Published : 03 Aug 2025, 02:00 AM
আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০) আমাদের বাংলা কবিতায় এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাঁর লেখা গল্পসমূহ কাহিনি, বর্ণনা ও উপস্থাপনার স্বাতন্ত্র্যে আকর্ষণীয় ও ব্যতিক্রমী। প্রবন্ধ-গবেষণায় তিনি গভীর অনুসন্ধানী ও অতলস্পর্শী। আধুনিকতার সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে তাঁর কবিতা ও গল্প ভাবনাজাগানিয়া। ষাটের দশকে পরাবাস্তব কবিতা লিখে বেশ আলোচিত হন আবদুল মান্নান সৈয়দ। মাত্র ২৫ বছর বয়সে অর্থাৎ ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘সত্যের মতো বদমাশ’। বইটি প্রকাশের পরই তা সুধীজনের বিশেষ দৃষ্টি লাভ করে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, পরের বছর ২২শে নভেম্বর তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান সরকার অশ্লীলতার অভিযোগে বইটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সে-সময় আরও কিছু বই বাজেয়াপ্ত ও কারণ দর্শানো নোটিশের শিকার হয়েছিল। এসব গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে কামরুদ্দীন আহমদের ‘দি সোশ্যাল হিস্ট্রি অব ইস্ট পাকিস্তান’; ‘ত্রৈলোক্য চক্রবর্তীর ‘জেলে তিরিশ বছর’; ‘বদরুদ্দীন উমরের ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা ও সংস্কৃতির সংকট’ ও সত্যেন সেনের ‘আলবেরুনী’। এ নিষেধাজ্ঞার খাঁড়ায় গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছিলেন সমকালীন কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীরা। তাঁরা যুক্ত বিবৃতিতে এর নিন্দা জানিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন। বাদ যাননি তখনকার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদরাও। তাঁরাও সরকারের এরকম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। মওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবুর রহমানও এর প্রতিবাদ জানান। [তথ্যসূত্র : পাকিস্তান অবজারভার, ১৪ই জানুয়ারি ১৯৭০]
পরাবাস্তববাদী কবি হিসেবেই আবদুল মান্নান সৈয়দের সমধিক খ্যাতি। তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু ও ভঙ্গি, ভাষার সৌন্দর্য, গভীর প্রতীকী উচ্চারণ বিশেষ করে প্রেম, মৃত্যুবোধ, ইতিহাস ও ব্যক্তি-অনুভব মিলেমিশে এক অনন্য কাব্যভাষা সৃষ্টি করে। কবি যখন বলেন : ‘আমার ঘুমের মধ্যেও একটা গন্ধ হাঁটে,/রক্তের মতো লাল আর/চোখের মতো অন্ধ।’ (বর্ণ ও গন্ধের ধ্যান) তখন আমাদের চোখ-কান বেশ সজাগ হয়ে ওঠে, নাড়া পড়ে অস্তিত্ব-চেতনায়! ‘গন্ধ হাঁটে’, ‘চোখের মতো অন্ধ’ এরকম শব্দবন্ধ বাংলা কবিতায় প্রায় অভিনতুন। আবার কবি যখন ‘শবনমের প্রতি’ কবিতায় উচ্চারণ করেন : ‘তুমি একা নও, শবনম,/তোমার চারপাশে মৃত মাছের ছায়া।’ তখনও সচকিত হয়ে ওঠে আমাদের চৈতন্যের কাব্যভূমি। সময়, প্রকৃতি ও মৃত্যু নিয়ে তাঁর পরাবাস্তব ভাবনা একেবারেই অন্যরকম। ‘শীত পলাতক, তার হাড়ের ভেতর/শীতল বাতাস মরা শিশুর কান্না হয়ে বাজে।’ (পলাতক শীতের কবিতা) তখন আমরা অন্যরকম শীতকে উপলব্ধি করি। শীত এখানে নিছক ঋতু নয়--এক পালিয়ে যাওয়া অনুভব, যেন এক মানসিক ঋতুবদলে পরিণত হয়। আবার কবি যখন বলেন : ‘আমি যাকে দেখি, সে আমার নয়/আমি যাকে দেখি না, সে আমার ছায়া।’ (ছায়া ও মুখোশের কবিতা) তখন কবিতায় বাস্তবতা ও অবাস্তবতা, মুখ ও মুখোশ, নিজস্বতা ও পরিচয়ের দ্বান্দ্বিকতা স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে। মান্নান সৈয়দ আসলে এরকম প্রতীকী উচ্চারণেই নিজেকে মেলে ধরেন পাঠকের সামনে। তাঁর কবিতায় বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি স্বপ্নময় হেঁয়ালি তৈরি হয়, যা পাঠককে নিয়ে যায় এক স্বপ্নময় অধরা জগতে।
এবার স্মৃতিকথায় ফিরি। আবদুল মান্নান সৈয়দের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রায়ই তাঁর সঙ্গে দেখা হতো শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের বই বিপণিতে। সাক্ষাতেই হাসিমুখে কুশল বিনিময় করতেন। সম্বোধনে ‘আপনি’ বলতে তাঁর কোনো দ্বিধা ছিল না, বরং এক ধরনের সমীহ টের পেতাম। তাঁর এই প্রীতিময় আচরণে অনুভব করতাম এক ধরনের মুগ্ধতা। তাঁর সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হতো গুলিস্তান সিনেমা হলের মোড়েও। আমি সে-সময় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের ‘বই’ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতাম। এর নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন কথাসাহিত্যিক মঞ্জু সরকার। গুলিস্তানের গ্রন্থকেন্দ্র ভবনে প্রায়ই যাওয়া হতো। আর সে-কারণেই তাঁর সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হতো গুলিস্তানে। তিনি গুলিস্তান থেকে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে আসা-যাওয়া করতেন রিকশায়। মনে পড়ে, একবার তাঁর রিকশায় আমাকে তুলে নিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নামিয়ে দিয়ে গেলেন। আমি তখন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র। শুনেছি, কলেজের জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন তিনি। দুয়েকবার তাঁর আমন্ত্রণে গ্রীন রোডের দোতলা পৈতৃক বাড়িতেও ঢুঁ মেরেছি। সবখানেই দেখেছি তাঁর সহাস্য উজ্জ্বল মুখ ও আন্তরিকতার সবাক উপস্থিতি।
একবার, সম্ভবত ১৯৯৪ কি ১৯৯৫ সালের কথা। কবি সৈয়দ আলী আহসানের ধানমন্ডির বাসার নিচতলায় ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল রসূলকে নিবেদিত কবিতা পাঠের আসর। সৈয়দ আলী আহসানের আগ্রহে এই আসরের আয়োজক কবিবন্ধু ইশারফ হোসেন। ইশারফ তখন সৈয়দ আলী আহসান প্রতিষ্ঠিত দারুন ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক রিলেশন বিভাগের কর্মকর্তা। সুফিবাদী ঘরানার তরুণ। বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রকল্প থেকে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘লাল ফকিরের মাজার’। কবিতাপাগল ইশারফ। খুবই বন্ধুবৎসল। ফেসবুকের কল্যাণে জেনেছি, ইশারফ এখন মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং সুফিবাদ নিয়ে বিভিন্ন আয়োজনে বক্তৃতা করেন। শ্মশ্রুমণ্ডিত ও জোব্বা পরিহিত ইশারফকে এখন অন্যরকম লাগে। ইশারফের আমন্ত্রণেই কবিতা পাঠের আসরে উপস্থিত হই। অনুষ্ঠানে সৈয়দ আলী আহসান সভাপতি এবং প্রধান অতিথি ছিলেন আবদুল মান্নান সৈয়দ। আমিও রসূল (সা.)-কে নিয়ে লেখা ‘বিপন্ন মানবতা ও আপনার উপস্থিতি’ শিরোনামের একটি কবিতা পড়লাম। পরে ইশারফ হোসেন ‘রসূল (সা.)কে নিবেদিত কবিতা’ (১৯৯৫) শিরোনামে একটি কাব্য সংকলন সম্পাদনা করেছিলেন। এর দীর্ঘ ভূমিকা লিখেছিলেন কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ। প্রকাশক ছিলেন দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক একাডেমির পরিচালক সৈয়দ আলী নকী, যিনি সৈয়দ আলী আহসানের ভাই। ওই কবিতা পাঠের আসরে আলী আহসানের আরেক ভাই সৈয়দ আলী আশরাফও ছিলেন। মনে পড়ে, সেদিন সৈয়দ আলী আহসান ও আবদুল মান্নান সৈয়দ চমৎকার বক্তৃতা করেছিলেন। উপহার হিসেবে পেয়েছিলাম আলী আহসানের একটি কাব্যগ্রন্থ ও আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘সকল প্রশংসা তাঁর’ কাব্যগ্রন্থটি। কবিতাপাঠ শেষে সবাইকে একটি করে খাম দেওয়া হয়। খাম খুলে দেখি একটি চকচকে ১০০ টাকার নোট। তখন ১০০ টাকা সম্মানি হিসেবে খুব ভালো। আর স্ন্যাকস তো ছিলই।
২০০৭ সালের কথা। শিল্পী-বন্ধু নাজিব তারেক ও আমি বুঁদ হয়ে আছি পাক্ষিক টি-শার্ট কবিতা পত্রিকা ‘শ্লোক’ সম্পাদনা নিয়ে। নাজিব তারেক ও ফারহানা আফরোজ বাপ্পী শিল্পী-দম্পতির ফ্যাশন হাউস ‘বাঙ্গাল’ থেকে প্রতি পনেরো দিন অন্তর বের হতো ‘শ্লোক’। এই নিয়ে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে নির্দিষ্ট দিনে প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করা হতো। নানা বয়সি কবি-লেখকদের উপস্থিতিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠতো শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের তিনতলার বাঙ্গাল-এর সামনের প্যাসেজটি। নাজিব তারেক দুর্দান্ত অলংকরণে টিশার্টে কবিতাগুলো সাজাতেন। মনে আছে, একটি সংখ্যার ইলাস্ট্রেশন করেছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। এছাড়া শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য, ধ্রুব এষ, ত. ম. মেজলী ও সব্যসাচী হাজরার তুলিও শ্লোকের জমিনে রং ছড়িয়েছিল। বলতে দ্বিধা নেই, শ্লোক সম্পাদনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তখন আমি বিষয়টি বেশ উপভোগও করছিলাম। তারপর শ্লোকের পথ ধরে বাঙ্গাল থেকে বেরুতে শুরু করলো মাসিক ছড়াপত্রিকা ‘খাপছড়া’ও। এর সম্পাদনার দায়িত্ব নিলেন ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক আশরাফুল আলম পিনটু। একদিন শ্লোক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে পেয়ে গেলাম অগ্রজ কবি-গবেষক আবদুল মান্নান সৈয়দকে। যথারীতি আমন্ত্রিত কবি, শ্লোক সম্পাদক, প্রকাশক, অলংকরণ শিল্পীর সঙ্গে মান্নান ভাইকেও পরিয়ে দেওয়া হলো শ্লোকের টিশার্ট। তিনি এতে বেশ অভিভূত হলেন এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন। তারপর কবিতা নিয়ে আমাদের এই উদ্যোগের বিশেষ প্রশংসা করলেন। কবিতা নিয়েও বললেন কিছু কথা। অনুষ্ঠান চলাকালে তাঁর কাছেও কবিতা চাইলাম। তিনি বললেন : আমি খুব দ্রুত একটি কবিতা বাঙ্গাল-এ দিয়ে যাবো। অনুষ্ঠান ঘণ্টা দেড়েক চলার পর শেষ হলো। মান্নান ভাই বিদায় নিলেন।
