Published : 28 Apr 2026, 10:19 PM
ব্যাংক রেজল্যুশন আইন সংশোধনের পর ‘জানালা খুলে দেওয়া হয়েছে’ বলে অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান বলেছেন, সেই জানালা দিয়ে এস আলম ‘ফিরে আসতে পারে’।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে মঙ্গলবার ঢাকা-১২ আসনের এই সংসদ সদস্য ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি নিয়ে এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সবগুলো বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকে লুটপাট করা হয়েছে। সেই লুটপাট করেছে এস আলম, তার দোসররা।”
কোনো ব্যাংক অকার্যকর হয়ে পড়লে, দেউলিয়ার পথে গেলে, আমানতকারীদের ‘পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ’ হলে বা মালিকপক্ষ ‘প্রতারণামূলকভাবে’ ব্যাংকের সম্পদ ব্যবহার করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে পারে, সেই পথ খুলতে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
পরে ওই অধ্যাদেশের ক্ষমতা ব্যবহার করে দুর্বল পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলো ব্যাপক ‘লুটপাটের’ কারণে নাজুক দশায় পড়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় বর্তমান বিএনপি সরকার একগুচ্ছ অধ্যাদেশ বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস করে, যার মধ্যে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনও রয়েছে।
কিন্তু অধ্যাদেশটি বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাসের আগে নতুন একটি ধারা যুক্ত হয়েছে, যাতে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকে ‘পুরনো শেয়ারধারীদের ফেরার পথ খোলা হয়েছে’ বলে সমালোচনা হচ্ছে।
গেল ২১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী সদস্য সাইফুল আলমের সম্পূরক প্রশ্নে জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কাউকে ব্যাংক পর্ষদে ফেরাতে নয়, ব্যাংকে যাতে নতুন তহবিল আসে, সেই পথ খুলতে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন সংশোধন করে ‘নতুন উইন্ডো’ খুলেছে সরকার।
সে প্রসঙ্গ টেনে মঙ্গলবার সাইফুল আলম বলেন, “ব্যাংক রেজল্যুশন ২০২৬ সংশোধনের মাধ্যমে আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কথায় জানালা খুলে দেওয়া হয়েছে। আমি দেখতে পাচ্ছি, ওই জানালা দিয়ে সম্ভবত এস আলম এসে পড়বে।”
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে এসেছে, ইসলামী ব্যাংক থেকে এক দিনে ৭০০ কোটির বেশি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তিন দিনের টাকা জমা ও উত্তোলনের তথ্যেও ব্যাংকটি ‘নেগেটিভের দিকে যাচ্ছে’।
সাইফুল আলম বলেন, “এই ব্যাংককে বাঁচাইতে হবে। আজকে যদি ইসলামী ব্যাংক ধসে পড়ে, এ দেশের অর্থনীতির ওপর আঘাত হবে।”
এক সময় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা এক কোটি ২০ লাখের মতো ছিল তুলে ধরে বিরোধী দলের এ সদস্য বলেন, একটি বেসরকারি ব্যাংকের এত বড় গ্রাহক সংখ্যা দেশের জন্য সুখবর ছিল।
বক্তব্যের শুরুতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুমোদন না করে লুপ্ত করে দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন সাইফুল আলম।
নিজ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১২ এর সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধ জরুরি বলে তুলে ধরে তিনি বলেন, ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য উন্নত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
এছাড়া রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে সাইফুল আলম বলেন, খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানকে নিয়ে রাষ্ট্রপতির প্রশংসা তারা মানতে পারেন না।
এক পর্যায়ে স্পিকার তাকে সময় শেষ হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আপনি ১৫ মিনিট অলরেডি বলে ফেলেছেন। আর সবই তো পরচর্চা দেখলাম।” এরপরও বক্তব্য চালিয়ে সাইফুল আলম।
‘কনডেম সেল থেকে সংসদে’
টাঙ্গাইল-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, তিনি ১৭ বছর কারাগারে ছিলেন, এর মধ্যে সাত বছর ছিলেন ফাঁসির আসামিদের সেলে।
তিনি বলেন, “ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ছিলাম, সেখান থেকে আজকে সংসদে এসেছি।”
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় তিনি কারাগারে ছিলেন। ৪ অগাস্ট রাতে তারা শুনেছিলেন, পরদিন কঠোরভাবে আন্দোলন দমন করা হবে।
আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, “সারারাত কেউ ঘুমায় নাই। শুধু আল্লাহকে ডেকেছে, এই দেশের সন্তানদেরকে আল্লাহ তায়ালা আপনি বাঁচান।”
তার ভাষায়, ৫ অগাস্ট মানুষ ‘আবাবিল পাখির মতো’ রাস্তায় নেমে এসেছিল, আর সেই কারণেই শেখ হাসিনা পালিয়ে যান।