Published : 14 Apr 2026, 07:46 PM
বৈশাখী মেলা এবং বইয়ের আড়ংয়ের মধ্য দিয়ে নববর্ষ বরণে মেতেছে বাংলা একাডেমি।
১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বরণে মঙ্গলবার থেকে সপ্তাহব্যাপী শুরু হয়েছে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বইয়ের আড়ং, এ সময় বিভিন্ন ছাড়ে বই বিক্রি করা হবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এছাড়া বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর যৌথ উদ্যোগে একাডেমি প্রাঙ্গণে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
এ দুটি আয়োজন চলবে ৭ বৈশাখ পর্যন্ত।
এদিন সকাল থেকেই বর্ষবরণের অনুষ্ঠান ঘিরে জমে ওঠে একাডেমি প্রাঙ্গণ।
সকাল ৮টায় একাডেমির নজরুল মঞ্চে বর্ষবরণ সংগীত পরিবেশনায় শুরু হয় বাংলা একাডেমির আয়োজন।
সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নববর্ষ বক্তৃতা এবং সকাল ৯টায় হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেলা উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সেখানে ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুর ইসলামের স্বাগত বক্তবের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ পর্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
এর আগে সকালে সুমন মজুমদারের পরিচালনায় সঙ্গীতমঞ্জরী শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালনায় বর্ষবরণ সংগীতের মধ্য দিয়ে নববর্ষের অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক।

‘নববর্ষ বক্তৃতা’ দেন ড. ওয়াকিল আহমদ। সভাপ্রধান ছিলেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, “নববর্ষে আমাদের প্রত্যয় হোক চিরনতুনের অর্থপূর্ণ আবাহন। আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক সত্তার প্রকাশ-বিকাশে বাংলা নববর্ষ উৎসবের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।”
ওয়াকিল আহমদ বলেন, “আমরা বর্তমানে জাতীয় জীবনের নানান কাজে জ্ঞাতসারে হোক, অজ্ঞাতসারে হোক তিনটি ক্যালেন্ডার বা বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করে থাকি—বঙ্গাব্দ, খ্রিস্টাব্দ ও হিজরি অব্দ। বাংলা মাসকে স্মরণ করার মুখ্য একটি দিন হল পহেলা বৈশাখ, যা নববর্ষরূপে উদযাপিত হয়।
তিনি বলেন, “আমরা বিগত বছরগুলিতে লক্ষ করেছি, ঢাকা বর্ষবরণোৎসবের জৌলুস ও হর্ষোৎফুল্লতা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে বা ম্লান হয়নি। বরং নতুন নতুন ভাবনা ও পরিকল্পনা যুক্ত হয়ে একে পরিশোভিত, পরিমার্জিত ও আকর্ষণীয় করা হয়েছে।
“বাংলার মানুষের একটা সৃজনশীল ধর্ম রয়েছে; যার মধ্য দিয়ে নববর্ষের আয়োজনকে ক্রমশ উন্নত ও সমৃদ্ধ করে চলেছে।”
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, “বাংলা নববর্ষ উৎসব আমাদের জাতিসত্তার নিজস্বতার শক্তি ও সৌন্দর্য তুলে ধরে। জীর্ণ-পুরাতনের পথ পরিহার করে জাতীয় ঐক্য ও সমৃদ্ধির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণই হোক এবারের নববর্ষ উৎসবের প্রত্যয়।
অনুষ্ঠানে সমবেত জারি গান পরিবেশন করেন শিল্পী সাইদুর রহমান বয়াতি ও তার দল। সংগীত পরিবেশন করেন এ টি এম আশরাফ হোসেন, আশরাফুজ্জামান, জি এম জাকির হোসেন, মো. মাহমুদুল হাসান, রহিমা খাতুন, আশরাফ মাহমুদ, শারমিন সুলতানা, মৌসুমী ইকবাল।
যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন প্রিয়ব্রত চৌধুরী (তবলা), এফ এম আলমগীর কবীর (বাঁশি), আনোয়ার সাহদাত রবিন (কী-বোর্ড), দীপঙ্কর রায় (অক্টোপ্যাড) এবং মেহেদী হাসান রনি (বাংলা ঢোল)।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব এবং ইমরুল ইউসুফ।