Published : 06 Mar 2026, 09:38 PM
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বেইলি রোডে কাটানো সময়ের স্মৃতি মনে করে জায়গাটিকে বিদায় জানিয়েছেন সাংবাদিক শফিকুল আলম।
শুক্রবার ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বেইলি রোডকে নিজের জীবনের “অসাধারণ এক যাত্রার সাক্ষী” হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
২০২৪ সালের অগাস্টে প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শাহীনবাগের বাসা ছেড়ে বেইলি রোডের সরকারি আবাসনে ওঠেন শফিকুল। পোস্টে তিনি বলেন, মূলত যমুনার কাছাকাছি থাকার জন্যই তিনি সরকারি বাসায় ওঠেন।
কারণ প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস যমুনায় থাকতেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের বেশিরভাগ সরকারি কাজও পরিচালিত হত ওই ভবন থেকেই।
শফিকুল আলম লিখেছেন, “অনেকবার রাতের খাবার ফেলে আমাকে যমুনায় ছুটে যেতে হয়েছে গভীর রাতের সংকট মোকাবিলার দৃশ্য দেখার জন্য এবং মানুষের কাছে সেই প্রচেষ্টার খবর পৌঁছে দিতে।”
বেইলি রোডের সেই সময়কে তিনি ‘একদিকে শান্ত, অন্যদিকে ঘটনাবহুল সময়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
নিজের বাসার জানালা থেকে সকালের পাখির ডাক আর নিরিবিলি পরিবেশের কথা স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, “বাইরে থেকে জায়গাটি যত শান্ত মনে হত, কাছের যমুনা ভবনকে ঘিরে ততই ঘটেছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার নাটকীয়তা।”
শফিকুল আলম লিখেছেন, ওই বাসা থেকে কয়েক গজ দূরেই ছিল ফরেন সার্ভিস একাডেমি। সেখানে তিনি প্রায় ৩০০ সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপে অংশ নিয়েছেন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, “অনেক সময় পরিস্থিতি এমন মনে হয়েছে যেন ‘সবকিছুর শেষ এখানেই’, আবার অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি ঘুরে গিয়ে বেইলি রোড ফিরে পেয়েছে তার স্বাভাবিক শান্ত পরিবেশ।”
গত ১৩ মাসে কাছের রমনা পার্কে নিয়মিত যেতে না পারায় নিজের আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, হাঁটা বা সকালের আড্ডায় যোগ দেওয়ার সুযোগ তার খুব কমই হয়েছে।
তবে প্রতিদিন সকালে রাস্তার পাশে বসা অস্থায়ী বাজার থেকে স্ত্রীকে নিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় সদাই কেনার স্মৃতিও পোস্টে তুলে ধরেছেন শফিকুল। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ সেই ছোট দোকানগুলো উচ্ছেদ করেছে, সে কথাও লিখেছেন।
পোস্টে বেইলি রোডকে উদ্দেশ করে শফিকুল আলম বলেন, “বিদায়, বেইলি রোড। তুমি উপর থেকে শান্ত ছিলে, কিন্তু ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলে।”
২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পান বার্তাসংস্থা এএফপির ঢাকার ব্যুরো প্রধান শফিকুল আলম। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে জ্যেষ্ঠ সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকতায় ফেরেন তিনি। নতুন ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি ওয়াদা’র সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছেন শফিকুল আলম।