Published : 21 Apr 2026, 07:09 PM
হত্যা মামলার পর এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ মামলায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানিয়েছেন।
গেল ৯ এপ্রিল মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহতের ঘটনায় নিউ মার্কেট থানার মামলায় পরের দিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। সোমবার তাকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
দুই দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে গেল বৃহস্পতিবার আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
তিন দফায় ১২ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার মাঞ্জিল হায়দারকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা-ডিবির রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটে মনিরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরপর মাঞ্জিল হায়দারকে রমনা মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন।
আবেদনে বলা হয়, মাঞ্জিল হায়দার ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং তার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর ঘনিষ্টজন। সে সুবাদে তাদের আলোচনা ও পরামর্শে সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি পেশাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‘দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ রেখেছেন বলে জানা যায়।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সে ধারাবাহিকতায় ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের পতনের পর তাদের নির্দেশনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সকল সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করার ষড়যন্ত্র করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অস্থিতিশীল’ করা ও সরকারের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ ও তার সংগঠনগুলোকে নিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে মাঞ্জিলের বিরুদ্ধে। এছাড়া প্রয়োজনীয় অর্থ ও কুমন্ত্রণা দেওয়ার অভিযোগ করার হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, মামলার পলাতক আসামিদের সাথে মাঞ্জিল হায়দারের যোগাযোগ অব্যাহত আছে বলে তদন্তকালে জানা যায়। আসামি ঢাকা শহরের যে সকল স্থানে ‘ষড়যন্ত্রমূলক সভা করেছেন’ তার সঠিক অবস্থান জানা দরকার।
তাছাড়া মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা জেনে তাদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে মাঞ্জিল হায়দারকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন বলে ডিবির আমজাদ হোসেন আবেদনে বলেছেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে প্রথমে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয়। আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়।
এরপর আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে হয় রিমান্ড শুনানি।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামির পক্ষে কামাল হোসেন রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন।
নিউ মার্কেট থানার এ মামলায় বাদী হন তার শ্যালক আব্দুর রব। এতে আসামি করা হয় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ এবং তার সকল সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের সদস্যরা গেল বছরের ১২ সেপ্টেম্বর রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে মিছিল করে। সে মিছিল থেকে তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পলানো চেষ্টা করে। কয়েকজনকে সেখান থেকে আটক করা হয়।
ওই ঘটনায় সে দিনই রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ।
পুরোনো খবর:
ডিজিএফআইয়ের মাঞ্জিল হায়দারের আরও ৩ দিনের রিমান্ড
হত্যা মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার রিমান্ডে