এই অর্জনকে অনেক দূর নিয়ে যেতে চাই: ইউনূস
”সবার জন্য মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারি, আমাদের বিজয় অবশ্যই হবে,” বলেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট সরকার দেশের সবার সরকার। এখানে সবার আকাঙ্খা পূরণের অধিকার থাকবে।
বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে দুরে থাকি, সবার জন্য মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি আমাদের বিজয় অবশ্যই হবে।”
ছাত্র-জনতার এ অর্জনকে অনেক দূর নিয়ে যেতে সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, নতুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গণতন্ত্রের, সুবিচারের, মানবাধিকারের ও নির্ভয়ে মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে।
”সকলের স্বাচ্ছন্দে জীবনধারণের সুযোগ প্রদানে সচেষ্ট সরকারের দলমত নির্বিশেষে সকলেই উপভোগ করবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
আরও পড়ুন:
প্রবল গণ আন্দোলনে বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের নতুন এক অধ্যায় রচিত হওয়ার পর ‘তরুণদের দেখানো পথে’ বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়ে শপথ নিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এই সরকারের নেতৃত্ব দেবেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। এই যাত্রায় উপদেষ্টা হিসেবে তার সঙ্গে থাকছেন আরো ১৬ জন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাতির উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি।
নতুন প্রধান উপদেষ্টা বলেন,”আমাদেরকে এই লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করুণ। সারা বিশ্ব আজ বলছে সাবাশ বাংলাদেশ, সাবাশ বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা। আমরা এই অর্জনটাকে আরও অনেক দূর নিয়ে যেতে চাই। আমাদের ছাত্র-জনতার জন্য কিছুই অসম্ভব নয়।”
তরুণদের পক্ষে সব অসম্ভবকে জয় করা সম্ভব মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তারা সেজন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকি। সবার জন্য মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারি, আমাদের বিজয় অবশ্যই হবে।”
আরও পড়ুন
সব ধরনের অপরাধের বিচার করার কথা তুলে ধরে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বিভিন্ন চেষ্টায় ব্যবহৃত হয়ে যারা অপরাধ সংগঠিত করেছেন, তাদেরকে আইনানুগ বিচারের মাধ্যমে শীঘ্রই উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। একই কথা দেশের সকল মন্ত্রণালয়, সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নানা কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রযোজ্য। সর্বত্র অপরাধের বিচার হবে।
”আজ প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ও তার সদস্যরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কর্তব্য পালনের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্বাধীনতা উপভোগ করবেন। দেশকে গৌরবের শীর্ষে নিয়ে যাবেন এবং দেশবাসীকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেবেন।”সবাইকে নির্ভয়ে ও আনন্দের সঙ্গে কর্মস্থলে সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ”দেশের সকল মানুষকে আজ স্বাধীন, নির্ভয়ে থাকার জন্য আমাদের ছাত্র শহীদরা প্রাণ দিয়েছে। এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট সরকার দেশের প্রত্যেকের সরকার। এখানে থাকবে সকলের আকাঙ্খা পূরণের অধিকার।
”অরাজকতার বিষবাষ্প এখন যেই ছড়াবে, বিজয়ী ছাত্র-জনতাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্ণ শক্তি তাকে ব্যর্থ করে দেবে। নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী সরকার দূর হয়ে গেছে।”
আরও পড়ুন
