Published : 25 Feb 2026, 02:12 PM
দেড় যুগ আগে পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহ ও হত্যার ঘটনার ‘নিরপেক্ষ’ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতিস্তম্ভের বেদীতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, “আমরা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং তাদের পরিবার পরিজনদের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাচ্ছি এবং এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের আমরা তদন্ত দাবি করছি।”
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলে ওই ঘটনা।
সেই বিদ্রোহের পর সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিডিআরের নাম বদলে যায়, পরিবর্তন আসে পোশাকেও। এ বাহিনীর নাম এখন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতবছর বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভীষিকাময় ও শোকাবহ এ দিনটি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, “৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন হত্যাকাণ্ডের এই দিনটি আমাদের জাতির জন্যে অত্যন্ত লজ্জার, কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি।

“সবচেয়ে কলঙ্কজনক এইজন্য মনে করি যে, এই দিনে চক্রান্ত হয়েছিল, প্রচেষ্টা হয়েছিল বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার, একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল। চৌকশ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যে মনোবল এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের যে মনোবল, সেটাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল।”
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবার জন্যে, একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিগত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করা এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে।”
বিএনপি নেতাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিদ্দিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার জাহিদ হোসেন, জাগপার চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফুর রহমান, বিডিআরের প্রয়াত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকির আহমেদ ভুঁইয়া ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।