Published : 31 May 2020, 08:47 PM

নিলয় মুকুর
এলো অশোধিত আলোর দমক
বজ্র পেরুনো উদ্বেল নীড় জুড়ে
ব্যাকুল সাঁতারের ছোপ ছোপ ঝড়ো শেকড়।
আধফোটা স্নায়ু নিয়ে বিবশ প্রান্তর জুড়ে বয়ে যায় নিরল বাতাস,
ঝর্ণার ধারে এ ভূবন অগোছালো ছিল একদিন,
খড়খড়ে দেহের ওপর ঝরে গেল অগণন অচেতন তারার-সকাল।
রেখারা খুঁজে নিল অপলক চোখের বিহার–
স্পর্শের পরিধি ঘিরে দিল স্বর–
আঙুল ছড়ানোর নিশ্বাস এখানে,
অমিত আলোয় নত কেশর।
ত্বকের প্রভায় যে আড়াল করে তার পথ চাওয়াকে
সে বহু বছরের জলে নাওয়ানো মোতি এক–
তার না-বলায় বুক মিলিয়ে
টেনে নিই অবগাহনের শ্লোক,
নিবিষ্ট সাঁতারের অন্তরে বহমান ঘুর্নির উচ্ছাস
লুকায় নিজেকে এক দেহে এই সরোবর
অন্বেষার সীমায় বিলীনতার ঘর।
হাওয়া ও ঘাসের চোখ বিনিময়ে
প্রভা আড়াল করা হরিৎের মাঝে
বিরাজ করে ধুসর ঘরখানি।
বীজের নিমীলিত যাত্রার হৃদয়ে
শোভাময় আকুল আরতি জেগে রয়।
বিজন পুকুরে আলো কেঁপে বৃত্ত ছড়ায়
সে জলে ছায়া দোলে পাখির নিলয় মেলে দিয়ে
সমাহিত দুপুর ও রাতে।
ব্যত্যয় খড়িতে আঁচড় কাটে ঝিঁঝিঁ
তাতে রশ্মির দেহে ফোটে আঁধার
আর জন্ম নেয় আকাশব্যাপী শেকড়ের অনন্ত পরশ
আমাকে দিশা দেয় নির্জনের গহীনে থাকা পল্লব ধ্বনির সমাহার
তার আগ্রাসী ঘ্রাণ থেকে পড়ে জল,
সংঘর্ষ ও সঙ্গম––এ ধারা বিভেদ পেরিয়ে
সে ধ্বনি সূচিত করে
––বার্তা ও পান্থ পাথর।
প্রবল পারিজাত
উপত্যকা তার দেহরেখাকে আলাদা করতে চাইছে আঁধার থেকে এমন রাতে
জাগৃতি গেঁথে রাখে যে অঙ্গার তার দূরাগত শ্রুতি
বয়ে আনে বিলাস শিশির, সমুদ্র শ্বাস…
তেমন নির্যাস থেকে ফোটে প্রবল পারিজাত।
কোন ছায়া এ নিলয়ে বসে থাকে––
বাসনাহীন, তবু কাঙ্ক্ষা বাজিয়ে।
সুরের প্রাচীর থেকে পরিযায়ী পাখির হাড়ে ঘন হয় স্মৃতি
এসেছি সুবাসের কুল ছুঁয়ে
বিলোল স্রোতে নেয়ে।
কথা কেড়ে নিল যে বাগান,
আঙুরলতায় তার ছেয়েছে গম্বুজ
হিরণ্ময় ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে যেতে
দেখি অলখ বিতান লীলায়িত।