ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’: মুম্বাই বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, উদ্বেগ
ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ ১৯০ কিলোমিটার গতির ঝড়ো হাওয়ার শক্তি নিয়ে ধেয়ে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান উপকূলের দিকে।
আরব সাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ দ্রুত শক্তি বাড়িয়ে পরিণত হয়েছে মারাত্মক প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে। এর প্রভাবে ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে মুম্বাই বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা।
রোববার সন্ধ্যায় ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে ভারি বৃষ্টির পাশাপাশি তীব্র ঝড়ো হওয়া বয়ে যায়। এতে মুম্বাই বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব হয়, বাধ্য হয়ে কয়েকটির অবতরণ বাতিল করতে হয়।
এ দিন রাতে টুইটারে দেওয়া এক বিবৃতিতে এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, আবহওয়ার কারণে ও রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় মুম্বাই থেকে পরিচালিত তাদের কিছু ফ্লাইটে বিলম্ব ঘটতে পারে বা সেগুলোর যাত্রা বাতিল হতে পারে।
যাত্রীদের অভিযোগের মুখে দেশটির আরেকটি এয়ারলাইন ইন্ডিগো এক টুইটে বলে, “ফ্লাইট বিলম্বের যন্ত্রণা আমাদের জন্য সমান কষ্টকর।”
মহারাষ্ট্র রাজ্যের উপকূলীয় জেলাগুলোর জন্য ‘বজ্রঝড়’ এর সতর্কতা জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, রাজ্যটির রত্নাগিরি, রাইগাদ, থানে, পালঘর ও কোলহাপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টিসহ বজ্রঝড় বয়ে যেতে পারে। বাইরে বের হওয়া আগে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে তারা।
১৯০ কিলোমিটার গতির ঝড়ো হাওয়ার শক্তি নিয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ ধেয়ে যাচ্ছে ভারত-পাকিস্তান উপকূলের দিকে। এটি বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) দুপুর নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আকারে গুজরাটের মান্দভি এবং পাকিস্তানের করাচির মাঝামাঝি ভারতের সৌরাষ্ট্র ও কুচ এলাকা দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৩ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত গুজরাটের কুচ, জামনগর, মোরবি, গির সোমনাথ, পোরবন্দর ও দেবভূমি দ্বারকা জেলা ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে; এ সময় এই এলাকাগুলোর ওপর দিয়ে ভারি বৃষ্টিসহ প্রবল ঝড় বয়ে যেতে পারে।
ভারতের গুজরাট, কেরালা, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র ও লাক্ষাদ্বীপের জেলেদের এ সময় সাগরে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করেছে আবহাওয়া দপ্তর। পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলোকেও সতর্ক থাকতে বলেছে তারা।
পাকিস্তান সরকারও তাদের সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলেছে।
আরব সাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপ গত ৬ জুন ঘূর্ণিঝড়ের রূপ পেলে তখন এর নাম হয় বিপর্যয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার নামের ক্রম অনুযায়ী তখন এর নাম হয় ‘বিপর্যয়’। এ নামটি বাংলাদেশের দেওয়া।
আরও পড়ুন:
