Published : 03 Jun 2026, 04:09 PM
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বিজয়কে ‘বাংলাদেশের সব মানুষের বিজয়’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন তার সহকর্মী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েও জাতিসংঘে বিভিন্ন অর্জন হয়েছিল। তিনি ‘বাংলাদেশ প্রথম’ পররাষ্ট্রনীতি সামনে রেখে সবার সঙ্গে সম্পর্কে বিশ্বাসী ছিলেন। এবার সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতে ‘আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন’।
“আমাদের বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে, বিশ্বমণ্ডলে একটি অত্যন্ত গৌরবজ্জ্বল জায়গায় স্থান এনে দেওয়া… সে জায়গাটায় কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের এই বিজয় (বলে) আমি মনে করি।”
মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ভেটাভুটিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাশিতম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে হারিয়ে তিনি এই দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সুদৃঢ় নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের প্রার্থীর যোগ্যতা, সক্ষমতা, সামর্থ্য এবং জাতিসংঘভুক্ত দেশগুলোকে তার গ্রহণযোগ্যতার কারণে এই বিজয় অর্জন হয়েছে।”
মাত্র তিন মাসের প্রচারে এই বিজয় অর্জনের পেছনে যারা ভূমিকা রেখেছেন এবং বিদেশে বাংলাদেশের ৮১টি মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ দেন শামা ওবায়েদ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করতে গেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কে সামলাবে- সেই প্রশ্ন রাখা হয় প্রতিমন্ত্রীর সামনে।
শামা ওবায়েদ বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাগ্যে ভালো কিছুই আছে। আপনারা যখন এখানে এসেছেন আজকে, আপনারাও নিশ্চয় বাংলাদেশি হিসেবে, বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আনন্দিত।
“আমরা সকলেই আনন্দিত যে বিশ্বের প্রত্যেকটা দেশ আজকে বাংলাদেশের কথা বলছে, বাংলাদেশের নাম নিচ্ছে। তো অবশ্যই আমরা আনন্দিত।”
খলিলুর রহমানের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি আগেই বলেছি যে, অবশ্যই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে যদি ডেডিকেটেডলি উনার এই কাজটি করতে হয়, তাহলে উনাকে সময়টা দিতেই হবে ওখানে।
“তার মানে এই নয় যে, উনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। সো এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত এবং আমি মনে করি উনাদের দুজনের সিদ্ধান্তে এটা হবে।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বছরের ছুটি নেবেন কি-না, এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সেটা উনি সিদ্ধান্ত নেবেন। সেটা নিশ্চয় আপনারা জানবেন কী সিদ্ধান্ত হয়।”
কাউকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে কি-না, এমন এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিষয়।
“উনার সুদৃঢ় নেতৃত্বে যখন আমরা এই বিজয়টা অর্জন করতে পেরেছি, তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে চলবে, সেটাও উনি সিদ্ধান্ত নেবেন, সমস্যা নাই।”