Published : 17 Mar 2024, 08:22 PM
রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি গত মাসে মৃত্যুর আগে রুশ নাগরিকদেরকে ভোটের শেষ দিন মধ্যদুপুরে পুতিনবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার সেই ইচ্ছা পূরণে রোববার দুপুরে রাশিয়াজুড়ে ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিক্ষোভে নেমেছে হাজার হাজার রুশ নাগরিক।
এই বিক্ষোভকে বলা হচ্ছে, ‘নুন এগেইন্সট পুতিন’। পুতিনবিরোধী রুশ নাগরিকরা এদিন দুুপুর ১২ টার দিকে স্থানীয় ভোট কেন্দ্রগুলোতে জড়ো হয়েছে। তারা হয় ব্যালট পেপার নষ্ট করেছে, নয়ত পুতিন ছাড়া নির্বাচনে দাঁড়ানো অন্য তিন প্রার্থীর একজনকে ভোট দিয়েছে।
রাজধানী মস্কো,সেন্ট পিটার্সবার্গ, ইয়েকাটেরিনবার্গসহ বড় বড় প্রধান শহরগুলোতে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রগুলোর বাইরে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করেছে। অনেকেই গতমাসে কারাগারে মারা যাওয়া বিরোধীদলীয় নেতা নাভালনির নাম ব্যালট পেপারে লিখে সেটি নষ্ট করে ফেলার অঙ্গীকার করে।
অস্ট্রেলিয়া, জাপান থেকে আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান ও জর্জিয়া পর্যন্ত রাশিয়ান কূটনৈতিক মিশনের ভোট কেন্দ্রগুলোতেও শত শত রুশ নাগরিক লাইনে দাঁড়ায়।
ওদিকে, রাশিয়াজুড়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে মধ্যদুপুরে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে লোকজনের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের দৃশ্যর ভিডিও নাভালনির মিত্ররা ইউটিউবে প্রচার করেছে।
নাভালনি মৃত্যুর আগে তার আইনজীবীদের সহায়তায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ‘নুন এগেইন্সট পুতিন’ বিক্ষোভ পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিলেন। সংবাদপত্র ‘নোভায়া গাজেটা’ এ বিক্ষোভকে নাভালনির ‘রাজনৈতিক শেষ ইচ্ছা’ বলে অভিহিত করেছে।
ভোটকেন্দ্রে বিক্ষোভে নামা এক তরুণী বলেন, “আশা নেই বললেই চলে। তারপরও আপনি যদি এমন কিছু করতে চান তাহলে করা উচিত। গণতন্ত্র বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
আরেকটি ভোটকেন্দ্র আরেক তরুণী বলেন, তিনি পুতিনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থীর একজনকে ভোট দিয়েছেন। অনেক ভোটারই আবার তাদের নষ্ট করা ব্যালট পেপারের ছবি পোস্ট করেছে। তাতে তারা স্লোগান লেখে, ‘নাভালনি আমার প্রেসিডেন্ট’, ‘যুদ্ধ নয়’, ‘পুতিন নয়’, ‘পুতিন একজন খুনি’।
রাশিয়ায় ভোট গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে রোববার তিনদিন পর্যন্ত চলেছে। ভোটের শেষ দিনের পুতিনবিরোধী বিক্ষোভে ঠিক কত মানুষ উপস্থিত হয়েছিল তা ধারণা করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
কারাগারে আলেক্সি নাভালনির রহস্যমৃত্যু নিয়ে সমালোচনার ঝড় এবং ইউক্রেইন যুদ্ধে রুশ সেনা নিহতের তালিকা দীর্ঘ হওয়া নিয়ে দেশের ভেতরে দানা বাঁধতে থাকা ক্ষোভের মধ্যেও নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পুতিনের জয় একরকম নিশ্চিত। কারণ, নির্বাচনে পুতিনের কোনও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। পুতিন জয়ী হলে আরও ছয় বছরের জন্য সুসংহত হবে তার ক্ষমতা।
টানা দু’বারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য ২০২১ সালেই আইন পরিবর্তন করেছিলেন পুতিন।এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন পুতিন।