Published : 26 Jun 2026, 08:53 AM
চীনের বিপ্লবী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ‘মনুমেন্ট টু দ্য পিপলস হিরোস’-এ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল সোয়া ৯টায় এ স্থাপনায় পৌঁছান সরকারপ্রধান; তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকার পর তারেক রহমান ধীরপায়ে স্মৃতিস্তম্ভের দিকে এগিয়ে যান। পরে তিনি মঞ্চে উঠে গোলাপ ও পাইন পাতায় তৈরি লাল-সবুজ রঙের বিশেষ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। তাতে বাংলায় ও চীনা ভাষায় লেখা ছিল, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা।”
এসময় বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং ‘লাস্ট পোস্ট’ বিউগল বাজানো হয়।
পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর বাংলাদেশের সরকারপ্রধান কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে চীনের বিপ্লবী বীরদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

এদিন সকাল ১০টায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে বসছেন।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—গ্রেট হলে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান চাও ল্যচি’র সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং চীনের জাদুঘর পরিদর্শন। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করবেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ জুন মালয়েশিয়া যান। ওই সফরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে পরদিন সোমবার তিনি পৌঁছান চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তালিয়ানে।
সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে বুধবার বিকালে তারেক রহমানের বেইজিংয়ে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে তার ও চীনের প্রধানমন্ত্রীর লি ছিয়াংয়ের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। তাদের উপস্থিতিতে বিনিয়োগ, গণমাধ্যম সহযোগিতাসহ ১৩টি বিষয়ে সমঝোতা স্বারক সই করে দুই দেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে সেখানে ভোজসভার আয়োজন করেন লি ছিয়াং।
আর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী।