Published : 03 Sep 2025, 05:40 PM
জামিন আবেদন করেও তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।
এ মামলায় গ্রেপ্তার বাকি ছয়জন আবেদন করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু আদালত তা নাকচ করে দিয়েছে।
বুধকার ঢাকার মহানগর হাকিম সেফাতুল্লাহর আদালতে শুনানির এক পর্যায়ে লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী তাহমীম মহিমা বাঁধন বলেন, “লতিফ সিদ্দিকী প্রথমে ওকালতনামায় সই করতে চাননি। পরে জেড আই খান পান্নার ওকালতনামা দেখে তিনি সই করেন।
“আজ আমরা লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে জামিন আবেদন করি। তিনি একজন বয়স্ক, অসুস্থ মানুষ। তিনি যে অসুস্থ, সে বিষয়ে তার পরিবারেরর পক্ষ থেকে মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। সেটা দেখিয়ে জামিনের জন্য শুনানি করার কথা ছিল। পরিবার সঠিক সময়ে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহ করতে পারেনি। এজন্য আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”
জামিন নামঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন- গোলাম মোস্তফা, জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, আমির হোসেন সুমন, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার ও আব্দুল্লাহীল কাইউম।
রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, “শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গত শুক্রবার লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগানে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রবিরোধী, সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ড করার কারণেই কিন্তু তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সন্ত্রাসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা ‘ফ্যাসিস্ট’ হাসিনাকে ফেরানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’ এর ব্যানারকে পুঁজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করতে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করেছেন। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন,“গত শুক্রবার লতিফ সিদ্দিকীকে আদালতে আনা হলে তিনি বলেছিলেন, আদালতের প্রতি তার আস্থা নেই। আজ তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেছিলেন। আসামিপক্ষ বুঝতে পেরেছিলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ জামিনের কঠোর বিরোধিতা করা হবে। এজন্য তার পক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন।”
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ অগাস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
“সেগুনবাগিচায় বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।”
অপর আসামিরা হলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল,মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, দেওয়ান মোহম্মদ আলী এবং মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন।