Published : 01 May 2026, 04:34 PM
দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানী ঢাকার কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য থাকায় সমুদ্রবন্দরগুলোতে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত বহাল রাখতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই ঢাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃষ্টিও বাড়তে থাকে। সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে কয়েক দফার বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ঢাকায়। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় আরও ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
ঢাকার মগবাজারের ওয়ারলেস এলাকার বাসিন্দা রাসেল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মুষলধারে বৃষ্টিতে এলাকার গলিতে পানি উঠে গেছে। বেলা বাড়ার পর সিটি করপোরেশনের লোকজন এখানে এসেছে।”
তেজগাঁওয়ের বাসিন্দা ওমর ফারুক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বৃষ্টির কারণে তেজগাঁও এলাকার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে গেছে। কিছু-কিছু সড়কের পানি পরে নেমে গেলেও কয়েকটি স্থানে এখনো পানি জমে আছে।”

মহাখালী দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা আলী হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “রাতে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। সকালে উঠে দেখি সড়কে পানি। পরে ১১টার দিকে ধীরে-ধীরে পানি নেমেছে।
“মানুষই মূলত ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে সেগুলো জমে ম্যানহোল, ড্রেন বন্ধ হয়ে যায়। পরে বৃষ্টি এলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।”
চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত বহাল
শুক্রবার সমুদ্রবন্দর সম্পর্কিত বিশেষ সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য অব্যাহত রয়েছে।
তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
সব বিভাগে কম-বেশি বৃষ্টির আভাস
ঢাকাসহ সব বিভাগে কম-বেশি বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শুক্রবার সকাল ৯টার নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।
এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ বিকালে কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “৫ তারিখ (মে) পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকবে, তারপর কমে যাবে। ২-৩ তারিখ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা একটু কম, আবার ৪-৫ তারিখ বাড়বে। আর ৫ তারিখের পরে সারা দেশেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসবে।”
শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে; ৩১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আর, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়; ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঢাকায় সর্বোচ্চ ছাড়াও খুলনার কয়রায় ৩৪ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ২৯, খুলনায় ২৭, যশোরে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।