হঠাৎ একদিন বাঙ্গাল-এ রক্ষিত বক্স খুলে দেখি মান্নান ভাইয়ের কবিতা ও একটি চিরকুট। কবিতাটি শ্লোকের পরের সংখ্যা অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর ২০০৭, ১ম বর্ষ, ১১তম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। ঐ সংখ্যায় আরও তিনটি কবিতা গ্রন্থিত হয়েছিল। কবিরা হলেন জফির সেতু, মাহবুব লীলেন ও আহমেদুর রশীদ। যথারীতি ঐ সংখ্যার দারুণ অলংকরণ করেছিলেন শিল্পী নাজিব তারেক। নির্ধারিত দিনে প্রকাশনা উৎসবে পারিবারিক জরুরি কাজে আটকে যাওয়ায় মান্নান ভাই সেদিন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। অবশ্য ফোনে সেটা জানিয়েছিলেন। মান্নান ভাইয়ের স্মৃতিতর্পণ করতে গিয়ে প্রাসঙ্গিক ভেবে তাঁর সেই কবিতা ‘অঘ্রানের নীল দিন’ এখানে তুলে দিলাম।
আবদুল মান্নান সৈয়দ
অঘ্রানের নীল দিন
যদি আজ না-লিখি কবিতা,
রাত্রি যাবে বৃথা।
--কেন?--আজ সে যে
ভোর-রাতে আমাকেই স্বপ্নে দেখেছে।
একটি মজলিশে যেন হালকা-গোলাপি পাঞ্জাবিতে
ঝলমল করছিলাম আমি। রবীন্দ্রসংগীতে
স্নাত হলো পরিবেশ। তারপরে
যেন কাছে এসে মৃদুস্বরে
‘ভাল আছ?’ আমাকে শুধাল।
হঠাৎ চারদিক হয়ে উঠল আলোয়-আলো।
কত কালো দিন ঝোড়ো রাত্রি পার হয়ে বন্দরে জাহাজ ভিড়েছে।
অঘ্রানের নীল দিন উঠছে বেজে বেজে।
এত কাছে তুমি অজ্ঞাতে এসেছ চলে, সোনা?
পথে পথে ঘুরব আজ একা একা। কিছুতেই ঘরে থাকব না।
বলতে দ্বিধা নেই, এটি এক দারুণ প্রেমের কবিতা। যদ্দুর মনে পড়ছে, পরে টিশার্টটি মান্নান ভাইকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তিনি ফোনে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। কবিতার সঙ্গে সেদিন তিনি যে চিরকুটটি রেখে গিয়েছিলেন তাতেও কবিতার প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ধরা পড়েছিল। প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় চিরকুটটিও নিচে তুলে দিলাম।
মতিন, প্রিয়বরেষু
বেরোতে হচ্ছে একটা কাজে। একটি কবিতা রেখে গেলাম। ইচ্ছা করলে শুধু প্রথমাংশও ব্যবহার করতে পারেন। ‘অন্যদিন পত্রিকার বর্তমান সংখ্যায় কয়েকটি কবিতা ছাপা হয়েছে। নাজিব তারেকের অলংকরণে। ওখান থেকেও কোনো কবিতা বা কবিতাংশ/বা অন্য কোনো কবিতাও ব্যবহার করতে পারেন। কবিতা-মুদ্রিত টি-শার্টটি পেলে খুশি হবো।
শুভেচ্ছান্তে
আ.মা. সৈ.
২১/১১/২০০৭
৩রা আগস্ট এই কালজয়ী কবির জন্মদিন। বেঁচে থাকলে এ বছর তাঁর ৮২ বছর পূর্ণ হতো। ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর ক্ষণজন্মা এই কবি লোকান্তরিত হন। জন্মদিনের প্রাক্কালে তাঁকে খুব মনে পড়ছে। কবিতার কতিপয় পংক্তি আর টুকরো টুকরো কিছু স্মৃতিসূত্রে তাঁকে আজ পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।