Published : 13 May 2026, 09:18 PM
রাস্কিন বন্ড একজন ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ভারতীয় লেখক এবং সমকালীন সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব। শিশুতোষ সাহিত্যিক হিসেবে তিনি অসংখ্য অনুপ্রেরণামূলক বই লিখেছেন এবং সাহিত্যে তাঁর অবদানের জন্য সাহিত্য অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডেও ভূষিত হয়েছেন। তিনি ১৯৩৪ সালের ১৯ মে ভারতের কসৌলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা অব্রে এলেক্সান্ডার বন্ড এবং মা এডিথ ক্লার্ক। বর্তমানে তিনি ভারতের মিসৌরির ল্যান্ডউরে নিজের দত্তক পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর চাইল্ড এডুকেশন শিশু সাহিত্য বিকাশে তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে। The Room on the Roof, The Blue Umbrella, A Flight of Pigeons, Rusty the Boy from the Hills ও A Handful of Nuts—এসব বই সাহিত্যজগতে তাঁকে বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে। রাস্কিন বন্ডকে তাঁর অবদানের জন্য পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণও দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: লেখালেখিতে আপনার আগ্রহ কিভাবে শুরু হয়েছিল?
উত্তর: ছোট থেকেই আমি বইপোকা ছিলাম। সবসময় নিজের প্রিয় লেখকদের বই পড়তাম। তাই স্কুল শেষ করতে না করতেই, আমি নিজেও লেখক হতে চেয়েছিলাম।
প্রশ্ন: আপনার কাছে বর্তমান বাস্তবতার চেয়ে কি অতীতের স্মৃতি বেশি অনুপ্রেরণামূলক?
উত্তর: অতীত নিয়ে লিখতে আমি পছন্দ করি, তবে বর্তমানও শেষ পর্যন্ত অতীত দ্বারাই গঠিত। তাই দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন লেখালেখি জীবনের কঠিন বাস্তবতা থেকে পালানোর একটা উপায়?
উত্তর: না, একদম ই না। আমার জন্য, লেখালেখিই এক ধরনের কঠিন বাস্তবতা। যদিও লেখালেখি থেকে আমি সেরকম অর্থ উপার্জন করিনি।
প্রশ্ন: আপনি নিজেকে কিভাবে বর্ণনা করবেন?
উত্তর: আমি গোলাকার, মোটা, মিশুক এবং নিজের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
প্রশ্ন: ভারতের সাহিত্যজগত গত কয়েক বছরে কি বদলেছে?
উত্তর: হ্যাঁ, অনেকটাই বদলেছে। বিশেষত, বিভিন্ন সাহিত্যিক আয়োজন এই পরিবর্তনের একটা আংশিক কারণ। এখন অনেক তরুণ লেখক হতে চায় এবং তারা ভালো লিখছে। এবং আগের চেয়ে এখন লেখক অনেক বেশি। সেইসাথে প্রকাশনা সংস্থাও বাড়ছে। যদিও প্রকাশনা সংস্থা বাড়ছে, কোনো কারণে বিক্রয় কমেছে। যদিও এসব ক্ষেত্রে বিরোধও রয়েছে।
প্রশ্ন: ভারতে বই সেন্সরশিপ সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
উত্তর: অনেক বছর ধরে, ভারতে খুব বেশি বই সেন্সর করা হয়নি। রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা অন্যান্য বহু কারণে কিছু বই সেন্সর করা হয়, যাতে তা কোনো অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, স্ট্যানলি উলপার্টের Nine Hours to Rama যেখানে গান্ধীকে হত্যার আগে ও পরে গোডসের জীবন তুলে ধরা হয়। বইটি চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছিল, কিন্তু কখনো মুক্তি পায়নি। বইটিকেও ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়। পরে আমি বইটির একটি কপি হাতে পেলাম এবং বইটিকে আমার ক্ষতিকর কিছু মনে হয়নি। তবে বইটি এখনো তেমন সহজলভ্য নয়, অনলাইনে অর্ডার করলে সহজে পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: ‘The Room on the Roof’-এ আপনি বন্ধুত্বের গুরুত্ব দেখিয়েছেন। বইটি লেখার অনুপ্রেরণা কিভাবে পেলেন?
