Published : 17 Oct 2025, 03:47 PM
বৈরি আবহওয়ার কারণে রাষ্ট্র সংস্কারের সুপারিশ ও অঙ্গীকারনামা সম্বলিত দলিল ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান কিছুক্ষণ দেরিতে শুরু হতে পারে।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে ৩০টিরও অধিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছেন বিকাল সাড়ে ৪টায়।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, “ঐতিহাসিক জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য আমরা প্রস্তুত। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠানটি কয়েক মিনিট দেরিতে শুরু হতে পারে।

“তবে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে এবং কিছু অতিথি ইতিমধ্যে ভেন্যুতে এসে পৌঁছেছেন। আমাদের ইতিহাসের নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।"
বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠান শুরুর সূচি ঠিক করা হলেও দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে বৃষ্টি শুরু হয়।
এর আগে অনুষ্ঠানের আয়োজন শেষ করে আনে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন। কমিশনের সদস্য প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি মনির হায়দার বলেন, “অনুষ্ঠানের সব আয়োজন শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষায় অনুষ্ঠান শুরুর।”
অনুষ্ঠান ঘিরে সংসদ ভবন ঘিরে চারপাশে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির আগ দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিরা একে একে আসতে শুরু করেন।

সংসদের দক্ষিণ প্লাজার সিঁড়ির মাঝামাঝিতে তৈরি হয়েছে স্বাক্ষর মঞ্চ। রাজনৈতিক দলের একজন করে নেতা মূল মঞ্চে বসবেন। তাদের জন্য নির্ধারিত চেয়ার রাখা রয়েছে। ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সনদে সই করার কথা রয়েছে।
অতিথিদের জন্য দক্ষিণ প্লাজার নিচে প্রায় তিন হাজার অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে আয়োজন সংশ্লিষ্টরা। সেখানে বেছানো হয়েছে লাল কার্পেট।
এদিকে মানিক মিয়া সড়কের দুই পাশ বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। ধানমন্ডি ও আসাদ গেইট মুখী যানবাহনগুলোকে খামারবাী থেকে বিজয় সরণির দিকে বাইপাস করা হচ্ছে।
পুলিশকে সহায়তার জন্য সামনের সারিতে রাখা হয়েছে ডিএমপি ট্রাফিকের সহায়ক দল।
এদিকে সকালে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, আইনি সুরক্ষা, পুনর্বাসনের দাবিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন জুলাই যোদ্ধারা। ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ মঞ্চে এসে তাদের দাবি পূরণে জুলাই সনদে সংশোধনী আনার ঘোষণা দেন।

ওই প্রতিশ্রুতির পরও ‘জুলাই যোদ্ধারা’ সেখান থেকে না সরলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ও লাঠিপেটা করে সেখান থেকে তাদের সরায়। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডও ব্যবহার করে পুলিশ।
এ সময় ‘জুলাই যোদ্ধারা’ সংসদ ভবনের বাইরে কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। সড়কে টায়ার ও কাঠ এবং অনুষ্ঠানের জন্য বাইরে বানানো ছোট ছোট তাঁবু একসঙ্গে করে তারা আগুন ধরিয়ে দেন।
পুলিশের লাঠিপেটায় আহত কয়েকজনকে এ সময় হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়ায় বিক্ষোভকারীরা খামারবাড়ি মোড় ও আসাদ গেটের দিকে অবস্থান নেন।
এরপর ক্ষোভ বিক্ষোভের মুখে জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামার পঞ্চম দফা সংশোধন করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
বিক্ষুব্ধ জুলাই যোদ্ধারা খামার বাড়ীতে অবস্থান করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। বৃষ্টি শুরু হলে তারাও ছত্রভঙ্গ হয়ে সেখান থেকে যান।
বিকাল ৪টার দিকে জুলাই যোদ্ধারা সরে গেলে মানিক মিয়া এভিনিউ পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।