দেশের শ্রমবাজার বিদেশিদের ‘দখলে’, দক্ষতায় জোর শিক্ষামন্ত্রীর

“যারা কর্মদাতা, তারা কিন্তু শুধুমাত্র গ্র্যাজুয়েট বলে কাউকে চাকরি দেন না,” বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Feb 2024, 12:36 PM
Updated : 25 Feb 2024, 12:36 PM

দক্ষ কর্মীর অভাবে বিদেশি পেশাজীবীরা এদেশের শ্রমবাজার দখল করে রেখেছে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা না থাকলে শুধু স্নাতকের সনদ দিয়ে কাজ পাওয়া কঠিন। 

রোববার বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সপ্তম সমাবর্তনে বক্তব্য রাখছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। 

সনদপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “পৃথিবীর নানা দেশ থেকে প্রশিক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীরা এসে এখানে কাজ করছেন। আপনারা কেন তাদের জায়গা দখল করতে পারবেন না? 

“যারা গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বিনীত নিবেদন থাকবে- ক্যারিয়ার প্ল্যানিংটা আপনারা অবশ্যই করবেন।” 

বাংলাদেশে ঠিক কী পরিমাণ বিদেশি কর্মী কাজ করেন, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তৈরি পোশাক, বিদ্যুৎ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসহ বেশ কিছু খাতে কয়েক লাখ বিদেশি কাজ করছেন বলে বিভিন্ন সময়ের তথ্যে উঠে এসেছে। 

বিদেশি কর্মীদের জন্য মোটা অঙ্কের বেতন গুনতে হলেও দক্ষতাভিত্তিক কাজে তাদের চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে। পরিকল্পনা করে এসব কাজে দক্ষতা অর্জন করতে শিক্ষার্থীদের বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। 

তিনি বলেন, “যেসব খাতে বিদেশি পেশাজীবীরা কাজ করছে, আপনারা দেখবেন, এসব পেশাজীবীরা সুনির্দিষ্ট কিছু দক্ষতার কারণে এদেশে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। যারা কর্মদাতা, তারা কিন্তু শুধুমাত্র গ্র্যাজুয়েট বলে কাউকে চাকরি দেন না। 

“তারা দেখতে চান, তাদের যে ধরনের প্রয়োজনীয় শিক্ষা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন; সেটা প্রার্থীর আছে কি না। চাকরিদাতাদের এখানে বক্তব্য হচ্ছে, ‘আমাদের সন্তানদের অনেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলেও প্রয়োজনীয় দক্ষতায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে’। আমরা অনুরোধ করব, আপনারা সেসব ঘাটতি পূরণে কাজ করবেন।’’ 

এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছেন।” 

কেবল দেশের শ্রমবাজার নয়, বিশ্ববাজারের জন্য নিজেদের দক্ষ করে তুলতে শিক্ষার্থীদের তাগিদ দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করলেও অন্যান্য দক্ষতার অভাবের পাশাপাশি ভাষাগত কারণে পিছিয়ে পড়ছে বলেও মনে করেন তিনি। 

শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, “বিশ্বে এখন দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মীর চাহিদা বেড়েছে। আর সারাবিশ্বের শ্রম বাজার আমাদের জন্য উন্মুক্ত। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে যদি দেখি, সেসব দেশে বিভিন্ন ভাষা শিখে বিশ্ব নাগরিক হওয়ার জন্য তাদের তরুণ প্রজন্ম সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। 

“আমাদেরকেও এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। এজন্য যেভাবে দক্ষ ও যোগ্য হওয়া যায়, শিক্ষার্থীদের সেভাবে গড়ে তুলতে হবে।’’ 

ইংরেজিসহ বহুল প্রচলিত ভাষায় দক্ষ না হলে শিক্ষার্থীরা যে চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়বে তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নওফেল বলেন, “ভাষাগত দক্ষতায় পিছিয়ে থাকলে যোগাযোগ দক্ষতায়ও আমরা পিছিয়ে যাব, কর্মক্ষেত্রেও পিছিয়ে যাব। যে নানা ভাষায় কথা বলতে পারবে, সে যোগাযোগেও পারদর্শী হবে এবং সে কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে।

“বিশ্বের যেসব ভাষা বহুল প্রচলিত সেসব ভাষায় আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে করে দক্ষ হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।” 

উচ্চশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ‘সফট স্কিলে’ দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দেন শিক্ষামন্ত্রী। 

সমাবর্তনে বক্তা ছিলেন এমিরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত। অনুষ্ঠানে ৩ হাজার ৯৫৪ জন শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সনদ পেয়েছেন। স্বর্ণপদক পেয়েছেন চার শিক্ষার্থী। 

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, উপাচার্য অধ্যাপক আবুল কাশেম মিয়া।