উত্তর: মাত্র ১৭ বছর বয়সে আমি ‘The Room on the Roof’ লিখেছিলাম এবং এটি প্রকাশিত হতেও কয়েক বছর সময় লেগেছিল। যদিও সে সময়েও আমি একজন পূর্ণকালীন লেখক হতে চেয়েছিলাম কিন্তু কী ই বা লিখতাম? জীবনের অভিজ্ঞতা তো বেশি ছিল না— মাত্র ১৫-১৬ বছরের। তাই আমি নিজের জীবন নিয়েই লিখেছিলাম, তবে সেইসাথে কিছুটা কল্পনাও মিশিয়ে দিয়েছিলাম। ইংল্যান্ডে যাবার পর ভারতের জন্য যখন আমার মন কেমন করছিল, তখন আমি একটি ডায়েরি লেখা শুরু করি। যখনই কিছু লিখতে চাইতাম, ডায়েরিটাতে লিখে রাখতাম যা পরবর্তীতে আমার প্রথম উপন্যাসের মূল উৎস হয়ে দাঁড়ায়। আমি অনেক প্রকাশককে গল্পটি দেখিয়েছিলাম, তিন-চারজন প্রত্যাখ্যান করলেও শেষে এক সহানুভূতিশীল প্রকাশক বইটি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি তখনও বইটি প্রকাশিত হওয়ার আগে দুই-তিনটি খসড়া আমাকে লিখতে হয়েছিল। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আমি আমার প্রথম উপন্যাসেই সবচেয়ে বেশি শ্রম দিয়েছি।
প্রশ্ন: আপনার প্রিয় কবিতা ও গল্প নিয়ে কিছু বলুন।
উত্তর: ওয়াল্টার ডি লা মেয়ারের কবিতা আমার ভীষণ প্রিয়। ‘Fare Well’ নামের একটি কবিতা আছে যেখানে বলা হয়— ‘‘Look thy last on all things lovely/ Every hour. Let no night/ Seal thy sense in deathly slumber/ Till to delight / Thou have paid my utmost blessing.” যার সোজাসাপ্টা অর্থ দাঁড়ায়, চারপাশে যা কিছু তোমার চোখে পড়ে, তা দেখ, উপভোগ করো। হতে পারে, এই তোমার শেষ দেখা।
আমার প্রিয় গল্প হলো জোসেফ কনরাডের ‘Typhoon’। এটি খুব রোমাঞ্চকর একটি গল্প। গল্পটি সমুদ্রের ঝড় নিয়ে— ঝড়ের মধ্যে একটি জাহাজ সিঙ্গাপুর থেকে হংকং যাচ্ছিল। জাহাজটি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কিন্তু এসব বাধা-বিপত্তির পরেও ক্যাপ্টেন নিজের গন্তব্যে পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছালেও তিনি এর জন্য কোনো পুরস্কার বা স্বীকৃতি পাননি। কিন্তু ক্যাপ্টেন পুরষ্কার নিয়ে মাথা ঘামায় নি এবং নিজের কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন। কনরাডের বড় লেখাগুলো আমার পছন্দ না, তবে তার ছোটগল্পগুলো দারুণ।
প্রশ্ন: কিছু মানুষ নিজেদের ঈশ্বর কিংবা ঈশ্বরতুল্য বলে দাবি করে—এ নিয়ে আপনার মতামত কী?
উত্তর: যখন তুমি কিছু সৃষ্টি করো, তুমি ঈশ্বর নও। তুমি নিজেকে ঈশ্বর সদৃশ মনে করতে পারো, কিন্তু ঈশ্বর হতে পারো না। মানুষ কখনোই ঈশ্বর হতে পারে না।
প্রশ্ন: ‘জুনুন’ (১৯৭৮) চলচ্চিত্রে নির্মাণশৈলীর পাশাপাশি ভাষাও মূল বইয়ের ভাষা থেকে ভিন্ন ছিল। আপনি কি মনে করেন, এতে গল্পের মূলভাব প্রভাবিত হয়েছে?
