Published : 29 Apr 2023, 08:31 PM
লড়াই বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আর কোনো ধরণের আলোচনায় বসতে চান না বলে স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন সুদানের আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালো।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনদিনের যুদ্ধবিরতি যে কয়দিন বাড়ানো হয়েছে তার পুরোটা সময়ে তাদের যোদ্ধাদের উপর ‘বিরতিহীন ভাবে’ বোমা বর্ষণ চলেছে।
বলেন, ‘‘আমরা সুদানকে ধ্বংস করে ফেলতে চাই না।”
সুদানের চলমান সহিংসতার জন্য তিনি দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন।
এদিকে, জেনারেল বুরহান অস্থায়ীভাবে প্রতিবেশী দেশ সাউথ সুদানে আলোচনায় বসতে রাজি আছেন বলে জানায় বিবিসি।
গত ১৫ এপ্রিলে সুদানে সশস্ত্র বাহিনী এসএএফ ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ এর মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ।
এ লড়াইয়ে রাজধানী খার্তুম ও আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে হাসপাতাল ও অন্যান্য পরিষেবা।
এমন পরিস্থিতিতে মানবিক ত্রাণ কাজ সহজ করতে দুপক্ষ ৭২ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতিতে রাজি হয়। সুদানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
সুদানে যুদ্ধবিরতির সময় বাড়লেও লড়াই চলছে
তার আগেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘসহ সুদানের প্রতিবেশী দেশগুলোর কূটনৈতিক চেষ্টায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৭২ ঘণ্টা বাড়ানো হয়। সন্ধ্যায় প্রথমে সুদানের সেনাবাহিনী এবং তার কয়েক ঘণ্টা পর প্রতিপক্ষ আরএসএফও যুদ্ধবিরতি নবায়নে রাজি হয়।
আগের যুদ্ধবিরতিতে হাজারো মানুষ সুদান থেকে নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এ সময় বেশ কিছু দেশ নিজেদের নাগরিকদেরকেও সুদান থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
কিন্তু যুদ্ধবিরতির সময় বাড়লেও রাজধানী খার্তুমে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই চলেছে।
শনিবারও খার্তুমের কিছু অংশে বিমান, ট্যাঙ্ক ও কামান হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে যেকোন ধরণের বিস্তৃত আলোচনার সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না।
ফোনে বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় জেনারেল দাগালো বলেন, তিনি আলোচনায় বসতে রাজি আছেন। কিন্তু শর্ত ছিল যুদ্ধবিরতি বহাল থাকতে হবে।
‘‘আগে শত্রুতা বন্ধ করুন। তারপর আমরা আলোচনায় বসতে পারি।”
জেনারেল বুরহানের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই বলেও মন্তব্য করেন আরএসএফ প্রধান। কিন্তু তিনি বুরহানকে বিশ্বাসঘাতক বলে বর্ণনা করে বলেন, তিনি সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের অনুগতদের সরকারে আনছেন।
২০২৯ সালে গণআন্দোলন শুরু হলে সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ মিলে বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।
প্রায় তিন দশক ধরে সুদানকে শাসন করা বশির তার ইসলামপন্থি মতাদর্শ এবং কঠোর শরিয়া আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করেছেন।
জেনারেল দাগালো বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন জেনারেল বুরহান কট্টর ইসলামপন্থি নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন।”