Published : 29 Sep 2024, 09:50 PM
জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের কল্যাণে এ রোগে আক্রান্তের হার আগের তুলনায় কমলেও ‘অসচেতনতা, ভৌগোলিক অবস্থান, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অনিয়ন্ত্রিত আচরণ ও ভ্রান্ত ধারণার’ কারণে দেশে জলাতঙ্কের ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
তিনি বলছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, কুসংস্কার দূরীকরণ ও মানুষের আচরণ পরিবর্তনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া খুবই জরুরি। সেইসঙ্গে পোষা ও বেওয়ারিশ কুকুর-বেড়ালকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে।
বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বন অধিদপ্তর ও ইউএসএইড ওয়ান হেলথ অ্যাক্টিভিটির যৌথ আয়োজনে এক সেমিনারে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়া। বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশও ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক রোগ শতভাগ নির্মূল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রাণী রক্ষায় আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “মানুষ বুদ্ধিমান প্রাণী, ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সভ্যতা নির্মাণকারী হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিনাশ মানুষের বেঁচে থাকার পরিবেশকেই ধ্বংস করে দিচ্ছে। মানবিক ও প্রাণবিক বিষয়গুলো আমরা এক করে ফেলছি। এক্ষেত্রে মানুষ আর প্রাণীর বিভাজন নয়, আসুন একটু মানবিক হই।”
‘জলাতঙ্ক নির্মূলে প্রয়োজন সব প্রতিবন্ধকতা নিরসন’ প্রতিপাদ্য ধারণ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এদিন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচির শুরুতে জলাতঙ্ক সচেতনতা বিষয়ক একটি শোভাযাত্রাও হয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ রেয়াজুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন ইউএসএইড ওয়ান হেলথ অ্যাক্টিভিটির অ্যানিমাল হেলথ টিম লিড পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ টি এম মোস্তফা কামাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) শেখ ছাইদুল হক এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন মো. বয়জার রহমান।