Published : 08 Aug 2023, 08:06 PM
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনের জন্য ৬৮টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন; যাতে প্রাথমিক বাছাইয়ে টিকেছে আবেদনের এক তৃতীয়াংশ।
মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোট পর্যবেক্ষণে নিবন্ধনযোগ্য এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা গণবিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করেছে; যা আগের সংসদ নির্বাচনের সময় নিবন্ধন পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যার অর্ধেকের একটু বেশি।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দাবি, আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে ইসি সচিবের কাছে লিখিতভাবে জানানোর জন্য বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তা শুনানি করে নিষ্পত্তি করবে কমিশন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবিব খান বলেন, "নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আবেদনকারী সংস্থাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে কমিশনে উপস্থাপন করে। উত্থাপিত তথ্য ও পর্যবেক্ষক নীতিমালা অনুসরণ করে নিবন্ধনের জন্য প্রাথমিকভাবে ৬৮টি পর্যবেক্ষক সংস্থা নির্বাচিত করা হয়েছে।”
এবার ভোট দেখতে নিবন্ধন পেতে দুই শতাধিক স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান গত মার্চের মধ্যে ইসিতে আবেদন করে। নিবন্ধন পেলে এসব প্রতিষ্ঠান আগামী পাঁচ বছরের জন্য সংসদ ও স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে।
সবশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে পাঁচ বছরের জন্য ১১৯টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন পেয়েছিল। সে হিসাবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এ সংখ্যা এখন অর্ধেকের একটু বেশি।
ইসি জানিয়েছিল, চলতি অগাস্টেই পর্যবেক্ষকদের তালিকা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে; যারা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি বছরের শুরুতে আগ্রহীদের কাছে আবেদন নেওয়া হয়। দেশিয় ২১০টি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। এরপর যাচাই বাছাই শেষে নিবন্ধনযোগ্যের তালিকা এদিন প্রকাশ করা হল।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “১৮ জানুয়ারির বিজ্ঞপ্তির আলোকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির আবেদনগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই শেষে এ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কারো কোনো দাবি/আপত্তি/অভিযোগ থাকলে তা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, আগারগাঁও, ঢাকা বরাবর লিখিতভাবে জানানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।“

এতে বলা হয়েছে, “কারও বিরুদ্ধে কোনো দাবি/আপত্তি/অভিযোগ থাকলে তার স্বপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণাদিসহ আপত্তিকারীর নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর উল্লেখ করে ৬ সেট আপত্তি দাখিল করতে হবে। আপত্তির শুনানি শেষে তা গ্রহণ বা বাতিল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত হবে, এ বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।“
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ১৯৯টি পর্যবেক্ষক সংস্থা আবেদন করলেও চূড়ান্তভাবে ১১৯টি সংস্থাকে পাঁচ বছরের জন্য নিবন্ধন দেওয়া হয়। এসব স্থানীয় সংস্থার মেয়াদ জুলাইয়ে শেষ হয়ে।
প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনযোগ্য পর্যবেক্ষক সংস্থার তালিকা
আগের যত পর্যবেক্ষক
>> নবম সংসদ নির্বাচনের আগে প্রথমবারের মত পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন চালু হয়। এক বছর করে মেয়াদ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা পাঁচ বছর করে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।
>> ২০০৮ সালে ১৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেয় তৎকালীন এটিএম শামসুল হুদা কমিশন। তখন নিবন্ধনের মেয়াদ ছিল এক বছর।
>> নবম সংসদ নির্বাচনে দেশি ৭৫টি প্রতিষ্ঠান ভোট পর্যবেক্ষণে ছিল।
>> ২০১১ সালে নিবন্ধন দেওয়া হয় ১২০টিকে। এগুলোর নিবন্ধনের মেয়াদ ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার পর কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ কমিশন তা আরও এক বছর বাড়ায়।
>> দশম সংসদে ভোট পর্যবেক্ষণে ছিল ৩৫টি প্রতিষ্ঠান।
>> ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আবেদন করে ১৯৯টি, কে এম নুরুল হুদা কমিশন নিবন্ধন দেয় ১১৯। মেয়াদ শেষ হয় পাঁচ বছর পর চলতি জুলাই মাসে।
>> তবে ওই সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে ৮১টি দেশি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।
>> দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন ২১০টি আবেদনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে বাছাই করেছে ৬৮টি।
এবার ভোট দেখতে চায় ২১০টি প্রতিষ্ঠান
ভোট পর্যবেক্ষক সংস্থা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে চায় ইসি