দুই প্যাকেজের হজযাত্রীরা তিন কোটি টাকার বেশি ফেরত পাবেন: ধর্ম উপদেষ্টা
হোটেল ও পরিবহন ভাড়া কমায় জনপ্রতি কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে, সেই হিসাব এখনো মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেনি।
হোটেল ও পরিবহন ভাড়া কমানো সম্ভব হওয়ায় চলতি বছর দুটি প্যাকেচের হজযাত্রীরা তিন কোটি টাকার বেশি ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-১ এর যাত্রীদের মক্কা ও মদিনায় হোটেল ভাড়া সবমিলিয়ে ১ হাজার সৌদি রিয়ালের কাছাকাছি কমানো হয়েছে। এছাড়া হজযাত্রী প্রতি পরিবহন ভাড়া ১০০ সৌদি রিয়াল কমানো গেছে।
সব মিলিয়ে হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর হজযাত্রীরা তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত পাবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান উপদেষ্টা।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের জন্য এবার তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্যাকেজ–১ এর মাধ্যমে হজ পালনে খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা।
আর হজ প্যাকেজ-২ এ ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮১ টাকা ও হজ প্যাকেজ-৩ এ ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা খরচ ধরা হয়েছে।
হোটেল ও পরিবহন ভাড়া কমায় জনপ্রতি কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে, সেই হিসাব এখনো মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা বলেন, “যৌক্তিক খরচে হজ পালনের যে জন-আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে বারবার যোগাযোগ ও নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়। এবছর বিমান ভাড়া প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে।”
গত দুইবছরে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার টাকা বিমানভাড়া কমানোর বিষয়টিকে ‘উল্লেখ করার মত অর্জন’ হিসেবে দেখাচ্ছেন আ ফ ম খালিদ হোসেন।
এ বছরের হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, হজ প্যাকেজ-৩ এর সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল খরচ কমানো হয়েছে।
“এই প্যাকেজের হাজীদের বাড়িভাড়া ও হোটেল টু হারাম শরীফ যাতায়াত পরিবহন বাবদ ধার্য টাকা এবং সাশ্রয়কৃত সার্ভিস চার্জ একত্রিত করে তাদের আবাসন হারাম শরীফের কাছাকাছি এগিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এর ফলে হাজীদের যাতায়াতে বিড়ম্বনা লাঘব হয়েছে এবং তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরীফে আদায় করতে পারবেন।”
গত দেড় বছর ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার সাথে’ দায়িত্ব পালন করেছেন দাবি করে উপদেষ্টা বলেন, “মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার চেষ্টা করেছি। এর ফলে গত দেড়বছরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে।”
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে খালিদ হোসেন বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শূন্য পদে ১৬৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মামলাজনিত কারণে ১৯৭ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এছাড়া নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের ২৯ জন এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের ৩২ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার কথা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নবম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আয়াতুল ইসলাম, বাজেট ও অনুদান অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