উত্তর: ‘A Flight Of Pigeons’ ইংরেজিতে লেখা, কিন্তু সিনেমায় কথকের ভাষা হিন্দি ও কিছুটা উর্দু। আমি যতটা সম্ভব সহজভাবে লিখি, যাতে পাঠক সহজে উপভোগ করতে পারে। গল্পটির প্রেক্ষাপট কয়েক দশক আগের হলেও আমি সেটিকে অতিরিক্ত দূরবর্তী বা কেতাবি রূপ দিতে চাইনি। তবে বলিউডে যেহেতু চলচ্চিত্র হিন্দি ভাষায় নির্মিত হয়, তাই গল্পটিকেও হিন্দিতে রূপ দিতে হয়েছে।
প্রশ্ন: সাধারণভাবে মনে করা হয়, কোনো লেখকের বই থেকে চলচ্চিত্র তৈরি হলে তিনি বড় ধরনের স্বীকৃতি পান। আপনি কি মনে করেন, আজকের দিনে সিনেমা একজন লেখকের সৃষ্টিশীল কাজকে স্বীকৃতি দেয়?
উত্তর: সবকিছুই আসলে চলচ্চিত্রের উপর নির্ভর করে। বই অবলম্বনে কিছু অসাধারণ সিনেমা যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি কিছু খুব খারাপ সিনেমাও হয়েছে। তবে আমার নিজের বইয়ের ক্ষেত্রে বললে, A Flight of Pigeons আমার সবচেয়ে সফল বইগুলোর একটি নয়। যদিও বইটি পেঙ্গুইন থেকে প্রকাশিত হয়েছে, গত ২৫ বছরে মাত্র প্রায় ১০০০ কপি বিক্রি হয়েছে। অপরদিকে আমার কিছু শিশুতোষ বই লক্ষাধিক কপি বিক্রি হয়েছে। তাই একটি বই থেকে সিনেমা তৈরি হলেই যে সেটি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠবে, এমন নয়। A Flight of Pigeons আমার ভালো কাজগুলোর একটি হওয়া স্বত্তেও তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত।
প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয়, আপনার আরও কিছু বই থেকে সিনেমা তৈরি হতে পারত, কিন্তু হয়নি?
উত্তর: আমার দুই-তিনটি বই নিয়ে বেশ সফলভাবে সিনেমা হয়েছে, যেমন The Blue Umbrella, 7 Khoon Maaf ইত্যাদি। তবে অনেকে জানেই না যে আমার আরোও দুটি গল্প নিয়ে সিনেমা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু সেগুলো এতটাই খারাপ ছিল যে কোনো ডিস্ট্রিবিউটরই সেগুলো নিতে চায়নি। এর মধ্যে একটি সিনেমার নাম ছিল The Last Tiger যেখানে একটি সার্কাসের বাঘকে অভিনয়ের জন্য নেওয়া হয়েছিল। বাঘটি এতটাই পোষা ছিল যে, যখনই তার ক্ষুধা লাগত, সে দৌড়ে আবার নিজের খাঁচায় ফিরে যেত। ফলে তাকে দিয়ে ঠিকমতো অভিনয় করানো সম্ভব হয়নি।
প্রশ্ন: ‘The Eyes Have It’ গল্পে যে মেয়েটির কথা বলেছেন, আপনি কি সত্যিই তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল! আসলে, আমি যেসব মেয়েদের নিয়ে লিখি, তাদের সবার সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে। তবে দুঃখের বিষয়, তাদের বেশিরভাগকেই আমি হারিয়েছি।
প্রশ্ন: আপনার Susanna’s Seven Husbands বইটি আপনার সাধারণ লেখার ধরন থেকে একেবারেই আলাদা। এটি লেখার অনুপ্রেরণা কী ছিল?
