Published : 04 Apr 2026, 02:52 AM
গত ২৭শে মার্চ, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কুইন্সের জ্যামাইকা'তে জ্যামাইকা সেন্টার ফর আর্টস এন্ড লার্নিং (JCAL) এ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল "বিশ্ব নাট্য দিবস" উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য নাট্য আয়োজন। প্রতি বছরের মত এবারেও এই অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিল নিউইয়র্কের প্রখ্যাত নাট্যদল 'ঢাকা ড্রামা'। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন প্রবীণ অভিনেত্রী রেখা আহমেদ, জ্যেষ্ঠ অভিনেতা ও নির্দেশক মুজিব বিন হক, কন্ঠযোদ্ধা ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় এবং ঢাকা ড্রামা দলের কর্মীবৃন্দ।
রেখা আহমেদ উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন - দর্শক না থাকলে নাটক হয় না। আপনাদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মুজিব বিন হক বলেন- যুদ্ধরত মানুষের কথা বলার জন্য এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে জানান দেবার জন্য নাটকের বিকল্প নেই।
রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন - নাটক শুধু বিনোদন নয়। নাটকের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করা যায়।

ঢাকা ড্রামা দলের উপদেষ্টা ডাঃ প্রতাপ চন্দ্র দাস শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন - কর্মী হিসেবে ঢাকা ড্রামা দলে বিগত বছরগুলোতে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।
বিশ্ব নাট্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আইটিআই সভাপতি উইলেম ডেফোর শুভেচ্ছা বাণী পাঠ করা হয়।
এরপরে নাটকের গান পরিবেশন করেন কৃষ্টি'র সদস্যবৃন্দ। ডঃ জীবন বিশ্বাস সঙ্গীত পরিবেশন শুরুতে প্রয়াত জামালউদ্দিন হোসেন এবং এস, এম, সোলায়মানকে স্মরণ করেন। সঙ্গীত পরিবেশন শেষে কৃষ্টির প্রধান সীতেশ ধরের হাতে ঢাকা ড্রামার পক্ষ থেকে স্মারক তুলে দেন ডাঃ প্রতাপ চন্দ্র দাস।
বিশ্ব নাট্য দিবস ও নিউইয়র্কে বাংলা নাট্যচর্চা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গার্গী মুখার্জী বলেন - শায়ক মিশা চৌধুরী তার রচিত "পাবলিক অবসিনিটিজ" নাটকটি নিয়ে পুলিৎজার পুরস্কার এর ফাইনালিস্ট হয়েছিল। কমিউনিটি থিয়েটার করে সে ওই পর্যন্ত যেতে পেরেছিল যা আমাদের সকলকে আরও এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করে, অনুপ্রাণিত করে।

শাহাদুজ্জামানের গল্প "উড্ডীন" কে নাট্যায়ন করেছেন হীরা চৌধুরী। মঞ্চ-পরিকল্পনা ও নির্দেশনায়ও তিনি ছিলেন। সু-অভিনেতা হীরা চৌধুরী তার শক্তিশালী অভিনয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুর নির্ধারণ করে দেন। দর্শক পিনপতন নীরবতা নিয়ে নাটকটি উপভোগ করেছেন।
নিউইয়র্কে বাংলা নাট্যচর্চা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শামসুল আলম বকুল বলেন- থিয়েটার সব সময় বহন করবে শান্তির থীম। পাশাপাশি আরও বলেন-
যদি পাঁচ বছরে একটাও ভাল ও সঠিক থিয়েটার করা যায় তাহলে সেই থিয়েটার'টাই করুন। থিয়েটারের নামে অন্য কিছু নয়।
এরপর শিরিন বকুলের নির্দেশনায় "নতুন বৌঠান" নাটকটি পরিবেশন করে শিল্পাঙ্গন। নাটকটি রচনা করেছেন সৌমিত্র বসু এবং অভিনয়ে ছিলেন নজরুল ইসলাম ও শিরিন বকুল ।
নিউইয়র্কে বাংলা নাটকের চর্চা নিয়ে খাইরুল ইসলাম পাখী বলেন - নাটক করা বড় বেশী শক্ত। প্রবাসে নাটক করা অনেক বড় বেশী শক্ত। যারা এই বড় বেশী শক্ত কাজটি করে যাচ্ছেন তাদের প্রতি সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানানো টা খুব কম হয়ে যায়।
"রাক্ষস খোক্ষস" নাটকের অংশ বিশেষের পরিবেশনা নিয়ে আসে এক্সাইল কালেক্টিভ। মূল নাটকের নাম- ড্রাগন এবং নাট্যকার- ইয়েভগেনী শোওয়ার্টস। এস,এম, সোলায়মান রূপান্তরিত নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন আনিকা মাহিন এবং অভিনয়ে ছিলেন রোকেয়া রফিক বেবী ও মিতালী দাস।

লেখক আহমাদ মাযহার বলেন- থিয়েটার অভিনেতা এবং দর্শকের সম্পর্কই মঞ্চকে জীবন্ত করে। তাই দর্শকেরও দায়িত্ব আছে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে নীরব থাকা, ফোন বন্ধ রাখা বা রিংগার মিউট করে রাখা এবং অযথা নড়াচড়া না করা। ভালো থিয়েটার পেতে হলে কমিউনিটির দর্শকদের প্রস্তুত হয়ে হলে আসা জরুরী।
এরপর 'অন ডায়লগ' এবং 'থিয়েটার থিয়েটার' পরিবেশন করে মিথুন আহমেদ রচিত নাটক "অর্ধনারীশ্বর'। নাটকটিতে একক অভিনয় করেছেন তাহমিনা মোস্তফা এবং নির্দেশনায় ছিলেন শামসুল আলম বকুল।
সবশেষ পরিবেশনা নিয়ে আসে আয়োজক দল 'ঢাকা ড্রামা'। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রক্তকরবী নাটকের অংশ বিশেষ " মনে পড়ে, বিশু নন্দিনী" শিরোনামে মঞ্চে নিয়ে আসেন গার্গী মুখোপাধ্যায় এবং গোলাম সারওয়ার হারুন। অভিনয়ে ও গানে দর্শকদের মুগ্ধ করে তারা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন প্রতিমা রায় সুমি এবং আলোক পরিকল্পনা ও প্রক্ষেপণে ছিলেন বাবর খাদেমী। দর্শকপূর্ণ মিলনায়তনে কোন প্রকার বিলম্ব বা বিঘ্ন ব্যতিরেকেই অনুষ্ঠানটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে এবং নাট্যামোদী সকল দর্শক ও কর্মী একটি সুন্দর সন্ধ্যা উপভোগের সন্তুষ্টি নিয়ে বাড়ি ফেরেন।