স্কুলে ভর্তি শেষ করতে হবে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে
কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন শুক্র ও শনিবারও ভর্তি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
সরকারি-বেসরকারি স্কুলে কেন্দ্রীয় লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ও ওয়েটিং লিস্টে থাকা শিক্ষার্থীদের ভর্তি ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে বলেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন শুক্র ও শনিবারও ভর্তি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ আজিজ উদ্দিন।
বুধবার থেকে দেশের সব সরকারি স্কুল এবং মহানগর ও জেলা সদরের বেসরকারি স্কুলে, প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ৩ লাখ ৬ হাজার ৮৮ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি শুরু হয়েছে।
উপ পরিচালক আজিজ উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রথম ছয়দিন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ থাকবে। এরপর তিনদিন প্রথম ওয়েটিং লিস্টে থাকা শিক্ষার্থীদের ও এর পরের দুই দিন দ্বিতীয় ওয়েটিং লিস্টে থাকা শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে হবে স্কুলগুলোকে।“
“কোন প্রতিষ্ঠান চাইলে শুক্র ও শনিবারও ভর্তির কাজ চলাতে পারবে। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।”
এবার ৬৮০টি সরকারি স্কুলে ১ লাখ ৮ হাজার ৭১৬টি আসনের বিপরীতে ৯৮ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
অন্যদিকে মহানগর ও জেলা সদরের ৪ হাজার ৯৪৫টি বেসরকারি বিদ্যালয়ে ১০ লাখ ৭ হাজার ৬৭৩টি আসনের বিপরীতে ২ লাখ ৭ হাজার ৮৮৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
সরকারি স্কুলে ভর্তির প্রথম ওয়েটিং লিস্টে ৭৯ হাজার ৫০২ জন ও বেসরকারি স্কুলে ১ লাখ ১ হাজার ১৫৬ জন রয়েছেন। আর দ্বিতীয় ওয়েটিং লিস্টে সরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য ৫৮ হাজার ৫৫৮ জন ও বেসরকারি স্কুলে ৬৭ হাজার ৫১৪ জন রয়েছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদের জন্য জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফলাফল শিটে নির্বাচিতদের তালিকা অনুযায়ী ছয় কর্মদিবসের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচিত তালিকা থেকে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার পর আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রথম অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ক্রমানুসারে তিন কর্মদিবসের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।“
এছাড়া প্রথম অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার পর আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ক্রমানুসারে দুই কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা বলেছে ওই নির্দেশনায়।
তবে আবশ্যিকভাবে ভর্তির সব কার্যক্রম ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
শিক্ষকদের জন্য নির্দেশনা
• সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা https://gsa.teletalk.com.bd লিংকে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করে তার প্রতিষ্ঠানে আবেদনকারীদের তালিকা পেয়ে যাবেন।
• ডিজিটাল লটারিতে প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্বাচিত, প্রথম অপেক্ষমাণ ও দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকার শিক্ষার্থীদের আবেদন সংক্রান্ত তথ্য এই লিংক থেকে যাচাই করতে পারবেন।
• লিংকে তথ্যা টাইপ করে সাবমিট করলে আবেদনকারী কতবার আবেদন করেছে তা জানা যাবে।
• কোনো আবেদনকারী তথ্য পরিবর্তন করে একাধিকবার আবেদন করে থাকলে ডিজিটাল লটারিতে তার ভর্তির নির্বাচন বাতিল বলে গণ্য হবে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটে এবং নোটিশ বোর্ডে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত তালিকা এবং প্রথম ও দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা প্রদর্শন করবে।
• ভর্তিকালীন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে হবে।
• নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র যাচাইকালীন শিক্ষার্থীর জন্ম সনদের মূল কপি, জন্ম সনদের অনলাইন কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাই করতে হবে), বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি ভালো করে দেখতে হবে।
• মিথ্যা তথ্য দিয়ে কোনো শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়ে থাকলে তাকে ভর্তি করা যাবে না।
এতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ জারি করা ভর্তি নীতিমালায় যেসব কোটা সংরক্ষিত রয়েছে ভর্তির সময় ওই কোটাগুলোতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কোটা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে।
নির্বাচিত তালিকার মধ্য থেকে কোটার শূন্য আসন পূরণ না হলে পর্যায়ক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ক্রমানুসারে কোটার শূন্য আসন পূরণ করতে হবে।
এরপরও যদি কোটার শূন্য আসন পূরণ না হয় সেক্ষেত্রে সাধারণ নির্বাচিতদের মধ্য থেকে তালিকার ক্রমানুসারে ওই শূন্য আসন পূরণ করতে হবে। কোনোভাবেই আসন শূন্য রাখা যাবে।
২০২৫ শিক্ষাবর্ষে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো কারণে আসন শূন্য হলে বছরের কোনো সময়েই ডিজিটাল লটারিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর তালিকার বাইরে কোনো শিক্ষার্থীকে ওই শূন্য আসনে ভর্তি করানো যাবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্দেশনায়।
আরও পড়ুন :
