Published : 18 Jul 2026, 04:59 PM
আর্টেমিস-২ পৃথিবীতে ফিরে আসার পর...
স্বপ্ন ওড়াতে ওড়াতে মানুষ একদিন দখলে নেবেই
আকাশের চাঁদটাকে
চাঁদের মাটিতে ঠিক ঘরবাড়ি হবে
হবে শপিংমল, নান্দনিক রেস্তোরাঁও
হয়তো খেলার মাঠও হবে সুপরিসর
ততদিন বাঁচবো কি না কে জানে!
হয়তো বাঁচবো, পাখির মতো ডানা মেলে...
কিংবা মরে যাবো কোনো অবলা প্রাণীর মতো!
নাসার মনুষ্যবাহী যান আর্টেমিস-২
৫০ বছরেরও বেশি সময় পর
ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে
পহেলা এপ্রিল ২০২৬ তারিখ
যাত্রা শুরু করে চাঁদের উদ্দেশে
এ মিশনে অংশ নেন চার নভোচারী
নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ আর
কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন
চার নভোচারীকে চাঁদের কক্ষপথ ঘুরিয়ে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি
১০ দিন পর অর্থাৎ ১১ই এপ্রিল আর্টেমিস-২-এ ভর করে
যখন প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে নামে
তখন পৃথিবীর বহু কৌতূহলী মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়ে!
আচ্ছা, মাটির পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত?
গড়ে প্রায় ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার
উপবৃত্তাকার কক্ষপথে পৃথিবীকে নিরন্তর প্রদক্ষিণ করছে চাঁদ
আর্টেমিস-২ মূলত পর্যবেক্ষণ করেছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর টপোগ্রাফি
ভবিষ্য পরিকল্পনা : ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৩-এ চড়ে
মানুষ যাবে চাঁদে!
নিশ্চয়ই মানুষের এই অভিযান পৃথিবীকে দেবে নতুন অর্থ!
মানুষ যেহেতু ইচ্ছে করেছে চন্দ্রজয়ের
নিশ্চয়ই একদিন ঘোষিত হবে সেই জয়!
আচ্ছা, মানুষ যদি চাঁদ জয়ের স্বপ্নকে সত্যি করে তুলতে পারে
তাহলে আমি কেন পারবো না কারও হৃদয় জয় করতে?
কারণ আমিও তো একজন মানুষ!
মানুষ হয়ে তাই সেই একজন চাঁদের কাছেই ঠিক মেলে ধরবো
হৃদয়ের গলিঘুঁজি
এভাবেই পৃথিবীর অগণন মানুষ
খুঁজে পেয়েছে তার হৃদয়ের একান্ত চাঁদকে!
তাই আমিও চাই চাঁদের দীর্ঘ দূরত্বকে দূরে ঠেলে
রচনা করতে নিকটতম সম্পর্ক
যেখানে মিরপুর থেকে কমলাপুর
মিলে যাবে একবিন্দুতে!
আর বিন্দুতে প্রেমসিন্ধু আবিষ্কারের আনন্দে
আমি ও পৃথিবীর সকল প্রেমিক একসঙ্গে বসে
পান করবো শরাবান তহুরা
কারণ চাঁদ, পৃথিবী ও আমি তখন অবস্থান করবো একরেখায়!
যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি মানবিক পুষ্পার্ঘ্য
মানুষের হিংস্রতার কোনো শেষ নেই! কালে কালে মৃত্যুর নামতা পড়তে পড়তে রাতে ঘুমাতে গিয়েছে অনেক মানুষ। সকালে উঠেও বাগানের পুষ্প না তুলে ঘ্রাণের বিপক্ষে জমিয়েছে নর্দমার রাশি রাশি স্তূপ! পূতিগন্ধময় জীবনের গান গাইতে গাইতে সুন্দরের প্রতিকূলে হাজির করেছে বিবিধ প্রশ্ন! মানুষ এমন কেন? মানবস্বভাবে কে গেঁথে রেখেছে হননের এরকম দৃঢ় ভিত্তি-উন্মাদনা? কখনো কখনো মনে হয় মানুষের নিবন্ধন বহি থেকে মুছে ফেলি নিজনাম; কিংবা ঘরবাড়ি ছেড়ে বনের গভীরে গিয়ে গড়ে তুলি এক দৃশ্যগ্রাহ্য পশুর সমাজ! পশুরা কি অকারণ কোনো পশুশাবককে মেরে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে? এত এত হতাশার মধ্যেও আমি আবারও নদীর গল্পে ফিরতে চাই। অগণন নদী যেমন নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এসে সমুদ্রের কাছে মেলে ধরে পথ-পরিক্রমণের বহুবিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা, আমিও তেমনি পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে বিসর্জন দিয়ে প্রশান্ত মনে হাঁটতে চাই মহামানবের দূর সিন্ধুপারে! কারণ মানুষই পারে আগুনের দাউদাউ শিখায় লিখে দিতে প্রিয় পৃথিবীর নাম আর তার জন্যে রচনা করতে পারে স্পন্দমান মোহন বারতা; আমি শুধু সেদিনের অপেক্ষায় আজ নিজপায়ে সোৎসাহে উঠে দাঁড়ালাম। পৃথিবী, আমাকে আজ সানন্দে বরণ করে নাও তোমার গভীরে!