উত্তর: সুজান্না চরিত্রটি বাস্তব এক মহিলার থেকে অনুপ্রাণিত, যিনি চিনসুরার কাছে বাস করতেন। তিনি ছিলেন খুব ধনী এবং শোনা যায় তিনি সাতবার বিয়ে করেছিলেন। যারা তাকে বিয়ে করেছিল, তাদের বেশিরভাগই ছিল ধন-সম্পদের লোভে আসা মানুষ। বলা হয়, তিনি নানা কৌশলে তাদের সরিয়ে দিতেন। যেমন, স্বামীর বিছানায় কোবরা সাপ ছেড়ে দেওয়া ইত্যাদি! তিনি যেন ‘ব্লুবিয়ার্ড’-এর নারী সংস্করণ। সাতজন ভয়ংকর স্বামীর হাত থেকে তিনি নিজেকে মুক্ত করেছিলেন। যদিও 7 Khoon Maaf চলচ্চিত্রে গল্পটি অনেকটাই পরিবর্তন করা হয়েছে এবং বইয়ের সঙ্গে সিনেমার খুব একটা মিল ছিল না।
প্রশ্ন: পিকাসোর একটি বিখ্যাত উক্তি আছে—“It takes long time to grow young.” আপনি এই উক্তিটির একটি উদাহরণ। এই বয়সে আপনি নিজেকে কীভাবে এত প্রাণবন্ত ও আনন্দিত রাখেন?
উত্তর: আমার মনে হয়, এটা মানুষের স্বভাবের উপর নির্ভর করে। আপনি যেমন স্বভাব নিয়ে জন্মান, তা বয়স বাড়লেও থেকে যায়। তবে আমি মনে করি, আমার কিশোর বয়সের চেয়ে আমি এখন অনেক বেশি আশাবাদী ও আনন্দিত। আমার বিশ ও ত্রিশের দশকে আমি নিজেকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতাম। কিন্তু এখন আমি উপলব্ধি করি, জীবন অনেক সময় খুবই অদ্ভুত হতে পারে। আমরা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত দার্শনিক হয়ে যাই এবং নিজেকে খুব গুরুত্ব দিতে শুরু করি। যখন আমি বিশের কোঠায় ছিলাম, সবাই বলত আমি বয়সের তুলনায় ‘বেশি বয়স্ক’। আর এখন তারা বলে, আমি নাকি বয়সের তুলনায় ‘খুবই তরুণ’!
প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন যে ই-বুকের যুগে বই হাতে নিয়ে পড়ার আনন্দ কিছুটা কমে গেছে?
উত্তর: বইয়ের বিক্রি কমছে না, বরং বিক্রির ধরন বদলাচ্ছে। এখন অনেকেই অনলাইনে বই কিনছে, যার ফলে কিছু বইয়ের দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমি বলব না যে পাঠক কম। আসলে, বই পড়া বিষয়টি সবসময়ই সংখ্যালঘুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আমি যখন স্কুলে পড়তাম, তখন ৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩ জন বই পড়ত। তখন তো টেলিভিশন বা ইন্টারনেটও ছিল না, তবুও মানুষ পড়তে চাইত না। কিন্তু এখন যেহেতু শিক্ষিত তরুণের সংখ্যা অনেক বেড়েছে, তাই সংখ্যার বিচারে পাঠকের সেই ‘ছোট অংশ’ টাও এখন সংখ্যায় অনেক বড়। এর ফলে প্রকাশকরাও এখন বেশি বই প্রকাশ করছে এবং বিক্রি করছে, কারণ বইয়ের বাজারও বড় হয়েছে।
প্রশ্ন: একজন উৎকৃষ্ট লেখক হয়ে উঠতে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর: একটা সৃজনশীল মন থাকার পাশাপাশি, একজন ভালো লেখক হওয়ার জন্য ভাষার উপর ভালো দখল থাকাটা প্রাথমিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভাষা হলো পাঠকের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম। তুমি যে ভাষাতেই লেখো, হোক তা হিন্দি, ইংরেজি কিংবা বাংলা—সেই ভাষায় দক্ষতা থাকা জরুরি। ভাষার উপর ভালো দখল হয়ে গেলে তুমি সহজেই শব্দ নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবে, শব্দ নিয়ে খেলতে পারবে এবং সুন্দর বাক্য গঠন করতে পারবে। এমনকি গল্পের জন্য একটি পরিবেশও তৈরি করতে পারবে। তাই গল্পের আবহ তৈরি করতে ভাষার উপর দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: নতুন লেখকদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
উত্তর: আমি তাদের উপদেশ দেওয়ার মতো অবস্থানে নেই। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তো আমার চেয়েও বেশি টাকা উপার্জন করছে!