বাংলাদেশের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জরুরি ছিল: এডিবি

ঢাকায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Jan 2024, 02:20 PM
Updated : 17 Jan 2024, 02:20 PM

বাংলাদেশের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং। 

বুধবার ঢাকায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এ কথা বলেন। 

গিনটিংয়ের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি কে এম শাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করেন বলে বাসস জানিয়েছে। 

মুন বলেন, “টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘এডিবি খুবই খুশি। বাংলাদেশের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আবার তার (শেখ হাসিনা) প্রধানমন্ত্রী হওয়া খুবই প্রয়োজন ছিল’।”

আগামীতেও এডিবি বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন গিনটিং।

তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে জ্বালানি খাত ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার সংস্থা কক্সবাজারে জলবায়ু পুনর্বাসন প্রকল্পে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য জেলাগুলোতেও তাদের একই কাজ করার অনুরোধ করেন। তিনি বাংলাদেশের জন্য এডিবির সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, “আশা করি আপনারা সমর্থন অব্যাহত রাখবেন।”

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় ক্রমাগত সহায়তা এবং ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ৪০ কোটি ডলার অনুমোদনের জন্য ধন্যবাদ দেন।

বর্তমানে এডিবি বাংলাদেশের অর্থনীতির সাতটি প্রধান খাতে ৬১টি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। এরমধ্যে পরিবহন, পানি ও শহুরে অবকাঠামো এবং সেবা, জ্বালানি, মানব ও সামাজিক উন্নয়ন, কৃষি, খাদ্য, প্রাকৃতিক ও গ্রামীণ উন্নয়ন, অর্থ, সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা ও শাসন খাত রয়েছে।

শেখ হাসিনা এডিবিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘গ্রাজুয়েশন’ চ্যালেঞ্জের চাহিদা পূরণে প্রকল্প হাতে নেওয়ার অনুরোধ করেন, যেখানে লজিস্টিক অবকাঠামোর উন্নতি এবং পরিষেবা সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি এবং জলবায়ু জরুরি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এডিবি’র জলবায়ু অর্থায়নের একটি বড় অংশ পাবে বলে আশা করে।

সরকারপ্রধান ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা ২০২২-২০৪১’ এর আওতাধীন ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা’ এবং ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ এর সঙ্গে উচ্চমানের জলবায়ু প্রকল্প ও কর্মসূচিগুলোর পাইপলাইন বিকাশে বাংলাদেশের জন্য অনুদান ও রেয়াতমূলক জলবায়ু অর্থায়ন বাড়াতে এডিবিকে অনুরোধ করেন।

প্রধানমন্ত্রী ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য বেশ কয়েকটি বাজেট সহায়তা পাইপলাইনে থাকার কথা অবহিত করে সেগুলো নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনুমোদন নিশ্চিত করতে আগেই আলোচনা শুরু করতে পারে বলে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টরকে অবহিত করেন।

শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এডিবি বাংলাদেশের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে অর্থায়ন অব্যাহত রাখবে যাতে দেশের প্রবৃদ্ধির গতি বজায় থাকে এবং একটি 'স্মার্ট বাংলাদেশের' ভবিষ্যত রূপকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করা যায়।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি যেহেতু উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে অগ্রসর হচ্ছে, তাই এটা আকাঙ্ক্ষিত যে এডিবি এমন প্রকল্প হাতে নেওয়ার জন্য বড় ধরনের সহযোগিতা দেবে যা ডিজিটাল গ্যাপ কমিয়ে দেবে, বাণিজ্য প্রতিযোগিতা ত্বরান্বিত করবে, উন্নত ও কম কার্বন প্রযুক্তি হস্তান্তর করবে, সবুজ শক্তি উৎপাদন করবে, জলবায়ু-সহনশীল কৃষির সম্প্রসারণ ঘটাবে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, স্মার্ট সিটি গড়ে তোলা এবং দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।”

তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাবগুলোর সার্বিক এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে তার আশা, পাইপলাইনে এডিবি অতিরিক্ত ‘কাউন্টার সাইক্লিক্যাল এবং পলিসি ভিত্তিক ঋণদান (পিবিএল)’ সহায়তা ব্যবস্থা রাখবে যাতে বাংলাদেশ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অবিলম্বে সেগুলো ব্যবহার করতে পারে।

সাক্ষাৎকালে অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ মো. জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।