কিশোর হত্যায় মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত ৪ আসামি হাই কোর্টে খালাস

''এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা আপিল করার বিষয়ে আদালতে নোট দিয়েছি,” বলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Sept 2022, 01:14 PM
Updated : 12 Sept 2022, 01:14 PM

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২৮ বছর আগে এক কিশোর হত্যার মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার ছয় বছর পর চার আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছে হাই কোর্ট।

রাষ্ট্রপক্ষের ডেথ রেফারেন্স খারিজ এবং আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে সোমবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের বেঞ্চ এ রায় দেয়।

পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ১৯৯৪ সালের ১৩ মে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার আগুয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে জিয়াউল হক (১৫) নিখোঁজ হওয়ার পর খুন হন।

পরদিন স্থানীয় পঁচা শিংগার গ্রাম থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৬ সালের ৯ মে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাফরোজা পারভীন পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

পরে নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে আসে। পাশাপাশি রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেন আসামিরা।

রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম আশরাফুল হক জর্জ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসামিদের চারজনই খালাস পেয়েছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা আপিল করার বিষয়ে আদালতে নোট দিয়েছি।”

কোন যুক্তিতে আসামিরা খালাস পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আসামিপক্ষের ওনারা বলছেন- এই মামলায় চাক্ষুস সাক্ষী নেই। আদালত এ বিষয়টি আমালে নিয়ে রায়ে বলেছে- মারতে কেউ দেখেনি, তাই যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ থেকে তাদেরকে খালাস দিয়েছে।”

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, “ট্রায়াল কোর্ট আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছে। এই ভিকটিমকে আসামিরা অন্য কথা বলে ডেকে নিয়ে গেছে, এরপর থেকে আর ফেরেনি।

“পরদিন দুপুরে তার লাশ পাওয়া গেছে। এটাই তো বড় এভিডেন্স, এই কারণেই ট্রায়াল কোর্ট এমন জাজমেন্ট দিয়েছিল।”

আরও ব্যাখ্যা দিয়ে জর্জ বলেন, “আইনে স্বতঃসিদ্ধ সিন্ধান্ত আছে যে, কেউ যদি কাউকে ডেকে নিয়ে যায়, তারপর যদি লাশ পাওয়া যায়, সাধারণত এই ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হবে সে এই বিষয়টি জানে। সাক্ষী দিয়ে হলেও তা বলতে হবে।”

আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন- মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা, মো. নাজমুল হুদা ও মো. সাইফুল ইসলাম।

২৮ বছর আগের ওই হত্যার ঘটনায় জিয়াউল হকের মা রূপচাঁন বিবি সৎ ছেলে আলী হায়দারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেরন পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। বিচার চলার সময় এক আসামি মারা যান।

আসামিরা হলেন- বানিয়াচং উপজেলার টুপিয়াজুরি গ্রামের আলী হায়দার, একই গ্রামের নূর মিয়ার ছেলে আব্দুল আহাদ, আগুয়া গ্রামের খুরশেদ আলীর ছেলে রেনু মিয়া, একই গ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে হাবিব মিয়া ও আব্দুর রেজ্জাকের ছেলে রঞ্জু মিয়া। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল আহাদ মারা গেছেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক