Published : 19 Jul 2026, 10:10 PM
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার একটি সড়ক সংস্কারের ক্ষেত্রে খোয়ার পরিবর্তে ‘রাবিশ’ ব্যবহারের অভিযোগ পেয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার দুপুরে কাজ পরিদর্শনে গিয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন এ নির্দেশ দেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, পৌরসভার মজুপুর মাওলানা রেহান উদ্দিন সড়ক এবং চৌধুরী বাড়ি কানেক্টিং সড়কের সংস্কার কাজ চলছে। প্রায় সাত কোটি ৩৪ লাখ টাকার কাজটি পেয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমএস মোস্তফা অ্যান্ড সন্স। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। কাজটি করাচ্ছেন ফিরোজ আলম নামে এক ঠিকাদার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেহান উদ্দিন সড়কের পাশে ড্রেন হচ্ছে। কিন্তু চৌধুরী বাড়ি সড়কে ড্রেন হচ্ছে না। সড়ক সংস্কারের চেয়ে ড্রেন সবচেয়ে বেশি জরুরি। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ ড্রেন করে দিচ্ছে না। সড়কটি নির্মাণ শেষে দুই পাশের বাসিন্দারা জলবদ্ধতায় পড়বেন এমনটাই তাদের আশঙ্কা।
তাদের অভিযোগ, সড়কটি ১২ ফুট প্রশস্ত হওয়ার কথা থাকলেও কোথাও কোথাও ৯-১০ ফুটে নেমে গেছে।
এ ছাড়া সড়কের সাব-বেইজে খোয়া একবারেই কম, বালুর পরিমাণ বেশি। সড়কটির পাশেই পৌর আইন অমান্য করে অনেকেই বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন। তারাও রাস্তার জন্য নিরাপত্তা দেয়াল ভাঙছেন না, জমিও দিচ্ছেন না। আর এ কারণে সড়ক প্রশস্ত হচ্ছে না।
এ ছাড়া রেহান উদ্দিন সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে, তাতেও ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সড়কের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা লোকমান ও মমিনসহ কয়েকজনের অভিযোগ, সড়কে দুই পাশ থেকে মাটি টেনে এনে খোয়ার সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। পুরো সড়কে খোয়ার চেয়ে রাবিশ বেশি। শুরু থেকেই পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো তদারকি ছিল না। এজন্যই ঠিকাদার অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার ফিরোজ আলম বলেন, “সাব-বেইজ আগে করেছি। সেখানে খোয়ার পরিমাণ কী তা আমার জানা নেই। কাজে কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না।
“মানুষের বাসাবাড়ি বা দেওয়াল ভাঙা আমাদের কাজ নয়। সড়ক চওড়া করার জন্য জনগণকে বলেন, দেয়াল ভেঙে দিতে, আমি শ্রমিক দেব।”

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন বলেন, “কাজ নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ওঠেছে। মৌখিকভাবে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও ঠিকাদার কথা শোনেননি। ঘটনাস্থল গিয়ে কাজে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে।
“ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। নিম্নমানের খোয়া অপসারণ এবং নির্ধারিত মান অনুযায়ী উপকরণ ব্যবহার করে পুনরায় কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”