অবস্থায় বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে চাহিদা বেড়ে যায়, আর সেই মনস্তাত্ত্বিক চাপেই সংকট আরও প্রকট হয় বলে বিশেষ কমিটিকে বলেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
এর ফলে চাহিদামতো সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও মন্ত্রণালয় তরফে বলা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশে জ্বালানির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। চলমান পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন কমিটির সদস্যরা এবং তাদের মতামত তুলে ধরেন।
বৈঠকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সুপারিশ না দিয়ে আরও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কমিটির সদস্য মো. আব্দুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, “প্রাথমিক কিছু কথাবার্তা হয়েছে। আমরা কিছু পরামর্শ দিয়েছি। আমরা কিছু প্রশ্ন করেছিলাম, তার ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বৈঠকে দেশের জ্বালানির পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করেছি। বর্তমানে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলে আমাদের জানানো হয়েছে। এ ছাড়া আগামীর জন্য কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মঈনুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম, মো. আব্দুল বাতেন, মো. আবুল হাসনাত ও মোহাম্মদ আবুল হাসান।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাবে দেশে তৈরি হওয়া জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গেল ২৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
সেদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যে তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে বৈশ্বিক সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।
“এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলের নেতার প্রস্তাব অনুযায়ী সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ১০ সদস্যের কমন কমিটি গঠনে ঐকমত্য হয়েছে।”
চিফ হুইপ বলেছেন, এই কমিটির মেয়াদ হবে ৩০ দিন। কমিটি জ্বালানি নিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে সংসদে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেবে।