Published : 09 Apr 2026, 02:14 PM
জ্বালানি সাশ্রয়ে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইন এবং ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার অনলাইন ক্লাসে হবে। আর শনি, সোম ও বুধবার শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসে সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেবে।
আগামী রোববার থেকেই এ নিয়ম চালু হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ওই সংবাদ সম্মেলন হয়।
কোন কোন স্কুলে এ নিয়ম চালু হচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, "এটা করোনা না যে আমরা জোর করে করব, এটা ব্লেন্ডিং এডুকেশন। অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সক্ষমতা যাদের আছে, স্পেশালি ওয়েল রিনাউন্ড অ্যান্ড হিউজ ক্রাউডেড স্কুল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গাড়িতে স্কুলে আসে।
"এটা আমরা কোনো হার্ড অ্যান্ড ফাস্ট রুলে যাচ্ছি না। তামিরুল মিল্লাত জয়েন করতে চাচ্ছে, আমরা কিন্তু উনাদের বলিনি।"
ছয়দিন ক্লাস চালু করায় শিক্ষকদের একদিন ছুটি কমে যাচ্ছে কি-না, সেই প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, "হ্যাঁ।"
এক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হবে কি-না প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, "না না, কোনো বৈষম্য তৈরি হবে না। আমরা আমাদের শহরের রিনাউনড স্কুলগুলো, যেটাতে গাড়ি নিয়ে আসে যায়, যানজট তৈরি করে। এইটা তো কালকে ডিসকাশন হয়েছে। এটা সারা বাংলাদেশ না, সারা মেট্রোপলিটন না।"
সারা বাংলাদেশের সব স্কুলে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, "সারাদেশে আমরা যদি প্রস্তুতি নিই, সারাদেশেই আমরা যাব। যদি প্রস্তুতি আমরা নিতে পারি।
"হঠাৎ করে এমন কিছু স্টিপুলেট করা যাবে না, যে লেখাপড়ার ধস নামবে। এটা আমাদেরই সম্পদ, সেটা ভেবে শুনে, আস্তে ধীরে আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা এগোব।"
রাজধানীর কিছু নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ও অফলাইন (সশরীরে) ক্লাস চালুর পরিকল্পনার কথা বুধবার জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।
সেদিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়’ বিষয়ক সেমিনারে তিনি বলেছিলেন, "সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে নয়, বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আছে—সেসব স্কুলে পাইলট প্রকল্প হিসাবে এটি চালু করা যেতে পারে।
"প্রস্তাবিত মডেলে সপ্তাহজুড়ে কিছুদিন অনলাইন এবং কিছুদিন অফলাইন ক্লাস থাকবে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে ট্রাফিক চাপ ও জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠক্রমের মধ্যেই থাকবে।"
তিনি বলেন, "এটি সবার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যারা সক্ষমতা রাখে, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে আমরা এই 'ব্লেন্ডেড এডুকেশন' বা সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছি।"
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "শিক্ষার্থীরা বাসায় বসে অনলাইনে ক্লাসে যুক্ত হলেও শিক্ষকদের স্কুলেই উপস্থিত থেকে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষকরা বাসায় বসে ক্লাস নেবেন না।"
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় এনে শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘অভিযোজিত করা জরুরি’ মন্তব্য করে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ উদ্যোগ সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।