Published : 22 Nov 2023, 02:50 PM
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরাকে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দুই ধাপে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে।
ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে বহু হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই অঞ্চলের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে চলতি সপ্তাহের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলার জবাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এক বছর আগে ইরানের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া মিলিশিয়া বাহিনীগুলোর রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হন মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানী। তাকে সমর্থন দেওয়া ওই বাহিনীগুলো এখন তার ক্ষমতাসীন জোটে একটি শক্তিশালী ব্লক গঠন করেছে। এদের ওপর প্রধানমন্ত্রী সুদানীর নিয়ন্ত্রণ সীমিত।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরাকের দু’টি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তারা।
“যুক্তরাষ্ট্র ও এর নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরান ও ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়া ছিল এই আক্রমণগুলো,” বিবৃতিতে বলেছে তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, আল আনবার প্রদেশের কাছে ও বাগদাদের দক্ষিণে জুর্ফ আল সাকরে কাতায়েব হিজবুল্লাহর একটি অভিযান কেন্দ্র এবং একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল ঘাঁটি বিমান হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে তারা।
ইরাকের কাতায়েব হিজবুল্লাহ মিলিশিয়া একটি শক্তিশালী সামরিক গোষ্ঠী। তারা ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলগুলোতে কাতায়েব হিজবুল্লাহর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, তবে কতোজন হতাহত হয়েছে তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এর প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে মার্কিন বাহিনী বাগদাদের পশ্চিমে একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। আর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি এসি-১৩০ বিমান ‘আত্মরক্ষার্থে’ পাল্টা হামলা চালিয়েছিল। এসব হামলায় ইরান সমর্থিত বাহিনীগুলোর বহু যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আল আনবার প্রদেশের আইন আল আসাদ বিমান ঘাঁটিতে খুব কাছ থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় আট মার্কিন সেনা আহত হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোর কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়।
সম্প্রতি ইরাক ও প্রতিবেশী সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীগুলোর অবস্থানের ওপর ৬৬টি হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের মিত্র ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো অধিকাংশ হামলার দায় স্বীকার করেছে। কিন্তু সিরিয়ার কয়েকবার পাল্টা হামলা চালানো ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব হামলার প্রতিক্রিয়া জানানো থেকে বিরত থেকেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় অন্তত ৬২ জন মার্কিন সেনা ছোটখাটো আঘাত পেয়েছেন অথবা ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
ইরাকে ২৫০০ ও সিরিয়ায় ৯০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থান ঠেকানোর জন্য স্থানীয় বাহিনীগুলোকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি মিশনের অংশ হিসেবে তারা সেখানে রয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে।
আরও পড়ুন:
পুরানো খবর:
লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় দুই সাংবাদিকসহ নিহত ৪