Published : 27 Jan 2026, 06:24 PM
সারা দেশে জামায়াতের ইসলামীর নারী কর্মীরা খুব ‘সক্রিয়’, তা বুঝতে পেরে প্রধান প্রতিপক্ষ তাদের আক্রমণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
এতে সারা দেশে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াত ইসলামীর এক সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ তাহের এসব কথা বলেন।
সারা দেশে জামায়াতের ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ এর নারী কর্মীদের নির্বাচনি কাজে বাধা প্রদান, সহিংস হামলার অভিযোগ এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
জামায়াত বলেছে, এসব হামলা ও হেনস্থার ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ৩১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী সমাবেশ করবে তারা।
দলের নায়েবে আমির বলেন, “নির্বাচন খুব নিকটে এবং এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মহিলারা খুবই ‘অ্যাকটিভ’। আমাদের মহিলারা স্ব স্ব এলাকায় বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। তারা যেমন ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তেমনিভাবে পুরুষ কর্মী-সমর্থকরাও ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।
“আমাদের ‘অ্যাসেসমেন্ট’ হল-সারাদেশের নারী ভোটারগণ জামায়াতকে বেশি ভোট দেবেন। কারণ মহিলারা শান্তিপ্রিয় এবং তারা বিশৃঙ্খলা ও উগ্রতাকে পছন্দ করেন না।”
এসময় আব্দুল্লাহ তাহের নির্বাচনি প্রচারে তাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আমরা লক্ষ্য করছি, দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচন কর্মকাণ্ডে যুক্ত নারীরা, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নারীকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে হামলা, মারধর, অপমান, ভয়ভীতি ও সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন।
“এটি নারীর নিরাপত্তা নিয়ে সৃষ্ট একটি গভীর জাতীয় উদ্বেগের বিষয়।”
এ সময় জামায়াতের নেতা তাহের যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইলের গোপালপুর, লালমনিরহাট, ভোলায় লালমোহনের রামগঞ্জ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন জায়গায় দলের নারী কর্মীরা হামলা, হেনস্থা, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে বলে দাবি করেন। এ সব ঘ্টনার জন্য বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন যুবদলকে দায়ী করেন তিনি।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের তরফে দলের নায়েবে আমির তাহের কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে-
>> নারীদের ওপর সংঘটিত সব হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা।
>> দোষীদের দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
>> নির্বাচনি কর্মসূচিতে নারীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
>> নারীর বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও উসকানিমূলক প্রচারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
>> নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে নারীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজকে দলনিরপেক্ষভাবে নারীর পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আব্দুল্লাহ তাহের বলেন, “আমাদের কথা স্পষ্ট, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সবাইকে চেষ্টা চালাতে হবে এবং সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তার মতে, এবারের নির্বাচনেও যদি বিগত তিন নির্বাচনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে সে নির্বাচন কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না।
“এ দেশের মানুষ সে নির্বাচন মেনে নেবে না। কেউ যদি অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার কথা চিন্তা করে, তাহলে তা তাদের জন্য দুঃস্বপ্ন হবে এবং জনগণ পুনরায় তাদের প্রতিরোধ করবে।”
জামায়াতের সাবেক এই এমপি বলেন, “আন্দোলন-সংগ্রাম করেই আবার তাদের পতন ঘটাতে হবে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ থেকে দেশকে রক্ষার প্রধান দায়িত্ব সরকারের। কারণ তারা জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।