১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

কনট প্লেসে ককরোচদের বিক্ষোভে সবুজ সংকেত দিল দিল্লি হাই কোর্ট

দিল্লি হাইকোর্ট কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে ডাকা ‘তেরঙা ওড়াও’ বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে।

কনট প্লেসে ককরোচদের বিক্ষোভে সবুজ সংকেত দিল দিল্লি হাই কোর্ট

দিল্লি হািইকোর্ট এবং ককরোচ পার্টি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। ছবি: পিটিআই

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Oct 2026, 11:04 PM

Updated : 15 Oct 2026, 11:07 PM

ভারতের রাজধানী দিল্লির হাই কোর্ট ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাদের এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সবুজ সংকেত দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিল্লি হাই কোর্ট কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে ডাকা ‘তেরঙা ওড়াও’ বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে।

পূর্বনির্ধারিত এই বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে শুক্রবার। সে অনুযায়ীই কর্মসূচি পালন করবে সিজেপি।

তবে আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন বাসুদেও সামব্রে এবং বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার বেঞ্চ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিল্লি পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। আদালত পুলিশের দেওয়া এই আশ্বাস নথিভুক্ত করেছে যে, সমাবেশ সামাল দিতে তারা আইন অনুযায়ী সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এর আগে কনট প্লেসে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির আগে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র উপর চাপ বাড়িয়েছিল দিল্লি পুলিশ। তাদের বার্তা ছিল, কনট প্লেসের মতো একটি অত্যন্ত ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এ ধরনের অননুমোদিত জমায়েতের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির বিরুদ্ধে নির্দেশ জারির আর্জি জানানো হলেও তা খারিজ করেছে দিল্লি হাই কোর্ট।

ওদিকে, কনট প্লেসের একজন হকার এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন দাখিল করেছিলেন। আবেদনকারীর আশঙ্কা ছিল যে, উৎসবের মৌসুমে মধ্য দিল্লিতে এই ধরনের বিক্ষোভ ব্যবসায়ীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আবেদনকারীর আইনজীবী যুক্তি দেন যে, রাজনৈতিক বিক্ষোভের জন্য সেন্ট্রাল পার্ক উপযুক্ত জায়গা নয়। তিনি কনট প্লেসে বিধিনিষেধের ফলে ব্যবসার ওপর যে প্রভাব পড়তে পারে, তা তুলে ধরেন। আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন যে, বিক্ষোভটি পড়েছে দশেরার সপ্তাহান্তে। তার দাবি, এই সময়ে ওই এলাকায় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড অনেক বেড়ে যাওয়ার কথা।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন ওই হকার। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতে উপস্থিত হয়ে জানান, সিজেপি’র কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন যে, গত ১৫ দিনে দিল্লির রাস্তা থেকে অনেক পড়ুয়া ও তরুণকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বিরোধী দলের যে নেতারা তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদেরও আটক করা হয়েছে। তিনি এই দমন-পীড়নের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্ক টেনে এনে অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘রক্ষা’ করার চেষ্টা করছেন।

দীপকে আরও উল্লেখ করেন, সিজেপি-র সদস্য সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সপ্তাহের শুরুতে যন্তর মন্তরে তারা প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে, কারণ সিজেপি-র ১০ অক্টোবরের মূল আহ্বানের পর ওই স্থানটিকে আর প্রতিবাদস্থল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছিল না।

সৌরভ ও আশুতোষ গ্রেপ্তার হওয়ার প্রতিবাদেই ককরোচ পার্টি প্রধান অভিজীত দিপকে ‘তেরঙা ওড়াও’ অভিযানে দেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।