Published : 02 Dec 2025, 08:08 PM
সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে মোটাদাগে সাতটি ‘প্রতিবন্ধকতা’ তুলে ধরেছেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
তার মতে, এসব প্রতিবন্ধকতা হল-নির্বাচনি অঙ্গনে দুর্বৃত্তায়ন; রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্বৃত্তায়ন; নির্বাচনে টাকার অশুভ খেলা; নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা; নাগরিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা; নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও ভারসাম্যহীনতা।
মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম তার এই মত তুলে ধরেন বলে সুজনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ: নাগরিক ভাবনা শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।
সুজন সম্পাদক বলেন, “জটিল এবং ক্রমবর্ধমান এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণ। আর এর জন্য প্রয়োজন হবে কতগুলো গভীর আইনি, প্রতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার।”
তার মতে, টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন পূর্বশর্ত হলেও তা ‘যথেষ্ট’ নয়।
“গণতান্ত্রিক উত্তরণ তথা একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন পূর্বশর্ত হলেও তা যথেষ্ঠ নয়। আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন, তথাকথিত ‘একদিনের গণতন্ত্র’-ভোট প্রদানের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলেও গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটে না।
“কারণ যদিও নির্বাচন গণতন্ত্রের প্রাথমিক এবং অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ, এটি এককভাবে গণতান্ত্রিক যাত্রাপথকে সুদৃঢ় করতে পারে না। বস্তুত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে টেকসই করতে হলে গণতন্ত্রের ঘাটতি দূর করা আবশ্যক, যা জন্য কতগুলো সুদূরপ্রসারী সংস্কার জরুরি।”
রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাসহ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিল তুলে ধরে বদিউল আলম বলেন, “কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণজয়ন্তী অতিক্রান্ত হলেও সেই স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি।
“চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মধ্যে এই আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে যে, আর যেন কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরুত্থান না ঘটে, নির্বাচন ব্যবস্থা যেন পরিশুদ্ধ হয়, গণতন্ত্র যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।”
গোলটেবিল বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, লেখক ও সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার, আলোকচিত্রী শহীদুল আলম, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমীন টুলী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডা. হালিদা হানুম আখতার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান, ভয়েস ফর রিফমের অন্যতম উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুর।