Published : 20 Dec 2023, 09:04 AM
ক্যাপিটল দাঙ্গার জেরে কলোরাডোর সর্বোচ্চ আদালত আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হিসেবে ডনাল্ড ট্রাম্পকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে। ফলে তিনি ওই রাজ্যে প্রাইমারি ভোটে অংশ নিতে পারবেন না।
কলোরাডোর সুপ্রিম কোর্টের সাত সদস্যের বিচারক বেঞ্চ মঙ্গলবার ৪-৩ এ রায় দেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ রায়ের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পই প্রথম প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যিনি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য ঘোষিত হলেন। তবে কী ট্রাম্পের আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন শেষ হতে চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বিরল ব্যবহৃত একটি বিধানে বলা আছে, কোনো কর্মকর্তা যদি ‘বিপ্লব বা বিদ্রোহে’ জড়িয়ে পড়েন তবে তাকে পদে থাকতে দেওয়া হবে না। ওই বিধানের ভিত্তিতেই ট্রাম্পকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছে আদালত।
যদিও এই রায় শুধু মাত্র আগামী বছরের ৫ মার্চ কলোরাডোতে হতে চলা রিপাবলিকান প্রাইমারিতে কার্যকর হবে। তবে এটা নিশ্চিত যে, তা অবশ্যই ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ট্রাম্পের ইমেজের উপর প্রভাব ফেলবে।
ট্রাম্প কিন্তু এখনই হাল ছেড়ে দেননি। বরং জোর গলায় এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার কথা জানিয়েছেন। কলোরাডো সুপ্রিম কোর্টও ট্রাম্পকে আপিল করার সময় দিয়েছেন।
কলোরাডো সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ট্রাম্পকে আপিল করার সুযোগ দিতে মঙ্গলবারের রায় কার্যকর হওয়া অন্তত আগামী ৪ জানুয়ারি, ২০২৪ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হবে।
এর অর্থ, ট্রাম্পের ভাগ্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের হাতে। সাবেক এ প্রেসিডেন্ট আরো একবার দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য কিনা তার সিদ্ধান্ত নেবেন সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারপতি। যাদের মধ্যে তিন জনের নিয়োগ দিয়েছেন খোদ ট্রাম্প। সেখানে ৬-৩ এ রক্ষণশীলরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
কলোরাডোতে নতুন ইতিহাস:
মঙ্গলবার ট্রাম্পকে অযোগ্য ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দেশটির সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর ধারা-৩ প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে এই রায় অন্য কোনো রাজ্যের জন্য প্রযোজ্য নয়।
কলোরাডোর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, "আমরা হালকাভাবে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। আমরা আমাদের সামনে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর মাত্রা ও গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন।
“একইভাবে আমরা আইন প্রয়োগের বিষয়ে আমাদের উপর অর্পিত গৌরবপূর্ণ দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন। কোনো ধরনের ভয় বা অনুগ্রহ ছাড়াই আইন অনুসারে আমরা যেসব সিদ্ধান্ত নেই তার প্রতি জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া দ্বারা আমরা প্রভাবিত নই।”
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় কলোরাডোর একটি নিম্ম আদালতের রায়ের বিপরীত।
নিম্ন আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর ধারা-৩ কোনো প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, সেই ধারায় কারা অপরাধী বলে গণ্য হবেন তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে ওই আদালতে এটা প্রামাণিত হয়েছিল যে, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় ট্রাম্পের উসকানি ছিল।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতির প্রক্রিয়া চলার সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালান। সেদিন সেখানে পুলিশসহ পাঁচজন নিহত হয়।
ওই ঘটনার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের আরো কয়েকটি রাজ্যে আদালতে ট্রাম্পকে আগামী নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার জন্য আবেদন জমা পড়ে। তবে অন্য কোথাও এখনো ট্রাম্পকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি।
কলোরাডো সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে বর্ণনা করেছে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবির।
ব্যক্তিজীবন, ব্যবসা এবং রাজনীতি, তিন ক্ষেত্রেই নানা কাণ্ডের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দারুণ সমালোচিত হচ্ছেন ট্রাম্প। আদালতেও তার আসা-যাওয়া চলছে।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম সাবেক কোনো প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছে।
তবে এত কিছুর পরও তিনিই ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য রিপাবলিকান প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে সবার থেকে এগিয়ে। শুধু তাই নয়, তিনি জনমত জরিপে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চেয়েও এগিয়ে বলে ডিসেম্বরে প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন
জনমত জরিপে বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে ট্রাম্প
ট্রাম্প-বাইডেন দ্বিতীয় নির্বাচনি দৌড় হবে হাড্ডাহাড্ডি: জরিপ
ক্যাপিটলে সহিংসতা: ছবি ভাইরাল হয়ে যাওয়া ২ ট্রাম্প সমর্থক গ্রেপ্তার