২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

বিচারকদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পিএস করা নিয়ে হাই কোর্টের রুল

আদালত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়নি।

বিচারকদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পিএস করা নিয়ে হাই কোর্টের রুল

ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Oct 2026, 07:33 PM

Updated : 29 Oct 2026, 07:33 PM

সরকারের তিন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত (পিএস) ও সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে বিচার বিভাগীয় তিন কর্মকর্তাকে (বিচারক) দায়িত্ব দেওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।

এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি তৌফিক ইনাম ও বিচারপতি মাহমুদ হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়।

আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে রুল জারি করলেও কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়নি।

ফলে পিএস ও এপিএস হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা তিন কর্মকর্তা আপাতত নিজ নিজ পদে বহাল থাকতে পারছেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের এ বিষয়ক তিন প্রজ্ঞাপন কেন আইনগতভাবে কর্তৃত্ববহির্ভূত ও কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

একই সঙ্গে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সাংবিধানিক রূপরেখা, ২০২৫ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা এবং বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের মাসদার হোসেন মামলাসহ সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন মামলার রায় না মেনে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নির্বাহী বিভাগে বদলি ও পদায়ন থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে সেটিও জানতে চেয়েছেন হাই কোর্ট।

আইন, জনপ্রশাসন, সমাজকল্যাণ, স্বরাষ্ট্র, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং বদলি করা তিন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) কামরুল হাসানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।

এরপর ৯ মার্চ আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জি এম ফারহান ইসতিয়াককে (যুগ্ম জেলা জজ) প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ) হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এই তিন বিচারককে বদলি করা হয়েছে বলে আইন ও বিচার বিভাগের প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়।

পরে ২১ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন।

এদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আদেশের পর চঞ্চল কুমার বিশ্বাস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ নিয়ে ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায় এবং অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির ৪ নম্বর বিধি অনুসারে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কেবল ‘সংরক্ষিত পদে’ নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ আছে। বিভিন্ন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব ও সহকারী একান্ত সচিব পদ সংরক্ষিত পদের মধ্যে পড়ে না। এসব পদে থেকে বিচারিক ক্ষমতা অনুশীলন বা চর্চার সুযোগ নেই। ফলে এ ধরনের নিয়োগ বেআইনি এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ।”

তবে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, “সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিচারিক ও প্রশাসনিক পদে নিয়োগের সুযোগ আছে। বিধিমালায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক কাজে বদলি বা পদায়নের বিধান রয়েছে বলে আদালতে যুক্তি দিয়েছি।”