Published : 08 Jun 2026, 06:41 PM
ভারত থেকে যেভাবে লোকজনকে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে তা ‘একেবারে গ্রহণযোগ্য নয়’ মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, অবৈধ কেউ থেকে থাকলে তাদের ফেরাতে ‘কূটনৈতিক প্রক্রিয়া’ মানা উচিত দুদেশেরই।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেছেন, “যত রকম ডিপ্লোম্যাটিক নর্ম আছে, সেটা আমরা ফলো করছি। আমরা রেগুলারলি তাদেরকে যখনই পুশ ইনের ঘটনা আমাদের কানে আসছে বা আমরা দেখছি, রিপোর্টিং হচ্ছে, আমরা কিন্তু তাদেরকে চিঠি দিচ্ছি।
“আমরা আশা করব যে—ভারত সরকার, এটা তারা সিরিয়াসলি নেবে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ মেকানিজম এবং ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে আমাদের এই কাজটি তারা সমাধান করবে।”
অবৈধ হয়ে পড়া বা কারাবন্দিদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে কূটনৈতিক চ্যানেল মানার আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কন্নোয়নের স্বার্থেই তা মানা উচিত মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কোনোভাবেই এই পুশ ইনের মাধ্যমে যদি তারা করে, তাহলে অবশ্যই সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে না।
“এবং সেটা আমাদের ভারত এবং বাংলাদেশ সম্পর্ক, যেটা আমরা বলি যে—নতুন উচ্চতায় ওঠার চেষ্টা হচ্ছে এবং উনারাও একটা প্যারাডাইম শিফটের কথা বলেন; সে প্যারাডাইম শিফটটা যদি হতে হয়, তাহলে এই কাজগুলা যেই ডিপ্লোম্যাসি আছে, যে বিদ্যমান প্রক্রিয়া আছে, সে প্রক্রিয়াটাই আমাদের দুই দেশে অবলম্বন করা উচিত।”
পুশ ইন নিয়ে কয়েক দিন ধরেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে অনেককে ফেরত নিয়েছে বিএসএফ। এর মধ্যে শূন্যরেখায় আটকে থাকা লোকজন নিয়ে কিছু সময়ের জন্য মানবেতর পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রোববার বলেছেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে স্থাপিত আটক শিবির থেকেকে প্রায় চার হাজার ৮০০ জন ‘অবৈধ অভিবাসী’কে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও ৮৩৬ জন বর্তমানে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
লোকজনকে ঠেলে পাঠানোর প্রবণতাকে যে বাংলাদেশ ভালোভাবে নিচ্ছে না তা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, “পুশ ইনের কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি, যেটা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা বিজিবি, আমাদের বর্ডার গার্ড খুবই শক্তভাবে এটা রেজিস্ট করছে এবং কোনোভাবেই পুশ ইনকে আমরা অ্যালাও করছি না।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আর ভারতের মধ্যে একটি ব্যবস্থা আছে, একটা মেকানিজম আছে। এবং সব দেশের সাথে সেই মেকানিজমটা থাকে যে—যখন আমাদের কোনো নাগরিক ইলিগ্যালি কোনো দেশে যায়, নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই করে তাকে ফেরত আনার একটা প্রক্রিয়া আছে, একটা মেকানিজম আছে।
“যেটা বাংলাদেশও ফলো করে বাংলাদেশের জায়গা থেকে, ভারত ফলো করে ভারতের জায়গা থেকে। সেই মেকানিজমটা ফলো না করে যদি এই পুশ ইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাউকে ঠেলে দেওয়া হয়, সেটা কিন্তু একেবারে গ্রহণযোগ্য না।”
ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা ১২ থেকে ১৩টা চিঠি দিয়েছি দিল্লিতে; ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। এবং বিজিবি সজাগ আছে এবং কোনোভাবে এটা আমরা অ্যালাও করছি না।”
সম্প্রতি ভারতের চেন্নাই থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ৩৪ জনকে ফিরিয়ে আনার উদাহরণ টেনে শামা ওবায়েদ বলেন, “এ রকম বাংলাদেশে যদি ভারতীয় কোনো ইলিগ্যাল সিটিজেন থাকে বা ভারতে যদি বাংলাদেশের কোনো ইলিগ্যাল সিটিজেন থাকে, তাদেরকে ফেরত আনার বা আমাদের ভারতীয়দেরকে ফেরত দেওয়ার একটি মেকানিজম বিদ্যমান আছে।
“সেই বিদ্যমান মেকানিজমটা, ডিপ্লোম্যাসিটা অবলম্বন করেই ভারতকে আমাদের সাথে কাজ করতে হবে, কথা বলতে হবে। বাংলাদেশও সেটা করবে।”
এখন পর্যন্ত ভারত সরকারকে দেওয়া ১২-১৩টি চিঠির কোনোটিরই উত্তর না আসার কথাও বলেছেন শামা ওবায়েদ।
পুশ ইনের ঘটনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ‘পুনরুদ্ধার চেষ্টাকে’ ব্যাহত করতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এভরি ইভেন্ট, এভরি কেস ইজ ডিফ্রেন্ট। একটার সাথে আরেকটা জড়িত না।
“কিন্তু এই ঘটনাটা যদি বর্ডারে ঘটে, ভারতের সরকার যদি এটা সিরিয়াসলি নেয়, তাহলে আমাদের জন্য সম্পর্কটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ হবে।”
সম্প্রতি ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ হিসাবে অভিহিত করে মানুষজনকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে পাঠাচ্ছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। কোথাও কোথাও ঠেলে পাঠাতে পারলেও বিভিন্ন জায়গায় বিজিবির প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
ভারতে অবৈধ কোনো বাংলাদেশি থেকে থাকলে কূটনৈতিক চ্যানেলে তাদেরকে ফেরত পাঠানোর কথা বলে আসছে ঢাকা।
তবে দিল্লির অভিযোগ, ফেরত পাঠানোর ওই প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আড়াই হাজারের বেশি মানুষের তালিকা তারা বাংলাদেশকে দিয়েছে। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর হলেও বাংলাদেশ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেয়নি বলে সম্প্রতি দাবি করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল।
এ বিষয়ে গত সপ্তাহে শামা ওবায়েদ বলেছিলেন, “আমাদের কাছে কোনো তালিকার বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার জানা নেই। তবে যদি তালিকা থাকে নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেটা দেখছে।
“কিন্তু তালিকা থাকলে তো সেটা আমরা অবশ্যই যাচাই-বাছাই করব এবং সে তালিকা বিজিবির হাতেও থাকার কথা, তাই না? যেহেতু উনারা বর্ডারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন। সুতরাং, সে তালিকা যদি থেকে থাকে, তাহলে তালিকা উনারা যাচাই-বাছাই করবেন।”