Published : 16 Jun 2023, 03:01 PM
জতিগত দাঙ্গা কবলিত ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে কেন্দ্রীয় সরকারের এক মন্ত্রীর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে উচ্ছৃঙ্খল জনতা।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলে কারফিউয়ের মধ্যেই ভারতের মোদী সরকারের প্রতিমন্ত্রী রাজকুমার রাজন সিংয়ের বাড়িতে চড়াও হয় হাজারেরও বেশি মানুষ।
রাজ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় মন্ত্রী রাজন সিং নগরীর কোংবা এলাকার ওই বাড়িতে ছিলেন না। তবে বাড়িটিতে তখন মন্ত্রীর নিরাপত্তা দলের নয় সদস্য, পাঁচ নিরাপত্তা রক্ষী ও অতিরিক্ত আরও আটজন রক্ষী ছিলেন।
মন্ত্রীর নিরাপত্তা দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, হামলার সময় উত্তেজিত জনতা চারদিক থেকে বাড়িটি লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা ছুড়ে মারে।
প্রায় ১২০০ মানুষ বাড়িটিতে হামলা চালিয়েছে এবং হামলাকারীদের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় তারা তাদের বাধ দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা দলের কমান্ডার দিনেশ্বর সিং।
মণিপুরের উত্তেজিত জনতা এই নিয়ে মন্ত্রী রাজন সিংয়ের বাড়িতে দ্বিতীয়বারের মতো হামলা চালালো। গত মাসে প্রথম হামলার সময় বাড়িটিতে থাকা নিরাপত্তা সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেছিলেন।
মণিপুরের ৩৬ লাখ জনগোষ্ঠীর ৫৩ শতাংশই মেইতেই জাতিগোষ্ঠীর সদস্য, যারা মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বী বা হিন্দু সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত। এদের অধিকাংশেরই বসবাস ইম্ফল উপত্যকায়। রাজ্যটির বাকি ৪৭ শতাংশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কুকি ও নাগারা প্রধান, তারা পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
১৯৪৯ সালে মণিপুরের শাসক ভারতের যুক্তরাজ্য ব্যবস্থায় যোগ দেওয়ার পর থেকে রাজ্যটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। কিন্তু গত মাসে শুরু হওয়া জাতিগত দাঙ্গা ও সহিংস পরিস্থিতি গত কয়েক বছরের মধ্যে সেখানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
মূলত বিভিন্ন আইনি অধিকার নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেইদের সঙ্গে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের সহিংসতা ও দাঙ্গা চলছে। মন্ত্রী রাজন সিং এই দাঙ্গা থামাতে দুইপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
জাতিগত দাঙ্গার কারণে ভারতের পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এ রাজ্যটিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ পর্যন্ত অনেকগুলো দাঙ্গার ঘটনায় এরইমধ্যে সেখানে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।
আরও পড়ুন: