থানা হোক আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক: আইজিপি

একটি ‘সুন্দর নির্বাচন’ উপহার দেওয়ার জন্য ডিএমপির আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Feb 2024, 08:56 AM
Updated : 1 Feb 2024, 08:56 AM

থানাকে মানুষের ‘নির্ভরতার প্রতীক’ হিসেবে দেখার প্রত্যাশা জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশকে এক্ষেত্রে এগিয়ে এসে দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন এ বাহিনীর মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

তিনি বলেছেন, "সেবাপ্রত্যাশীদের প্রতি মানবিক আচরণ করব আমরা। থানাকে জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে দেখতে চাই। এক্ষেত্রে ডিএমপিকে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৪৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজারবাগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন আইজিপি।

তিনি বলেন, “ঢাকা মহানগর পুলিশ জনসাধারণের সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, যা অতুলনীয়। জঙ্গিবাদ, সাইবার ক্রাইমসহ নাশকতারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।”

তার প্রত্যাশা, পুলিশ হবে মানুষের ‘প্রথম ভরসাস্থল’। মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখতে হবে।

আইজিপি বলেন, বর্তমানে ৫০টি থানা নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সর্ববৃহৎ ইউনিট হিসেবে ঢাকাবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে ডিএমপি। অনেক ক্ষেত্রেই ডিএমপির সাফল্য ও ব্যর্থতা দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশকে মূল্যায়ণ করা হয়। সে কারণে নগরবাসীর সঙ্গে ডিএমপির সৌহার্দ্য ও সংহতি বাড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা নিতে হবে। নাগরিকদের মাঝে আইনের প্রতি শ্রদ্ধার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ বিভিন্ন উসকানির মুখেও ধৈর্য, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশ ও নগরবাসীর ‘আস্থা কুড়িয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন পুলিশ প্রধান আবদুল্লাহ আল-মামুন।

একটি ‘সুন্দর নির্বাচন’ উপহার দেওয়ার জন্য ডিএমপির আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, ১২টি থানা ও ৬ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ। নগরবাসীর ‘আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক’ হয়ে এখন ৫০টি থানা ও ৩৪ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ডিএমপি।

তিনি বলেন, “প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে অপরাধের ধরণ। ডিএমপি অতি দক্ষতার সঙ্গে এসব অপরাধ মোকাবিলা করেছে। এসব অপরাধ দমনে ক্রাইম বিভাগের পাশাপাশি ডিবি পুলিশও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

“এছাড়া জঙ্গি দমনেও দক্ষতার পরিচয় দেখিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট জঙ্গিবাদকে সফলতার সঙ্গে দমন করেছে। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল।”

সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে ডিএমপির ওয়ান স্টপ সাইবার সেন্টার চালু করতে যাচ্ছে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, “গুজব ও সাইবার ক্রাইমের মত অপরাধ ডিএমপি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, নারী ও শিশু সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে নারীরা নারী পুলিশের কাছ থেকে সেবা নিতে পারছেন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পুলিশ যে সামাজিক দায়িত্বও পালন করছে, তার উদাহরণ দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশ ব্লাড ব্যাংকের মাধ্যমে ডিএমপি মুমূর্ষু রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

“করোনাকালে মাতা-পিতা ও আত্মীয়স্বজন মৃতদেহ রেখে পালিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের পরম মমতায় সৎকার করেছে। কখনো কখনো তারা প্লাজমা দিয়ে রোগীদের সেবা করেছে।”

যানজটকে ঢাকার ‘অন্যতম প্রধান সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করে এর সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি ঢাকা করতে চাই, যেখানে উত্তরা থেকে ১৫ মিনিটে গুলিস্তান আসা যাবে। সকলের সহযোগিতায় আমরা স্মার্ট ডিএমপি করতে চাই। আমরা এমন একটি ডিএমপি করতে চাই, যেখানে একজন নারী রাত ৩টায় রাস্তায় দিয়ে চলাচল করলে তার যেন মনে হয়, তার পিছনে একজন পুলিশ সদস্য আছে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পুরনো খবর

Also Read: ‘সেবা ও সদাচারের’ অঙ্গীকারে ডিএমপির ৪৮