যুদ্ধ ও জন্মনিরোধক পিল
তবে কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগেই গেল? মৃত্যুমুখিন এই পৃথিবীই তবে শেষকথা? চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, বিকৃত লাশ, অনিঃশেষ রোদনধ্বনি, গণকবর-এ কোন তিমিরপুঞ্জে আছি? এই গহিন রাত্রি পাড়ি দিয়ে কখনও কি আমরা তিমিরারি সূর্যের কাছে পৌঁছাতে পারবো না? এক রক্তপিপাসু ভূমিখেকো ঢুকে পড়েছে হরিৎরঙা ডুমুর বাগানে; জলপাই বনে চাই তার নিরঙ্কুশ দখলস্বত্ব; গ্লাসভর্তি আঙুরের রস না হলে কী করে সকালের নাশতার টেবিল ভূখণ্ড দখলের শলাপরামর্শে মেতে উঠবে? তার চাই আরও বিপুলবিস্তৃত খেজুরবাগান--শরীরে বাড়তি বল পেতে তাজা খেজুরের কোনো বিকল্প নেই! নিতুই স্ট্রবেরি কমলার জুস না হলে কোথা পাবে হননের শক্তিমত্তা? তিনি ও তার প্রভু! যখন যা খুশি তা-ই করেন, এই পৃথ্বী ওদের করায়ত্ত যেন! তিনি বিশ্বপ্রভু, শাসকেরও শাসক! নিন্দামন্দ যে যা-ই করে করুক-কুছ পরোয়া নেই! গাজা থেকে আফগান, লেবানন থেকে তেহরান, কিউবা থেকে ভেনিজুয়েলা, বরফাচ্ছাদিত গ্রিনল্যান্ড-সবই তার চাই! তিনি সর্বগ্রাসী, সর্বভুক! কাল মহাকালজুড়ে তার রাক্ষুসে থাবা! দিগন্তপ্রসারী এই দখলি ক্ষুধার কাছে পৃথিবীর সবকিছু যেন নস্যি! ব্রেকফাস্টে তুলতুলে মানবশিশুর কাবাব না হলে তার মুখে খাবার রোচেই না! লাঞ্চের টেবিলে চাই সুন্দরী নারীর উরসিজ-রোস্ট! আর রাতের ডিনার? মানুষের মগজ ভুনা না হলে তো খাবার টেবিল এক পীড়িত বিরান মাঠ! এই রক্তপায়ীকে আপনি চেনেন? আপনারা?
পাদটীকা : হে সুধীজন, আপনারা আপাতত তৃতীয় বিশ্বের মানবসমাজের জন্মবৃত্তান্ত ভুলে যান। মাথায় রাখুন শুধু প্রথম বিশ্বের উগ্র শ্বেতাঙ্গ মনুষ্য-দানবের কথা। ওরা যেন অন্তত একশ বছর কোনো শিশু জন্ম দিতে না পারে সেজন্য ওদের সন্তান ধারণক্ষম নারীদের বাধ্য করুন পর্যাপ্ত জন্মনিরোধক পিল খেতে। আর সঙ্গমলোলুপ ঘাড়ত্যাড়া পুরুষদের ধরে ধরে ভ্যাসেকটমি করিয়ে দিন। হে জাতিসংঘ মহাসচিব, এই দায়িত্বটা এবার আপনিই কাঁধে নিন। তাহলে হয়তো অন্তত পরের দুয়েক শতাব্দী কাল পৃথিবীর নিরীহ মানুষজন যুদ্ধবিগ্রহহীন এক প্রশান্ত পৃথিবীতে নিজেদের আবিষ্কার করে কিছুটা আনন্দ পাবে!
জল, বৃক্ষ ও পরগাছা
দৃশ্যমান এক নদী
বুকভরা জল নিয়ে বয়ে যাচ্ছে সমুদ্রের পানে
অথচ পানিশূন্যতায় মরে যাচ্ছে কত কত ব্যক্তিগত বৃক্ষ
সেই কবে রোপণ করা চারাগুলো নিবিড় যত্নআত্তিতে
ক্রমশ ধারণ করেছে বৃক্ষরূপ;
বৃক্ষরাশির বেড়ে ওঠার এই হিসাব কেউ না রাখলেও
নিকট-অতীত ঠিকই রেখেছে। সময়ের দাগচিহ্ন
লেগে আছে এদের গায়ে;
কেউ কেউ আবার গাছের আড়ালে
শংসাবাক্যে নন্দিত করে পরগাছাদের!
তখন বৃক্ষ ও পরগাছার দূরত্ব আরও বেড়ে যায়!
নদীর তীরে দাঁড়িয়ে যে বা যারা
জলগর্ভ নদীর কুৎসা রটায়
ওরা হৃদয়ে প্রতিষ্ঠা করতে চায় একধরনের মাৎস্যন্যায়!
প্রীতিগন্ধময় স্মৃতির মিনার থেকে তখন চুইয়ে পড়ে
বিষাদের তেতো কিংবা অম্লরস...
নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে যারা যারা
জলের কাছে বৃক্ষের বিরুদ্ধে নালিশ করে
তাদের বিরুদ্ধে যাবো আমি প্রকৃতির আদালতে!
কারণ আমি এক বৃক্ষপ্রবণ মানুষ!