Published : 13 Oct 2022, 09:24 PM
রেলের অব্যবস্থাপনা সমাধানে আশ্বাসের নামে ‘ঠকেছেন’ দাবি করে তিন মাস পর আবার আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি।
বৃহস্পতিবার রেল ভবনে গিয়ে রেলমন্ত্রী ও রেল সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো ফল পাননি বলে জানিয়েছেন রনি।
এই শিক্ষার্থীর ভাষ্যে, তার ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন ‘অসম্ভব’ বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
তবে এবিষয়ে রেলপথমন্ত্রীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে তাকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কেটে দিয়েছেন, এসএমএস পাঠানো হলেও সাড়া দেননি।
রনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাকে ঠকানো হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয়ের এই ধরনের বক্তব্যে আমি মোটেও সন্তুষ্ট নই। আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল মন্ত্রীর কনসার্ন নিয়ে দাবিগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। তা না করে আমাকে অনর্থক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দেওয়া হচ্ছিল।
“আমি তো জনগণের পক্ষ থেকেই দাবিগুলো করেছিলাম। রেলওয়ে আশ্বাস দিয়েছিল, প্রথম এক মাসের মধ্যে এনআইডি দিয়ে টিকিট কাটার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। পরবর্তী তিন-চার মাসের মধ্যে বাকিগুলোও সমাধানের চেষ্টা করা হবে। আজ তারা বলছেন, আমার দাবিগুলো কোনোভাবেই নাকি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না।”
৬ দাবি পূরণে আগামী ১ নভেম্বর থেকে তিনি আবারও আন্দোলন শুরু করবেন বলে জানান তিনি।
রনির দাবিনামা
টিকিট ব্যবস্থাপনায় সহজ ডটকমের হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে; হয়রানির ঘটনায় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে হবে।
যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ করতে হবে।
অনলাইনে কোটায় টিকিট ব্লক করা বা বুক করা বন্ধ করতে হবে। সেই সাথে অনলাইন-অফলাইনে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সর্বসাধারণের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
যাত্রী চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ রেলের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।
ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক ও তত্ত্বাবধায়কসহ অন্য দায়িত্বশীলদের কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক মনিটর, শক্তিশালী তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে রেল সেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে।
ট্রেনে ন্যায্যমূল্যে খাবার বিক্রি, বিনা মূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
রেলে অব্যবস্থাপনা: বৈঠকের পর কর্মসূচি স্থগিত করলেন রনি
অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার পর গত ৭ জুলাই হাতে শিকল বাঁধা অবস্থায় ৬ দফা দাবিতে কমলাপুর স্টেশনে অবস্থান নিয়েছিলেন রনি।
তার দাবির মুখে গত ২৫ জুলাই রনিকে ডেকে নিয়ে কথা বলেন রেল সচিব হুমায়ুন কবির, রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী। পরে রনিকে রেলের অংশীজন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে রনির উত্থাপিত ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন রেলসচিব হুমায়ুন কবির।

তখন কর্মসূচি স্থগিত করে রেল কর্তৃপক্ষকে তার দাবি বাস্তবায়নে সময় দিয়েছিলেন রনি। সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে বৃহস্পতিবার গিয়েছিলেন রেল ভবনে।
রনি বলেন, “প্রায় ৩ মাস হতে চললো। কিন্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুফল এখনও জনগণ ভোগ করতে পারেনি। শারদীয় উৎসবের ছুটিতেও ট্রেনের যাত্রীদের আগের মতোই হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
“ফিডব্যাক চেয়ে বহুবার মুঠোফোনের মাধ্যমে রেলওয়ের ডিজি এবং সচিব মহোদয়ের সাথে আমরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করি।পরে রেলওয়ের ডিজি মহোদয় আমাদেরকে রেলভবনে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে রেলমন্ত্রী মহোদয়ও উপস্থিত ছিলেন।”
বৈঠকে কী বলা হয়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন আমার যে দাবি, সেগুলো এক মাস, তিন মাস, ছয় মাস কিংবা এক বছর, দুই বছরেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব না।
“আমি বললাম কেন সম্ভব নয়? তখন তিনি (রেলমন্ত্রী) বললেন, ‘তুমি আমার চেয়ারে এসে বস’। তখন আমি বললাম, আপনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন, আমিও তাই। আমি যদি আপনার চেয়ারে এসে বসি, তাহলে দুই বছরের মধ্যেই আমি দাবিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করে দেখাতাম।”
রনি বলেন, “এসব শুনে মন্ত্রী মহোদয় একটু নরম হলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ বিষয়টি এড়িয়ে তিনি আমাকে রেলের ব্যাপারে নানান বিষয় বুঝাতে লাগলেন।”
আগামী ১ নভেম্বর আবার কমলাপুর রেলস্টেশনে অবস্থান কর্মসূচির শুরু করবেন জানিয়ে রনি বলেন, “আমি আর কিছুদিন দেখব। দাবি বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ না দেখলে নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে আবারও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে। তখন আমি একা থাকব না, আমার সাথে আরও অনেকেই থাকবে।
“আমাকে আজকে তারা যেসব বুঝ দিয়েছেন, তারা এইসব জনগণকে বোঝাক। আমি তাদেরকে সেই কথাই বলেছি। জনগণকে বোঝালে জনগণই তাদের দাবি বাস্তবায়নে রেলকে সাহায্য করতে পারে।”